বাংলাদেশ-ভারত

স্থলবন্দরে হয়রানি কাম্য নয়

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

বাংলাদেশ-ভারত শুধু দুটি প্রতিবেশী দেশই নয়, একই সঙ্গে পরীক্ষিত বন্ধুও। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিগন্তও ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে। এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে সোমবার সমকালে 'ভারতে যেতে হয়রানির চিত্র তুলে ধরলেন ব্যবসায়ীরা' শিরোনামযুক্ত প্রতিবেদনটিতে অনাকাঙ্ক্ষিত চিত্র ফুটে উঠেছে। রোববার খুলনায় চেম্বার অব কমার্সের সভাকক্ষে খুলনাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার রাজেশ কুমার রায়নার সঙ্গে বৈঠকে নানাবিধ দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা অভিযোগ করেছেন, বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে আসা-যাওয়া এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ভারতীয় অংশে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এমনকি রোগী ও পর্যটকরাও নানারকম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরা জানি, প্রতিদিন অনেক বাংলাদেশি ওই বন্দরগুলো দিয়ে যাওয়া-আসা করেন এবং প্রায় এর উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই রোগী ও ব্যবসায়ী। সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশের নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশিরা ভারতীয় চেকপোস্ট কর্মকর্তাদের রূঢ় আচরণ, অহেতুক হেনস্তার মুখে পড়ার বিষয়গুলো আকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। তবে আশার কথা হলো, ওই বৈঠকে সহকারী হাইকমিশনার বিদ্যমান সব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে খুলনা-কলকাতা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালুর প্রচেষ্টার কথাও জানিয়েছেন। শুধু বাংলাদেশিদের যাওয়া-আসার ক্ষেত্রেই নয়, দুই দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থেও ব্যবসায়ীদের অভিযোগগুলো দ্রুত আমলে নেওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। আমরা চাই, আমাদের আত্মমর্যাদার প্রতি ভারতীয় বন্দর কর্মকর্তারা সম্মান দেখাবেন। এও মনে রাখতে হবে, প্রতিশ্রুতিই শেষ কথা নয়, এর বাস্তবায়নে সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীলদের দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। উভয় পক্ষকেই বুঝতে হবে, প্রতিবেশী হিসেবে সহযোগিতার হাত যত প্রসারিত হবে, পারস্পরিক সুফল তত বাড়বে। সৌহার্দ্য-মৈত্রী-সম্প্রীতির সম্পর্ক আরও পুষ্ট করে তা বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকার বিকল্প নেই। ওই দুটি স্থলবন্দরে ভারতের বন্দর কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিবেশীসুলভ আচরণের মধ্য দিয়েই তা স্পষ্ট হোক।