ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক

মিঠাপুকুরে এ কেমন সংস্কার

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯

সড়ক সংস্কার হয় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য। সংস্কারের পরও যদি সড়কটি বেহালই থাকে, তাতে দুর্ভোগ বাড়ে বৈ কমে না। রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের মিঠাপুকুরের অংশের অবস্থা তা-ই হয়েছে। বুধবার সমকালের লোকালয় পাতায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনামই সেটি বলছে- 'সংস্কারের এক সপ্তাহেই খানাখন্দে বেহাল'। প্রতিবেদনসূত্রে আমরা জানতে পারছি, মাত্র সপ্তাহখানেক আগে সংস্কার করা হয় গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটির ২০ কিলোমিটার এলাকা। এর মধ্যে ১০ কিলোমিটারজুড়ে প্রায় দুই শতাধিক স্থান দেবে গিয়ে গর্ত-খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে সেখানে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। এ দুরবস্থা সত্যিই দুঃখজনক। আমরা জানি, একটি সড়ক সংস্কার হওয়ার আগে কতটা শোচনীয় থাকে; মানুষের ভোগান্তি, নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা; চেষ্টা-তদবিরের পর কর্তৃপক্ষের টনক পড়ে। তারপর বাজেট, টেন্ডার ইত্যাদি নানা প্রক্রিয়ার পর সংস্কার কাজ হাতে নেওয়া হয়। এত কিছুর পর যখন সড়কটি সংস্কার করা হয় এবং সেটি কয়েকদিনের মধ্যে বেহাল হয়ে পড়ে, তাকে দুঃখজনক বলেই শেষ করা যায় না। বলা বাহুল্য, এটি একটি মহাসড়ক, রাজধানীর সঙ্গে রংপুর বিভাগের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। স্বাভাবিকভাবেই সড়কটি দিয়ে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ইত্যাদি যানবাহন চলাচল করে। চলাচল করে স্থানীয় যানবাহনও। সমকাল প্রতিবেদকের কাছে এক পরিবহনচালক অভিযোগ করেছেন, মহাসড়কের মিঠাপুকুর সীমানা অংশটি একেবারেই নাজুক, ছোট-বড় গর্তের কারণে ঝুঁকি নিয়ে বাস চালাতে হয়। সড়ক-মহাসড়কের এ রকম পরিণতি নতুন নয়। সংবাদমাধ্যমে প্রায়শই খবর এলেও বিকারহীনভাবেই যেন চলছে এ ধরনের 'সংস্কার'। সড়ক-মহাসড়ক সংস্কারে দুর্নীতির অভিযোগও অনেক আগের।

টেন্ডার, ঠিকাদারি পাওয়া, কাঁচামাল ক্রয়, সংস্কারে যথাযথ ও পরিমাণমতো সামগ্রী ব্যবহার ইত্যাদি সর্বত্র অনিয়ম হয়ে থাকে। মিঠাপুকুর মহাসড়কটি সংস্কারে ঠিক কোথায় অনিয়ম হয়েছে, তা খুঁজে বের করা প্রয়োজন। রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ডেকে আনা হয়েছে, নষ্ট জায়গাগুলো সংস্কার করে বিটুমিন দিলে মহাসড়ক ঠিক হয়ে যাবে। আমরাও চাই এটি দ্রুত ঠিক করা হোক। আমরা এও চাই, সড়ক-মহাসড়কের সংস্কার কাজ স্বচ্ছ ও যথাযথ করতে কর্তৃপক্ষ আরও মনোযোগী হবে, এভাবে কোনো অনিয়ম চলতে দেওয়া আর মানুষের জীবন নিয়ে খেলা একই কথা।