খাদ্যে ভেজাল

মান সংস্থার অভিমান!

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯      

সপ্তাহ দুয়েক আগে এই সম্পাদকীয় কলামেই আমরা সুপারিশ করেছিলাম যে, খাদ্যে ভেজাল রোধে রাষ্ট্রায়ত্ত মান সংস্থার আরও সক্রিয় হওয়া জরুরি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন) বরং উল্টো ভূমিকা গ্রহণ করেছে। নিজে সক্রিয় তো হয়নি, বেসরকারি একটি সংস্থা যখন দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত করেছে, তখন সেই পরীক্ষার ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলছে! আমরা জানি, ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি (এনএফএসএল) নবীন হলেও দেশে-বিদেশে ইতিমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও সহযোগিতায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও) প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। মঙ্গলবার হাইকোর্টে বিএসটিআইর পক্ষে সংস্থার পরীক্ষার ফল নিয়ে প্রশ্ন তোলা সেই লেজকাটা শিয়ালের ভূমিকার মতোই। নিজে লেজ হারিয়ে এখন অন্যদেরও লেজ কেটে ফেলতে চায়। বিএসটিআই নিজে নিষ্ফ্ক্রিয় বসে থাকে; অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান যখন সক্রিয় হয়েছে, তাতে তাদের 'সম্মানহানি' হয়েছে! এমনতর পরিস্থিতিকে আমরা কৌতুক করে মান সংস্থার অভিমান হিসেবে আখ্যা দিতেই পারি। কিন্তু বিষয়টি নিছক কৌতুকের নয়। এর মধ্য দিয়ে একটি সংস্থার মৌলিক সংকটই স্পষ্ট হয়েছে। উচ্চ আদালত যথার্থই বলেছেন যে, এনএফএসএলের পরীক্ষায় যদি গলদ থাকে, তা বিএসটিআইকে পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রমাণ করে দেখাতে হবে। আমরাও জানি, রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থার বিরুদ্ধে নাগরিক অভিযোগ ও অসন্তোষ কতটা প্রবল। বস্তুত বিএসটিআই যদি ঠিকমতো নজরদারি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাত, তাহলে খাদ্যে ভেজাল বহুলাংশে কমত।

এখন দুধ-দই ও গোখাদ্যের নমুনা পরীক্ষা করে তাতে ক্ষতিকর উপাদান যাচাইয়ের যে নির্দেশনা আদালত দিয়েছেন, আমরা তার দিকে নজর রাখব। এ ক্ষেত্রে যাতে কারসাজি না হয়, সংস্থাটির নীতিনির্ধারকরাও সতর্ক থাকবেন নিশ্চয়ই। আমরা মনে করি, এখন সময় এসেছে বিএসটিআইকে আরও কার্যকর ও দক্ষ করে গড়ে তোলার। দেশের জনসংখ্যা যখন বাড়ছে, সম্প্রসারিত হচ্ছে নগরায়ণ; তখন খাদ্যপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণও বাড়ছে। এই সময়ে খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে জনস্বাস্থ্যে এর বিরূপ প্রভাব মারাত্মক হতে বাধ্য। আমরা বিভিন্ন সময়েই বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে হুঁশিয়ারি পেয়েছি যে, খাদ্যে ভেজালের কারণেই ক্যান্সারসহ নানা মারাত্মক মরণব্যাধির প্রকোপ বাড়ছে। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীবিশেষের অতি মুনাফার জন্য জনসাধারণকে এই হুমকির মুখে রাখা যায় না। জরুরি কাজটি বিএসটিআইকে সক্রিয় ও সক্ষম করে তোলার মধ্য দিয়েই সূচিত হোক।