ইসির ল্যাপটপ চুরি

নিরাপত্তায় অবহেলা কেন

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)-পাসপোর্ট রোহিঙ্গারা ব্যবহার করছে- এমন অভিযোগ পুরনো। কীভাবে তারা এসব সংগ্রহ করছে, সে প্রশ্নের উত্তর মিলল সম্প্রতি চট্টগ্রামে এক রোহিঙ্গা নারীর বাংলাদেশি এনআইডি সংগ্রহকালে ধরা পড়ার পর। তারই পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সার্ভার ব্যবহার করে একটি চক্রের জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়ার যে খবর কয়েকদিন ধরে সংবাদমাধ্যমে এসেছে তাতে আমরা একই সঙ্গে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। শনিবার সমকালে প্রকাশিত 'ইসির চুরি যাওয়া ল্যাপটপসহ আরেক কর্মী গ্রেফতার' শীর্ষক প্রতিবেদন এ ঘটনারই পরম্পরা। এসব ঘটনার অনুসন্ধানে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে এসেছে। সমকালের আলোচ্য প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতির ঘটনায় চুরি যাওয়া ইসির ল্যাপটপসহ এক কর্মী গ্রেফতারের বিষয়টি আপাত স্বস্তির হলেও নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা উদ্বিগ্ন। এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর এনআইডি জালিয়াতির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কতটা বিপজ্জনক তা বলা বাহুল্য। আমরা জেনে অবাক হয়েছি, নির্বাচন কমিশনের ল্যাপটপ চুরির ঘটনা অনেক আগের। তখন ইসি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি, এমনকি ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমরা ইসি সূত্রেই জেনেছি অন্তত চারটি ল্যাপটপ চুরি হয়েছে, যেগুলোতে এনআইডির কাজ হয়। চুরি হওয়ার পরও ইসির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার দায় ইসি কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। ইসি ঘটনার শুরুতেই ব্যবস্থা নিয়ে সার্ভার বিচ্ছিন্ন করে দিলে, গ্রেফতার হওয়া নির্বাচন কমিশনের চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার কর্মচারী জয়নাল আবেদিনের ২০১৫ সাল থেকে ওই ল্যাপটপ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া এনআইডি তৈরি করা সম্ভব ছিল না। সহযোগী দৈনিকের প্রতিবেদনে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের অন্তত চারটি ল্যাপটপ 'খোয়া' গেছে, এসব ঘটনার কোনো কিনারা করতে না পারার ব্যর্থতাও ইসির ওপরই বর্তায়। এনআইডি জালিয়াতির সাম্প্রতিক ঘটনায় অভিযুক্ত ও গ্রেফতারকৃতরা নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মচারী হলেও এদের সঙ্গে ঢাকার ইসি কার্যালয়ের একটি চক্রের সহযোগিতা ছাড়া এনআইডি প্রস্তুত করা সম্ভব হতো না। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সজাগ দৃষ্টি কাম্য ছিল। জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভার দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এর সুরক্ষায় অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জালিয়াত চক্র ৫০/৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দিত। আমরা জানি না কতজন এভাবে দেশের নাগরিকত্বের সনদ পেয়েছে। অথচ রোহিঙ্গারা কোনোভাবেই আমাদের দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র-পাসপোর্ট পেতে পারে না। এরকম জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় নয়।