শনিবার সমকালের প্রথম পাতায় প্রকাশিত 'প্রতিবন্ধী কিশোরকে বেঁধে নির্যাতন' শিরোনামের প্রতিবেদনটি সামাজিক বর্বরতার জ্বলন্ত উদাহরণ। কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে প্রতিবন্ধী কিশোর মোশারফকে যেভাবে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়, তা দেখে আমরা শিউরি উঠি। তুচ্ছ বিষয়ে এমন বর্বরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, যে কোনো ঘটনা ঘটলেই তার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে চলে আসে। অনেক সময় একজনকে নির্যাতন করা হয় অথচ অনেকেই তা দর্শক হিসেবে উপভোগ করে। এ ঘটনার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। মোবাইল ফোনে নির্যাতনের চিত্র ধারণ করা হলেও প্রতিবন্ধী কিশোরকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি। আরও বিস্ময়ের ব্যাপার, কিশোরটি যখন পাশের গ্রামের পদস্থ ব্যক্তির ছাদে উঠে নারকেল গাছে ওঠার চেষ্টা করে, তখন বাড়ির মালিকই তাকে ধরে খোলা মাঠে 'চোর' আখ্যা দিয়ে নির্যাতনের নির্দেশ দেয়। ভিডিওতে দেখা যায়, রশি দিয়ে বাঁধা মোশারফের দুই পা এক ব্যক্তি ধরে রেখেছে, আরেক ব্যক্তি তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছে। তখন মোশারফ আর্তচিৎকার করে তার বাবা-মাকে ডাকছিল। এ ঘটনায় মামলা হয় এবং নির্যাতনকারী সাজ্জাদ হাসান হিটলারকে গ্রেফতার করার পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ রকম অনাকাঙ্ক্ষিত, বেদনাদায়ক ঘটনা আমরা আগেও দেখেছি। সিলেটের শিশু রাজনকে রশি দিয়ে বেঁধে রড দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা; খুলনায় মোটর গ্যারেজে শিশু রাকিবকে নজিরবিহীন বীভৎসতায় হত্যাসহ বিভিন্ন সময়ে এ রকম নৃশংসভাবে শিশু-কিশোর হত্যা-নির্যাতনের ঘটনা থেমে নেই। আমরা মনে করি, সামাজিক ন্যায়বিচারহীনতা এবং বিভিন্ন স্তরের শক্তি ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে দুর্বৃত্ত ও পশুপ্রবৃত্তির লোকের প্রাধান্য থাকায় এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটছে। গতকালও এ সম্পাদকীয় কলামে আমরা লিখেছি- এভাবে চলতে পারে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থা কম থাকায় মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা যেমন প্রয়োজন, একই সঙ্গে সবার মাঝে মানবিকতাবোধ জাগ্রত হওয়া দরকার। একটি অসহায় প্রতিবন্ধী কিশোরকে সাধারণ বিষয় নিয়ে কেন খোলা ময়দানে 'শাস্তি'র ব্যবস্থা? একটি মানবিক সমাজ তৈরি না হলে এসব নৃশংসতা চলতেই থাকবে।

মন্তব্য করুন