সড়কে শৃঙ্খলা

আইন প্রয়োগের বিকল্প নেই

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০১৯

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে 'সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮'কে আমরা স্বাগত জানাই। নভেম্বরের প্রথম দিন থেকে আইনটি কার্যকরের কথা থাকলেও সচেতনতা কার্যক্রমের জন্য দুই সপ্তাহ সময় দেয় সরকার। এর পরও আমরা দেখেছি, আইনটি কার্যকরের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস বন্ধ রাখেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। ঠিক এমনি সময়ে রোববার সমকাল এবং 'নিরাপদ সড়ক চাই' আন্দোলন যৌথভাবে আয়োজন করে 'সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বাস্তবায়নে সংশ্নিষ্টদের করণীয়' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক। এতে পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট সব পক্ষ অংশগ্রহণ করে, যাতে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়, 'আইনের কঠোর প্রয়োগেই ফিরবে সড়কে শৃঙ্খলা।' এসিআই মোটরসের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ডিএনসিসি মেয়র, বিআরটিএ চেয়ারম্যান, পরিবহন বিশেষজ্ঞ, পুলিশের প্রতিনিধি, মালিক প্রতিনিধিসহ এ খাতের সব পর্যায়ের অংশীজনের উপস্থিতির মাধ্যমে আমরা মনে করি, আলোচনা প্রত্যেকের দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে। এটা ঠিক, নতুন আইনে জরিমানা বেড়েছে ক্ষেত্রভেদে ১০ থেকে হাজার গুণ পর্যন্ত। ফলে আইনটিকে অনেকেই কঠোর বলেছেন। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন- 'জরিমানা আদায় মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। আইনের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাই প্রধান উদ্দেশ্য।' এটা ঠিক যে, সংশ্নিষ্ট আইন নিয়ে উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষণ রয়েছে। আইনটির বিধিমালা এখনও তৈরি হয়নি। এ ছাড়া যে যন্ত্রের মাধ্যমে পুলিশ মামলা করে থাকে, সে সফটওয়্যার এখনও হালনাগাদ করা হয়নি। আবার অবৈধ পার্কিং করলে, ফুটপাত ব্যবহার না করলে জরিমানার কথা বলা হয়েছে। অথচ আমাদের পার্কিং সুযোগ সীমিত; একই সঙ্গে রাস্তা পারাপারে বিকল্প জেব্রা ক্রসিং বা পদচারী সেতুও পর্যাপ্ত নয়। তারপরও আমরা মনে করি, আইনটি যুগোপযোগী হয়েছে এবং এ আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা আসবে। তবে এখনও সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে, যাতে প্রত্যেকে দায়িত্বশীল হয়ে নিজ থেকে আইন মানার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়। একই সঙ্গে এ আইনের প্রতিবন্ধকতা দূর করে সংশোধনীর ব্যবস্থাও রাখা হোক। সড়কে দুর্ঘটনা কমিয়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সমকাল সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে এ গোলটেবিল আলোচনা ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা।