জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে জয়ের পতাকা

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের যে কোনো অর্জনে আমাদের বুক ফুলে স্ম্ফীত হয়। দেশের বাইরে আমাদের লাল-সবুজের পতাকা ওড়ার দৃশ্য গর্বিত করে। নানাভাবে আমরা দেখে আসছি, আমাদের ছেলেরা কেবল দেশেই ভালো করছে না বরং মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা দিয়ে তারা বিশ্বব্যাপী সাড়া ফেলছে। উজ্জ্বল করছে দেশের সম্মান। এ সম্মানের মুকুটেই আরেকটি পালক হাঙ্গেরিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের তিনটি ব্রোঞ্জপদক। এ অনন্য অর্জনে তাদের আনন্দের উষ্ণতা সমকাল পরিবারও অনুভব করে। মূলত বিডিবিও-সমকাল বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড উৎসবে বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়েই চার শিক্ষার্থী এবার হাঙ্গেরিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। বিডিবিও তথা বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াড ও সমকালের যৌথ আয়োজনে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক উৎসব ও জাতীয় উৎসবে অংশ নেওয়া ১০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে চারজন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়। আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়াদের মধ্যে তিনজনই দেশে ফেরে পদকের মুকুট মাথায় নিয়ে। তাদের সাফল্যে আমরাও সমান গর্বিত।

আমরা মনে করি, বিশ্ব-পরিসরে এ পদক অর্জনের মাহাত্ম্য কেবল বিদেশের বুকে দেশের মর্যাদা উঁচু করা কিংবা বিশ্ববাসীকে আমাদের গর্বের পরিচয় জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং দেশেও গত মার্চ থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জীববিজ্ঞানের যে চর্চা বিডিবিও-সমকাল বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান উৎসবের মাধ্যমে সূচিত হয়েছে, সেটিও তাৎপর্যপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও জীববিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ জাগাতে এ উৎসব যদি কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখে; সেখানেই আমাদের সফলতা। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুকুমার বৃত্তি জাগাতে বিজ্ঞানচর্চার বিকল্প নেই। বিজ্ঞানের প্রতি দরদ যেমন ভালোমানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে, একই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান রাখতে বিজ্ঞানের ভূমিকা অনন্য। আমরা উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছি- এটা যেমন সত্য, একইভাবে নানা ক্ষেত্রে আমরা যে পিছিয়ে, তাও অস্বীকার করার অবকাশ নেই। অনেক ক্ষেত্রে বিজ্ঞানমনস্কতার অভাব আমাদের সে পশ্চাৎপদতা অন্যতম কারণ। দেশের বিজ্ঞান শিক্ষার হালও খুব একটা ভালো নয়। শিক্ষার্থীরা যদি বিজ্ঞান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার পরিণতি কারও জন্য কল্যাণকর হবে না। এ অবস্থার উত্তরণেও বিডিবিও-সমকাল জীববিজ্ঞান উৎসব ভূমিকা পালন করছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

মানুষ হিসেবে আমাদের ও অন্যান্য জীবের গঠন, বৃদ্ধি, বিবর্তন, শ্রেণিবিন্যাস ইত্যাদি জানতে জীববিজ্ঞানের বিকল্প নেই। বিডিবিও অনেক দিন ধরে জীববিজ্ঞান নিয়ে কাজ করছে। সমকাল তার সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে, শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা ও বিজ্ঞান চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার অংশ হিসেবেই এ কাজে যুক্ত হয়েছে। প্রথম বছরেই আন্তর্জাতিক পদক অর্জনের মাধ্যমে আমরা যেমন তার দৃশ্যমান সফলতা দেখেছি, তেমনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও তাদের স্বতঃস্ম্ফূর্ততার মাধ্যমে আমরা আত্মিক দিকটিও অনুভব করছি। আমরা মনে করি, তিন পদক জয়ীসহ প্রত্যেক শিক্ষার্থীই আগামীর বাংলাদেশ। সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক যথার্থই বলেছেন, তাদের হাত ধরেই বিশ্বের বুকে আরও মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে আমাদের দেশ।

আমাদের প্রত্যেক শিক্ষার্থীই প্রতিভাবান; অনেকে হয়তো চর্চার অভাবে ঝরে পড়ে। শিক্ষার্থীরা মেধা ও মননের চর্চার যথাযথ সুযোগ পেলে প্রত্যেকেই জ্বলে উঠতে পারে বিশ্বের বুকে একেক মঞ্চে। আমাদের মনে আছে, গত বছরই আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক লাভ করে। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডেও স্বর্ণপদক পেতে পারে আমাদের সন্তানরা। কোনোদিক থেকেই আমরা পিছিয়ে থাকব না। বিজয়ের যে নিশান উড়ছে, সেটি আরও প্রসারিত হবে। সামগ্রিকভাবে আমরা এগিয়ে যাব।

অদ্বিতীয় নাগ, রাফসান রহমান রায়ান ও মাধব বৈদ্য শঙ্করণকে অভিনন্দন। আমাদের স্বপ্ন দেখতে তোমরাই অগ্রসৈনিক।