গ্যাসলাইনে বিস্ম্ফোরণ

ঝুঁকির সঙ্গে বসবাস আর নয়

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০১৯

চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটা এলাকার একটি ভবনের নিচতলায় যে ভয়াবহ বিস্ম্ফোরণ ঘটেছে, তাতে করে নাগরিক আবাসনে নানামাত্রিক ঝুঁকির শঙ্কা নতুন করে সামনে এসেছে। আবাসিক এলাকায় দাহ্য পদার্থের গুদাম ও কারবার, বিদ্যুতের অনিরাপদ সঞ্চালন, রান্নায় ব্যবহূত গ্যাস সিলিন্ডারের পর ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাসলাইনও কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে, অন্তত সাতটি মূল্যবান প্রাণ হারিয়ে আমাদের অনুধাবন করতে হচ্ছে। রোববার সকালের এই দুর্ঘটনার দায় নিয়ে যদিও রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি সংস্থার মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে, দায় কাউকে না কাউকে তো নিতেই হবে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস লাইনে ফুটো হওয়ার জেরে বিস্ম্ফোরণ ঘটতে পারে। একই অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে বিস্ম্ফোরক অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। আমরা দেখছি, হাসপাতালে আহতরাও জানিয়েছেন, পূজার ঘরে দেয়াশলাই জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ম্ফোরণ ঘটেছিল। তারপরও কর্ণফুলী গ্যাস সরবরাহ কোম্পানির পক্ষ থেকে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে বিস্ম্ফোরণের যে ধারণা করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে ক্ষতি নেই। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বিষয়টি চাপান-উতোরের নয়। বরং প্রকৃত কারণ শনাক্ত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই। নগরবাসী এভাবে দিনের পর দিন ঝুঁকির সঙ্গে আর বসবাস করতে পারে না। মনে রাখতে হবে, গ্যাসলাইন বা অন্যান্য দাহ্য বা বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা থেকে উদ্ভূত ঝুঁকি কেবল চট্টগ্রামের নয়। সোমবার সমকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে যে গ্যাস সরবরাহ লাইন সম্প্রসারিত হয়েছে, তার ৭০ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকির এই বিপুল হার কোনো যুক্তিতেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা বিস্মিত হয়েছি এটা জেনে যে, খোদ রাজধানীতে অর্ধশত বছরের পুরোনো লাইনও রয়েছে। ওই লাইনগুলো উন্নীতকরণে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আরও বড় দুর্ঘটনা এবং সেখানে আরও বেশি প্রাণ ঝরে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে। ওই প্রতিবেদনের এই তথ্যও আমলযোগ্য যে, ২০১০ সাল থেকে আবাসিক ভবনে নতুন করে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় অবৈধ সংযোগের হার স্বভাবতই বেড়েছে। সেখান থেকে তৈরি হচ্ছে ঝুঁকি। আমরা মনে করি, অবিলম্বে অবৈধ সংযোগ শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে বাস্তবতা বিবেচনায় সেগুলোকে বৈধতা দিয়ে ঝুঁকিহীন সংযোগে রূপান্তর করা যেতে পারে। নীতিগত ও ব্যবহারিক পরিস্থিতির ব্যবধান এভাবে প্রাণঘাতী হতে দেওয়া যায় না। পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাসলাইন উন্নত ও নিরাপদ না হওয়ার নেপথ্যে কারও দায়িত্বহীনতা রয়েছে কি-না, তাও খতিয়ে দেখতে বলি আমরা। গ্যাস ব্যবহারে নাগরিকদের জন্য প্রশিক্ষণ বা সচেতনতামূলক কার্যক্রমই বা নেওয়া হবে না কেন? তবে পাথরঘাটার দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার যাতে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পায় এবং আহতরা যথার্থ চিকিৎসা লাভ করে- এ ব্যাপারে উদ্যোগী হতে হবে সবার আগে।