বাল্যবিয়ে

এখনও গেল না আঁধার

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

বাল্যবিয়ে বন্ধে সরকারের নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও তা একেবারে ঠেকানো যাচ্ছে না। রোববার সমকালে দুটি প্রতিবেদনে অন্তত চারটি বাল্যবিয়ের সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে কেবল বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাতেই তিনটি বাল্যবিয়ের আয়োজন চলছিল। তবে স্বস্তির খবর হলো, সব বিয়েই ঠেকানো গেছে। 'নিজের বিয়ে ঠেকাল দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী' আর 'এক রাতে তিন বাল্যবিয়ে বন্ধ করল পুলিশ' শীর্ষক দুটি প্রতিবেদনই পুলিশের তৎপরতার কথা বলছে। এ জন্য প্রশাসনকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। তবে এ যদি হয় একদিনের চিত্র, তাতে বাল্যবিয়ের হার কেমন, সেটা বোঝা কষ্টকর নয়। আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়ানোর দাবি জানাই। আমাদের অজানা নয়, প্রশাসনের অগোচরে দেশে বাল্যবিয়ে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতেই এসব বিয়ে সংঘটিত হয়! বিয়ের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ছেলেদের বয়সসীমা ২১ বছর মানা হলেও মেয়েদের ১৮ বছরের সীমা তেমন মানা হচ্ছে না। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলো যেমন মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিচ্ছে, তেমনি সচ্ছল পরিবারও এ অভিশাপ থেকে মুক্ত নয়। এখনও বহু সংখ্যক মেয়ের ১৮ বছরের নিচে বিয়ের যে চিত্র আমরা পাই, তা উদ্বেগজনক। অল্প বয়সে বিয়ে হলে মেয়েদের গর্ভধারণসহ নানাবিধ সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতেই হবে। এটা ঠিক, নানা কর্মসূচির কারণে বাল্যবিয়ের হার কমছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সুফলও আমরা দেখছি; দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর নিজেরই বিয়ে ঠেকানো যার প্রমাণ। তারপরও অনেকের মধ্যে এখনও অজ্ঞতা রয়ে গেছে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের সাফল্য যেখানে বিশ্বে উদাহরণ, সেখানে মেয়েদের বাল্যবিয়ের হার আমাদের জন্য লজ্জার। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সরকারের প্রচারণা ঠিকভাবে কাজ করছে না কেন- খতিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে মেয়েদের ব্যাপারে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। মেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে আরও প্রণোদনা প্রদানসহ তাদের নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষায় নজর দিতে হবে। জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাল্যবিয়ের কারণে নারী পিছিয়ে পড়ছে। এ অন্ধকার দূর করতে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াস। প্রশাসনের সক্রিয়তা, অভিভাবকের সদিচ্ছা ও সামাজিক সচেতনতাই পারে বাল্যবিয়েমুক্ত দেশ গড়তে।