বিমানবন্দর সম্প্রসারণ

ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়বেন না

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

এ দেশে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং এর জের ধরে দফায় দফায় ব্যয় বৃদ্ধি নতুন নয়। কিন্তু শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প যেন আরও কয়েক কাঠি সরেস। রোববার সমকালে প্রকাশিত শীর্ষ প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে- প্রকল্পটির উদ্বোধনের আগেই প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে। চূড়ান্ত ব্যয় অনুমোদনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ার আগেই যদি এত টাকা ব্যয় বাড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে যে এই প্রকল্প আরও ব্যয়বহুল হবে না, সেই নিশ্চয়তা কে দেবে? তাহলে কীসের ভিত্তিতে বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছিল? অস্বীকার করা যাবে না যে, দেশের প্রধান বিমানবন্দরটির সম্প্রসারণ প্রয়োজন। কিন্তু খাজনার চেয়ে যদি বাজনা বেশি হয়, তাহলে সেই সম্প্রসারণে 'কস্ট বেনিফিট' নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কেবল ব্যয় বৃদ্ধি নয়, আমরা দেখছি- প্রকল্পটির অর্থায়নের উৎসও এখনও অনিশ্চিত। ১৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকা থেকে ছয় হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে আসবে দুই হাজার কোটি টাকা। বাকি নয় হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন এখনও স্পষ্ট নয়। তার মানে, অর্থায়ন নিশ্চিত না করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চান সংশ্নিষ্টরা? ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়ার বহুল প্রচারিত প্রবাদকেও যেন হার মানিয়েছে এই প্রকল্প। বৈদেশিক ঋণ ছাড়া নিজস্ব সামর্থ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন হতেই পারে। বহু ক্ষেত্রে বরং এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল রয়েছে। পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প যদি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হতে পারে, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ কেন নয়? কিন্তু বিষয়টি প্রথম থেকেই স্পষ্ট থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, অর্থায়নের উৎস অস্পষ্ট রেখে প্রকল্প শুরু করা মানে দীর্ঘসূত্রতার ঝুঁকি স্বীকার করে নেওয়া। প্রকল্প বাস্তবায়ন দীর্ঘসূত্র হওয়া মানে দফায় দফায় আরও ব্যয় বৃদ্ধির শঙ্কা। দেশের বৃহত্তম বিমানবন্দরটিতে নির্মাণ প্রকল্প কতদিন চলতে দেওয়া যায়, তাও বিবেচ্য। বস্তুত এ ধরনের স্থাপনায় যেখানে সময়ের সর্বোচ্চ সাশ্রয় প্রয়োজন, সেখানে একটি দীর্ঘসূত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ঘোড়ার আগে গাড়িই কেবল জোড়া হয়নি, সেই গাড়িতে বোঝাও তুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে ভাবনার সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি। সংশ্নিষ্টরা যদিও বলছেন যে, বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে। আমাদের প্রশ্ন, জরুরি এই কাজ আগেই করা হলো না কেন? আমরা মনে করি, অর্থায়নের উৎস যেমনই হোক, যেখান থেকেই হোক; প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরুর আগেই স্পষ্ট ও নিশ্চিত করতে হবে। কাজ শুরুর আগেই এক দফা ব্যয় কেন বাড়ল, সেই ব্যয় বৃদ্ধি সঙ্গত কি-না, তাও খতিয়ে দেখা জরুরি। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীবিশেষের অতি উৎসাহ বা ঔদাসীনের কারণে রাষ্ট্রীয় অর্থের এমন নয়ছয় এবং বৈদেশিক ঋণের বোঝা কাম্য হতে পারে না। দেশের প্রধান বিমানবন্দরের মতো নানা বিবেচনায় স্পর্শকাতর স্থাপনা ঘিরে তো প্রশ্নই আসে না।