চট্টগ্রামে পুকুর ভরাট

দায়িত্বপ্রাপ্তরা কী করছে!

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

আমরা জানি, প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কোনো পুকুর-জলাশয়, নদী-খাল ইত্যাদি ভরাট বেআইনি। এ ধরনের অপতৎপরতা পরিবেশ ও প্রতিবেশের দিক থেকেও আত্মঘাতী। কিন্তু আইন উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে পুকুর কিংবা জলাশয় ভরাট হচ্ছে, তা আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। রোববার সমকালে 'শতবর্ষী পুকুরটি রক্ষায় কেউ এগিয়ে এলো না' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি ভরাট করে চলেছেন প্রভাবশালীরা। পরিবেশ অধিদপ্তরের নোটিশ-জরিমানা ও একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনকে হাইকোর্টের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ সত্ত্বেও নগরীর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের পাঠানিয়া গোদা রোডের পুকুরটির ধ্বংস ঠেকানো যাচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তর নোটিশ জারি ও জরিমানা করেই তাদের দায় শেষ করেছে! স্থানীয়দের অভিযোগ জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্নিষ্ট সব মহলের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তারা এই পুকুরের 'অপমৃত্যু' ঠেকাতে পারছেন না। সারোয়ার উদ্দিন, আবদুল হামিদ গং পুকুরটির মালিক। গত এক বছর ধরে তারা পুকুরটি ভরাট শুরু করেন। প্রথমে একটু একটু করে ভরাট করলেও সম্প্রতি পুরো পুকুরটি ভরাটের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ভরাট অংশে চলছে দোকান তৈরির পাশাপাশি সীমানা প্রাচীরের কাজ। বিগত এক দশকে চট্টগ্রামে অনেক পুকুর-জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে নগরীতে পানির উৎস কমে যাওয়ায় অগ্নিনির্বাপণ কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে একের পর এক এমন তৈরি কর্মকাণ্ড ঘটে চললেও তা বন্ধে কেউ এগিয়ে আসছে না কেন? কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতেই হবে। আইনের শাসন ও পরিবেশগত ভারসাম্যের স্বার্থেই। পুকুর ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভরাটকারীদের দিয়েই পুকুরটি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিন।