শিক্ষা সফরে অনিয়ম

যথাযথ প্রতিকারেই প্রতিবিধান

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯

বিদেশে সফর নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের অনিয়মের বিষয়টি নতুন নয়। মূলত প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিদেশ সফরের নীতিমালা রয়েছে সরকারের। কিন্তু প্রায়শই নীতিমালা ভঙ্গ করে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের যেসব খবর সংবাদমাধ্যমে আসে, তা আমাদের বিস্মিত না করে পারে না। রোববার সমকালে প্রকাশিত 'শিক্ষকদের শিক্ষা সফরে যাচ্ছেন কর্মকর্তারা' শিরোনামে প্রতিবেদনটিও তার ব্যতিক্রম নয়। উদ্ভাবনীমূলক কাজে বিশেষ পারদর্শিতা দেখাতে পারা শিক্ষকদের জন্য চীনে এ সফরের আয়োজন করা হলেও সেখানে যাচ্ছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের ৯ কর্মকর্তা! শিক্ষা খাতে উদ্ভাবনীমূলক কাজে জড়িত স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক, যারা শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবক হিসেবে নির্বাচিত তাদের জন্য এ শিক্ষা সফর হলেও শিক্ষকদের কেউই এতে সুযোগ পাচ্ছেন না! সৃজনশীল শিক্ষকদের শানিত করার জন্যই এই 'শিক্ষা সফর'। বাস্তবে যখন কোনো শিক্ষককে এ সফরে নেওয়া হচ্ছে না, তখন একে শিক্ষা সফর না বলে প্রমোদ ভ্রমণ বলাই শ্রেয়। বলাবাহুল্য, প্রতিবেদনটিতে এও বলা হয়েছে, গত বছর এ সফরে শ্রেষ্ঠ তিনজন উদ্ভাবককে নেওয়া হলেও এবার একজন শিক্ষকও সুযোগ পাননি। আরও বিস্ময়ের ব্যাপার, এ সফরের জন্য নির্বাচিতদের মধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ। এ ঘটনায় খোদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। যদিও মাউশি মহাপরিচালক সমকালকে বলেছেন, এ সফর ইনোভেশন টিম আর মেন্টরদের জন্য এবং শিক্ষকদের ট্যুর পরে হবে; কারণ সেটার টাকা ছাড় হয়নি। কিন্তু সমকালের অনুসন্ধানে জানা গেছে, টাকা ছাড় হয়েছে এবং মাউশি অগ্রিম টাকা তুলে খরচও করেছে। এমনকি এও জানা গেছে, এটি মূলত শিক্ষকদেরই সফর। এ অবস্থায় আমরা চাই বিষয়টি দ্রুত আমলে নিয়ে তদন্তক্রমে এ সফর বাতিল করা হোক। এভাবে রাষ্ট্রের টাকা অপচয় করে শিক্ষা সফর কিংবা প্রশিক্ষণের নামে প্রমোদ ভ্রমণ মেনে নেওয়া যায় না।