সমবায় অধিদপ্তর

এক পদোন্নতিতে এত অকাজ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯

সমবায় আন্দোলনের অনুপ্রেরণা যেখানে 'দশে মিলে করি কাজ' স্লোগান, সেখানে সমবায় অধিদপ্তরে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তির মর্জির মূল্য দিতে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতিতে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বুধবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক, যুগ্ম নিবন্ধক ও উপ-নিবন্ধক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে 'ভৌতিক' বিভাগীয় মামলার অজুহাত তুলে যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। মেধাক্রম ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে যে কার্যপত্র দেওয়া হয়েছে, সেটিও ত্রুটিপূর্ণ। দশে মিলে করি কাজ স্লোগানের বিপরীতে এ যেন একে মিলে অনেক অকাজ। আমরা জানি, দেশে সমবায় আন্দোলন গতি পেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে।

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর সমবায় অধিদপ্তরের স্বপ্ন দেখেছিল স্বাধীন দেশের প্রথম সরকার। দুর্ভাগ্যবশত এই অধিদপ্তর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে বহুলাংশে ব্যর্থ হয়েছে। এর জন্য ঔপনিবেশিক কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ সুশাসনের অভাব দায়ী, অনেকে অভিযোগ করেন। খোদ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় এমন অনিয়মের মধ্য দিয়ে সেসব অভিযোগই কি ন্যায্যতা পায় না? এ ক্ষেত্রে মূল যে বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে, তা হচ্ছে জ্যেষ্ঠতায় এগিয়ে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা। বিস্ময়ের বিষয়, এসব মামলা কিসের অভিযোগে হয়েছে, কথিত 'অভিযুক্ত' কর্মকর্তারা জানেন না। কোনো কারণ দর্শানো নোটিশও তারা পাননি। অথচ গত ডিসেম্বরে আহূত বোর্ড সভায় মেধাক্রম ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতেই পদোন্নতির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। এর মধ্যে কী এমন ঘটেছে যে, জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত পদোন্নতি বোর্ডের সভায় পদোন্নতিযোগ্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা 'আবিস্কৃৃত' হলো! আমাদের সন্দেহ সামান্য যে, কেবল পদোন্নতি ঠেকানোর জন্যই এসব মামলা তড়িঘড়ি করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যখন সিনিয়র স্কেল পাস করতে না পারা এবং সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ থাকা কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়, তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না যে কোথাও ঘাপলা রয়েছে। আমরা দেখতে চাইব, পুরো পদোন্নতি প্রক্রিয়া বাতিল বা স্থগিত করে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত করা হয়েছে। যে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই প্রক্রিয়া বিধিবহির্ভূতভাবে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে, তাকেও আনতে হবে জবাবদিহির আওতায়। কমবেশি ৩৮টি পদে উপযুক্ত ব্যক্তির বদলে অন্যকে পদোন্নতি দেওয়ার নেপথ্যে বড় কোনো নয়ছয়ের অভিসন্ধি রয়েছে কি-না, তাও খতিয়ে দেখা জরুরি। একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি বা গোষ্ঠীবিশেষের খেয়ালখুশিমতো চলতে পারে না। সমবায় অধিদপ্তরের মতো জনঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানে তো কোনোভাবেই নয়।