গেটকিপার নিয়োগ

রেলের শম্বুকগতি!

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০১৯      

বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করে ৫১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে- এ হিসাব রেলপথ মন্ত্রণালয়ের। তারা আরও জানাচ্ছে, এখন যেসব উন্নয়ন প্রকল্প চলমান, সেগুলোর বাস্তবায়ন করার জন্য প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। বর্তমানে রেলওয়ের বার্ষিক ব্যয় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা; যদিও আয়ের পরিমাণ এর মাত্র তিনভাগের এক ভাগের মতো। বাংলাদেশ রেলওয়ে বড় ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে। যমুনায় নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুতে সড়কের পাশাপাশি রেলপথ রয়েছে। পদ্মায় যে সেতু তৈরি হচ্ছে, তাতে শুরু থেকেই রয়েছে রেলপথের ব্যবস্থা। এ সেতুর বদৌলতে বরিশাল অঞ্চলে প্রথমবারের মতো স্থাপিত হতে চলছে রেলপথ। বাংলাদেশ রেলওয়ে আঞ্চলিক রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মহাপরিকল্পনা নিয়েও অগ্রসর হচ্ছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ের জন্য অপরিহার্য কর্মী নিয়োগের কাজটি কেন বছরের পর বছর ঝুলে থাকবে, সেটা আমাদের বোধগম্য নয়।

শুক্রবার সমকালে 'অবশেষে গেটকিপার পাচ্ছে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং- পরীক্ষার ৬ বছর পর স্থায়ী পদে নিয়োগ পেলেন ২৬৩ জন' শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে এ নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু মামলা জটিলতার কারণে সে উদ্যোগ আটকা পড়ে। আমরা জানি, সড়ক-রেলপথ ক্রসিংকে মরণফাঁদ বলা হয়। এ ক্রসিংয়ের ওপর দিনরাত নজর রাখতে হয়। তবে এ জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণের খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না। বেতনও নামমাত্র। নিষ্ঠা-আন্তরিকতাই কর্মীদের সম্পদ। এ ধরনের পদে নিয়োগ প্রদানের কাজ বছরের পর বছর কেন ঝুলে থাকবে? এত বড় প্রতিষ্ঠান যারা পরিচালনা করেন, তারা মামলা হলে তা কীভাবে দ্রুত মোকাবেলা করা যায়, তার উপায় নিশ্চয়ই জানেন। রেলগাড়ি যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সে জন্য সব গেটকিপারের পদে লোক থাকতেই হয়। এমন পদ বছরের পর বছর শূন্য থাকে কী করে?