দুর্নীতি দমন কমিশন

সরিষার অন্যান্য ভূতও তাড়ান

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯      

দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছেরকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল। এমন নয় যে, দুদকের সরিষায় তিনিই প্রথম ভূত। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি দমনকারী এই স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নানা পর্যায়ের কর্মকর্তা দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছেন। আমাদের মনে আছে, এ বছর জানুয়ারিতেও ফজলুল হক নামে একজন পরিচালক সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন দুর্নীতি, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে। গত বছরও আমরা কয়েকজন সহকারী পরিচালককে একই ধরনের অভিযোগে বরখাস্ত হতে দেখেছি। গত নভেম্বরে সমকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছিল চট্টগ্রামে দুদকের একজন আইনজীবী কীভাবে দুর্নীতির দায়ে আটক আসামিকে জামিন পাইয়ে দিতে 'সহযোগিতা' করেছেন। এসব নজির থাকা সত্ত্বেও ডিআইজি মিজানের দুর্নীতি তদন্তের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনাতেও কেউ যে দুর্নীতির চিন্তা করতে পারেন, তা বিশ্বাস করা কঠিন ছিল। অভিযুক্ত পরিচালক যদিও ঘুষ গ্রহণের কথা অস্বীকার করেছেন; ঘুষ প্রদান করাও যদিও তদন্তের মুখে থাকা ডিআইজি মিজানের জন্য বেআইনি কর্মকাণ্ড; এটা স্বীকার করতেই হবে, খন্দকার এনামুল বাছির তদন্তাধীন তথ্য অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করেছেন। বস্তুত এই অভিযোগেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা দেখতে চাইব, বিপুল অঙ্ক ঘুষ নেওয়ার অভিযোগটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পরিচালক অতীতে আরও যেসব অভিযোগ তদন্ত করেছেন, সেগুলোও পুনর্নিরীক্ষার দাবি অসঙ্গত হতে পারে না। চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনায় যখন এমন অভিযোগ উঠেছে, অ-চাঞ্চল্যকর ঘটনাগুলোতে কী হতে পারে? কয়েক বছর আগে সমকালেই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছিল, দুদকের মামলায় জামিনপ্রাপ্তির হার ক্রমে বাড়ছে। ওইসব মামলার ক্ষেত্রে তদন্ত ও অভিযোগপত্রে কোনো ইচ্ছাকৃত অবহেলা বা ঔদাসীন্য ছিল কি-না, খতিয়ে দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি দুদকের অভ্যন্তরে দুর্নীতি প্রতিরোধে আরও নজরদারি বাড়ানো দরকার। অন্যায় করে কেউ পার পাবেন না- সমকালে প্রকাশিত দুদক চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যে আমরা নিশ্চয়ই আস্থা রাখতে চাই। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বৃক্ষের পরিচয় মেলে ফল দিয়ে। আলোচ্য ঘটনার যদি পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে দুদকের প্রতি জনআস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সমকালকে দেওয়া এক বিশেষ মন্তব্যে টিআইবির নির্বাহী পরিচালকও এই ঘটনায় দুদকের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ার যে আশঙ্কা করেছেন, আমরা তার সঙ্গে একমত। আমরা অতীতে বিভিন্ন সময়েই দেখেছি, জনআস্থার অভাব ও ভাবমূর্তির সংকটে অনেক প্রয়োজনীয় উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। দুর্নীতি দমন-সংক্রান্ত উদ্যোগ ও প্রক্রিয়াগুলোর এমন পরিণতি আমরা দেখতে চাই না। আমরা বরং চাই, দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীন, সক্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে কাজ করবে। সে ক্ষেত্রে দুর্নীতির ভূত তাড়ানোর যে সরিষা তার সব ভূত আগে তাড়ানোর বিকল্প নেই।