ঈদুল আজহা

ত্যাগের মহিমায় হোক ভাস্বর

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯      

রাত পোহালেই উদযাপিত হবে আনন্দ ও ত্যাগের উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহা আরবি জিলহজ মাসের ১০ তারিখ অনুষ্ঠিত হয়, যখন বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের লাখো মুসলিম পবিত্র হজ পালনে আল্লাহর ঘরে সমবেত হন। ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্তে সমকাল পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই। এবার আনন্দের ঈদে বাড়তি শঙ্কা যোগ করেছে ডেঙ্গু জ্বর। শনিবার সমকালে প্রকাশিত 'ডেঙ্গু কেড়ে নিল ঈদ' শীর্ষক প্রধান প্রতিবেদন বলছে, এবারের ঈদে ডেঙ্গুর কারণে অনেককে হাসপাতালে কাটাতে হবে। প্রশাসনের তরফ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের অংশ হিসেবে 'বাড়ি ফেরা' সব যানবাহনে মশা প্রতিরোধের ওষুধ দেওয়ার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। স্বজনের সঙ্গে ঈদ করতে নাড়ির টানে নানা ভোগান্তির মধ্যেও বাড়ি ফিরছে মানুষ। যানজটের কারণে মহাদুর্ভোগের খবর দিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো। সিডিউল বিপর্যয়ে একাকার ট্রেন ৮-১০ ঘণ্টা পরও ছাড়ছে স্টেশন। এরপরও নির্বিঘ্ন মানুষ বাড়ি পৌঁছুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বস্তুত ঈদুল আজহা এক ঐতিহাসিক উৎসব। প্রিয় সন্তান ইসমাইলকে (আ.) মহান আল্লাহর নির্দেশে কোরবানির পরীক্ষায় যেভাবে হজরত ইবরাহিম (আ.) উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানির মাধ্যমে এ ঈদ উদযাপন করে থাকেন। তাই ত্যাগ ও আনুগত্যের নিদর্শন এ ঈদ পালনের মধ্যে জাগতিক ও আধ্যাত্মিক উভয় উদ্দেশ্যই হাসিল হয়। কোরবানির মাংস ও পশুর চামড়ার অর্থ পাড়া-পড়শি-আত্মীয়-স্বজনের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেও ব্যক্তির ত্যাগ প্রস্ম্ফুটিত হয়। গরিব-দুঃখীর পাশে দাঁড়ানো এই কোরবানি আমাদের সহমর্মিতার শিক্ষাও দেয়। ত্যাগই যে উৎসবের মূল বিষয়, ভোগের কারণে যেন সেটি ম্লান না হয়। অনেক সময় কোরবানির পশু ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রদর্শনেচ্ছা কাজ করে, সেটিও কাম্য নয়। আমরা এমন সময় ঈদুল আযহা পালন করছি যখন কাশ্মীর, ফিলিস্তিন, ইয়েমেনসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে মুসলমানরা দুঃসময় অতিক্রম করছে, আমরা চাইব তাদের সংকট দ্রুত সমাধান হোক। এ ঈদে পশু কোরবানি করা হয় বিধায় কোরবানির সঙ্গে সঙ্গে পশুর বর্জ্য অপসারণের বিষয়টিও মনে রাখা দরকার। কোরবানির বর্জ্য অপসারণে আমরা বারবারই প্রশাসন তথা সিটি করপোরেশনের তৎপরতা দেখি, তারপরও প্রতিবছরই তাতে ঘাটতি থেকে যায়। এবার ডেঙ্গুর বিষয়টি মাথায় রেখে সিটি করপোরেশনসহ দেশের সর্বত্র সবার সচেতনতা দরকার। দ্রুত সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য, রক্ত, পানি অপসারণ না করলে, এগুলো নতুন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ঈদে বাড়ি যাওয়ার ক্ষেত্রে শহরের বাসাবাড়িতে যথেষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যক্তির পাশাপাশি প্রশাসনেরও দৃষ্টি দেওয়া দরকার। ছোটখাটো কোনো কারণেও যেন কারও ঈদ আনন্দ মলিন না হয়। বাংলাদেশ বরাবরই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ; সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়, এমন কোনো কাজ যেন আমাদের দ্বারা সংঘটিত না হয়। আমরা চাই ঈদুল আজহায় ত্যাগ, আনুগত্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আলো উদ্ভাসিত হয়ে সারা বছর অটুট থাকুক। একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে এর চেয়ে বড় শিক্ষা আর কী হতে পারে। সবাইকে ঈদ মোবারক।