বাংলাদেশ-ভারত

সীমান্ত হত্যা বন্ধ করুন

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯      

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সোমবার ভোরে বিএসএফের গুলিতে দু'জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও একজন আহত হওয়ার খবর আমাদের বিক্ষুব্ধ না করে পারে না। এত আলোচনা, প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও সীমান্তে এমন রক্তপাত বন্ধ হচ্ছে না কেন? সম্প্রতি যদিও দাবি করা হচ্ছিল, সীমান্তে হত্যা আগের তুলনায় কমেছে- মাঠ পর্যায়ের চিত্রে তার প্রতিফলন নেই। আমরা দেখছি, এই নভেম্বরেরই প্রথম সপ্তাহে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আরেকজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী এতটা 'ট্রিগারহ্যাপি' হয়ে উঠছে যে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সীমান্তে তারা নিজ দেশের একজন নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছিল। এই বিভীষিকা আর চলতে পারে না। এ ক্ষেত্রে নিহতের সংখ্যাগত তুলনামূলক হ্রাস-বৃদ্ধিও গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই, নিহতের সংখ্যা শূন্যে নেমে আসবে। শেরপুরের এই অঘটনই হবে সীমান্তের শেষ রক্তপাত। আমাদের মনে আছে, চলতি বছর জুন মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সম্মেলনে ভারতীয় পক্ষ দাবি করেছিল, বিএসএফ সদস্যরা 'প্রাণ বাঁচাতে' মারণাস্ত্র ব্যবহার করে। এ ধরনের ব্যাখ্যাও সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। আমরা এও দেখেছি, সীমান্তের এপাশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ধরে নিয়ে গিয়ে পরবর্তীকালে মৃতদেহ ফেরত দেওয়া হয়েছে। আমরা অস্বীকার করতে চাই না যে, সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের একটি বড় কারণ চোরাচালান। বিশ্বের সব দেশের সীমান্তেই এ ধরনের তৎপরতা রয়েছে। কিন্তু সে জন্য হত্যাকাণ্ড ঘটবে কেন? অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম নিশ্চয়ই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু তার জন্য প্রচলিত আইন ও দণ্ড রয়েছে। বড় কথা, কারণ যাই হোক না কেন, একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এমন হত্যাকাণ্ড আর চলতে দেওয়া যায় না। বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বকে যদি ভারত সরকার মূল্য দেয়, তাদের 'ট্রিগারহ্যাপি' সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে অবিলম্বে সামলানোর ব্যবস্থা নেবে। আমরা বিশ্বাস করি, দেশটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আন্তরিকতা থাকলে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড শূন্যে নামানো কঠিন হতে পারে না।