বিশ্বকাপ ক্রিকেট

ইংল্যান্ডের সাফল্যে বাংলাদেশের স্বপ্ন

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচে লর্ডসের মাঠে একের পর এক নাটকীয়তা দর্শকদেরও কীভাবে রুদ্ধশ্বাসে রেখেছিল, আমরাও তা বাংলাদেশে টিভি সেটের সামনে বসে অনুভব করেছি। নিয়মের মারপ্যাঁচে শেষ পর্যন্ত 'ত্রিসিংহ' খেলায় বিজয়ী হলেও বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি দর্শকের হৃদয় জয় করেছে কিউইরা। সব পূর্বাভাস মিথ্যে করে দিয়ে নির্ধারিত ওভারের খেলা শেষ পর্যন্ত 'টাই' হওয়াই যথেষ্ট উত্তেজনাকর ছিল, সন্দেহ নেই। কিন্তু ক্রিকেট বিধাতার চমক যে তখনও বাকি ছিল, বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম ব্যবহূত 'সুপার ওভার' কার্যত একই পরিণতি বরণ করে তা প্রমাণ করেছিল। প্রথমবার বিশ্বকাপ ক্রিকেট শিরোপাজয়ী ইংল্যান্ডকে আমরা অভিনন্দন জানাই। বস্তুত এই জয় তাদের 'প্রাপ্য' ছিল। কেবল ক্রিকেট উদ্ভাবন ও ঔপনিবেশিক আমলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে খেলাটি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নয়। প্রথম তিনটিসহ মোট পাঁচটি বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হওয়ার কারণেও নয়। এর আগে তিনবার তারা ফাইনালে গিয়ে কীভাবে খালি হাতে ফিরেছে, আমরা দেখেছি। আর ফুটবল বিশ্বকাপের মতো 'গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' আখ্যা না মিলুক, ক্রিকেট বিশ্বকাপও গত সাড়ে চার দশকে যতখানি বর্ণিল হয়ে উঠেছে, তার পেছনে ইংল্যান্ডের অবদান কম নয়। দ্বাদশ আসরে দেশটির ট্রফি প্রাপ্তি তাই ঘোরতর প্রতিপক্ষের কাছেও এক দীর্ঘ অপেক্ষার ন্যায্য পরিসমাপ্তি বিবেচিত হবে। ক্রিকেটে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, শক্তিশালী কাঠামো ছাড়াও গত চার বছরে তারা যেন বিশ্বকাপ বিজয়কেই পাখির চোখে রেখে সব প্রস্তুতি নিয়েছিল। আমরা রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড দলকেও অভিনন্দন জানাই। প্রকৃতপক্ষে তারা হারেনি, যে কোনো খেলায় হার বা জিতের অনিবার্যতা স্বীকার করে নিয়েছে মাত্র। এই বিশ্বকাপ বাংলাদেশের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বস্তুত সপ্তম আসর থেকেই ক্রিকেট বিশ্বকাপ আমাদের জন্য হয়ে উঠেছে স্বপ্ন আর সাফল্যের পথরেখা। এটা ঠিক, এখনও আমরা সেমিফাইনালে উঠতে পারিনি। কিন্তু বিশ্বকাপের বিভিন্ন আসরেই অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড, পাকিস্তানের মতো বিশ্বকাপজয়ীরা বাংলাদেশের কাছে পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে। আর এবারের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড তো অন্তত দুবার 'বাংলা ওয়াশ' দেখেছে। আমরা দেখছি, বৃষ্টির বাগড়া না থাকলে এবারও বাংলাদেশ ছিল সেমিফাইনালে যাওয়া শীর্ষ চার দলের অন্যতম দাবিদার। টাইগারদের দলগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের ব্যক্তিগত অর্জনও আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। ফাইনালে না থেকেও অন্যতম শীর্ষ রান সংগ্রহকারী সাকিব ও উইকেটশিকারি মুস্তাফিজের নাম ক্রিকেট-তীর্থ লর্ডসে রোববার বারবার উচ্চারিত হয়েছে। আমরা জানি, এবার বাংলাদেশ সেরা দল নিয়ে ইংল্যান্ড গিয়েছিল। কিন্তু এই বিশ্বকাপ মনে করিয়ে দিয়েছে, আরও উন্নতি দরকার। ইতিমধ্যে কোচিং লাইনআপে পরিবর্তন এসেছে। আমরা দেখতে চাইব, বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিংয়েও আগামী দিনগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড তার দ্বাদশ আসরে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে পেয়েছে। সে হিসাবে বাংলাদেশ মধ্যপথে। ইংল্যান্ডের মাপকাঠিতে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে আরও ছয়টি বিশ্বকাপ। উপযুক্ত প্রস্তুতি থাকলে, দিনটিকে নিজের করে নিতে পারলে, তারও আগেই ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আমরা দেখতেই পারি। যে জাতি মাত্র নয় মাসে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে পারে, সেই জাতির দামাল ছেলেদের কাছে ক্রিকেট বিশ্বকাপও বেশিদিন অধরা থাকতে পারে না।