চট্টগ্রামের খাল

দখল উচ্ছেদে কঠোর অবস্থান চাই

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯      

প্রাকৃতিক লীলাভূমি, দেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম বড় সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় এই নগরীর সিংহভাগ অংশ। নগরবাসীকে এ কারণে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদী-নালা, খাল হচ্ছে পানি নির্গমনের প্রাকৃতিক পথ। আর এসবের গতিপথ কোনো কারণে রুদ্ধ হয়ে গেলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রাম এরই খণ্ডিত দৃষ্টান্ত। ঢাকাসহ দেশের অন্য মহানগর-শহরও এর বাইরে নয়। মঙ্গলবার সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে আটটি খালের ৩১ একর জায়গা। এই দখল প্রক্রিয়ায় যেমন বলবানরা জড়িত, তেমনি এ তালিকায় রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও। খাল দখল করে দোকানপাট, বাজার, বহুতল ভবন নির্মাণের পাশাপাশি খালগুলো হয়ে উঠেছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের দায়িত্ব নিয়ে আটটি খাল দখলদারদের চিহ্নিত করেছে সেনাবাহিনী। তারা চলতি মাসেই খালগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। খালগুলো অবৈধ স্থাপনামুক্ত করার পাশাপাশি নাব্য সংকট কাটাতে না পারলে বাস্তবায়নাধীন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সুফল মিলবে না। যে নগরী পর্যটকদের কাছে একসময় 'প্রাচ্যের রানী' নামে খ্যাতি পেয়েছিল, পানিবন্দি মানুষের কাছে তা যেন এখন দুঃস্বপ্নের নগরী। জলাবদ্ধতা প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট কারণে হতে পারে। চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য নগর-মহানগর-শহরে যে জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ প্রকট রূপ নেয়, তা অনেকটাই মনুষ্যসৃষ্ট কারণে। অপরিকল্পিত নগরায়নের বিরূপ প্রভাবও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে চট্টগ্রামে দ্রুত ও স্বল্পমেয়াদি এ পর্যন্ত কম উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কিন্তু এসব উদ্যোগ পরিকল্পিত না হওয়ায় সুফল মেলেনি। পাঁচ দশক আগেও চট্টগ্রাম নগরীর বুক চিরে বয়ে যেত অনেক খাল। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি নিঃসরণের এগুলোই ছিল প্রধান পথ। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করে যে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে, এর সুফল পেতে হলে সংশ্নিষ্ট সব মহলকে নির্মোহ ও কঠোর অবস্থান নিয়ে কার্যসিদ্ধির পথে হাঁটতে হবে।