ধর্মঘটে শিশুর মৃত্যু

ঊনো অভিযোগপত্রে দুনো অপরাধ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৯      

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পরিবহন শ্রমিক ধর্মঘটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় শিশুমৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় থানা যেভাবে চার্জশিট দিয়েছে, তা আমাদের যেমন বিক্ষুব্ধ, তেমনই বিস্মিত করেছে। বুধবার সমকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, অভিযোগপত্রে ১৩ জনকে অভিযুক্ত করলেও বাদ গেছে মূল আসামিরাই। শুধু তাই নয়, তদন্তের ফলাফল ও অভিযোগপত্র সম্পর্কে খোদ বাদীই অন্ধকারে রয়েছেন। প্রায় দেড় মাস আগে এতটা 'গোপনে' অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে যে, সংবাদমাধ্যমও টের পায়নি। আমরা বিস্মিত এই কারণে যে, চাঞ্চল্যকর একই 'হত্যা' মামলার এমন পরিণতি! আমাদের মনে আছে, গত বছর অক্টোবরে গুরুতর অসুস্থ ওই শিশুকে বড়লেখা থেকে মৌলভীবাজার নিয়ে যাওয়ার পথে 'ধর্মঘট চলাকালে' অ্যাম্বুলেন্স চালানোর 'অপরাধে' এর চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়েছিল। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা পথে আটকে থাকার কারণে শিশুটি মারা যায়। মাত্র সাত দিন বয়সী শিশুর কী এমন বর্বরতা প্রাপ্য ছিল? ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি রাজনৈতিক অধিকার হলেও, তাতে কাউকে জবরদস্তি করা হলে তার অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। আমরা জানি, বাংলাদেশের বাস্তবতা ভিন্ন। তারপরও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট বা হরতালের মতো কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকে। আলোচ্য ঘটনার ক্ষেত্রে এসব নিয়ম ও রেওয়াজের ব্যত্যয় কেবল ঘটেনি, একটি জীবন খোয়া গেছে। এর জন্য দায়ীদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আসা দরকার আইনের শাসন ও মানবতার স্বার্থে। কিন্তু বড়লেখা থানা থেকে জমা দেওয়া এই অভিযোগপত্রে তা কীভাবে সম্ভব? আমরা বিক্ষুব্ধ এই কারণে যে, অসম্পূর্ণ অভিযোগপত্রের মাধ্যমে দুই ধরনের 'অপরাধ' করেছেন সংশ্নিষ্টরা। প্রথমত, এতে করে মৃত শিশুর স্বজন ও পরিবার উপযুক্ত বিচার পাবে না; দ্বিতীয়ত, এর মধ্য দিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের বদলে নিরপরাধ কিছু ব্যক্তির শাস্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মামলার এজাহারে যদিও 'অজ্ঞাত' ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছিল, ওই অঘটনের ভিডিওচিত্রে স্পষ্ট ছিল, কারা মূল অপরাধী। আর প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করাই কি তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব ছিল না? আমরা আশঙ্কা করি, অভিযোগপত্র থেকে মূল অপরাধীদের বাদ দেওয়ার নেপথ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের উচিত হবে অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখা। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীবিশেষের স্বার্থে বিচারের বাণী এভাবে নিভৃতে কাঁদতে পারে না।