সড়ক আইন বাস্তবায়ন

চাপে নতিস্বীকার নয়

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯      

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ দুই সপ্তাহ পিছিয়ে সোমবার থেকে বাস্তবায়নের শুরু থেকেই আমরা দেখেছি অন্তত ১০টি জেলায় শ্রমিকদের ধর্মঘট। রাজধানীতেও গুজব আর ইন্ধনে কোথাও গণপরিবহন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, আবার কোথাও চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সমকালে প্রকাশিত 'গুজবে ইন্ধনে বন্ধ গাড়ি' শীর্ষক প্রতিবেদনে একই সঙ্গে আমরা যাত্রীদের অসহনীয় দুর্ভোগের চিত্রও দেখেছি। অভিযোগ রয়েছে, নতুন পরিবহন আইন বাস্তবায়নে বাধা দিতেই পরিবহন নেতাদের একটি অংশ বিভিন্ন স্থানে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখার ইন্ধন দিচ্ছে! আইনটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শুরু থেকেই গণপরিবহন মালিক-শ্রমিকরা যে আচরণ করছেন, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না। এটি অনস্বীকার্য যে, সড়ক পরিবহনে একটি যুগোপযোগী আইন জরুরি ছিল। ১৯৮৩ সালে করা ৩৬ বছরের পুরোনো আইন দিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও দুর্ঘটনা রোধ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছিল। সর্বমহল থেকে সড়কে একটি নতুন আইনের দাবি ওঠা সত্ত্বেও আমরা সময়ক্ষেপণ দেখেছি। অবশেষে গত বছর ঢাকার দুই কলেজ শিক্ষার্থী সড়কে বাসচাপায় প্রাণ হারানোর পর শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে একই বছরের সেপ্টেম্বরে আইনটি পাস হয়। তারও ১৪ মাস পর সেই বহুল আলোচিত ও জরুরি আইনটি যখন বাস্তবায়ন শুরু হলো, তখন মালিক-শ্রমিকপক্ষের এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রত্যাশিত তো নয়ই, বরং আমরা মনে করি, এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমরা যখন দেখছি প্রায় প্রতিদিনই সড়কে প্রাণ ঝরছে, রাজধানীতে যখন যানজট আর বিশৃঙ্খল গণপরিবহনে জনজীবন অতিষ্ঠ, তখন আইনটি বাস্তবায়নে অবস্থার উন্নতি ঘটবে বলে আমরা মনে করি। এমনিতেই আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক। সড়কে মৃত্যুর মিছিল কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, শাস্তির অভাবেই কমছে না সড়কে দুর্ঘটনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গতি ও চালকের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। যেখানে সড়ক, যানবাহন ও দক্ষ চালক- এ তিনটি অনুষঙ্গ পরিবহন খাতে শৃঙ্খলার মূল নিয়ামক বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেখানে নতুন আইনটি কার্যকর হলে অন্তত শাস্তির ভয়ে হলেও ফিটনেসবিহীন যানবাহন কমবে; একই সঙ্গে চালকরাও সচেতন হবেন বলে আমরা মনে করি। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইনটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন হোক- এটাই কাম্য। 'কোনো চাপই সরকারকে নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের পথ থেকে সরাতে পারবে না' বলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা মনে করি, এ আইনটি দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তার জন্যই বাস্তবায়ন করা দরকার। পরিবহন মালিক-শ্রমিকপক্ষ যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, সেটি কাম্য হতে পারে না। মানুষকে জিম্মি না করে আইন মানার মানসিকতা নিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারকে সহযোগিতা করাই পরিবহন-সংশ্নিষ্ট সবার দায়িত্ব হওয়া উচিত। কোনো বিষয় যুক্তিগ্রাহ্য না হলে সেটাও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক। তার বদলে সড়কেও পরিবহন ব্যবস্থায় নৈরাজ্য চলতে দেওয়া যায় না।