মীম-রাজীব মামলার রায়

বেপরোয়া বাসের হুঁশ ফিরুক

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯

বেপরোয়া বাসের চাপায় রাজধানীর রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের মামলার যে রায় এসেছে, তা সন্তোষজনক। আমাদের মনে আছে, গত বছর জুলাই মাসে এই 'দুর্ঘটনা'য় দিয়া খানম মীম ও আবদুল করিম রাজীবের মৃত্যুতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এক অভূতপূর্ব আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পথে নেমে শৃঙ্খলা ফেরানোর 'দায়িত্ব' নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছিল। আমরা মনে করি, দেড় বছরের মাথায় রোববার মহানগর দায়রা জজ আদালতে দুই বাস চালক ও একজন সহকারীর যাবজ্জীবন সেই আন্দোলনেরই সাফল্য। যদিও দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানির জন্য দায়ীদের ফাঁসির দাবি বিভিন্ন মহলে উচ্চারিত হয়েছে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও গুরু শাস্তি। নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারও সমকালের কাছে রায় নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। আমরা মনে করি, মামলার চূড়ান্ত পরিণতি পর্যন্ত নাগরিক সমাজ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, নিহতদের পরিবার, সংবাদমাধ্যম এবং সর্বোপরি কর্তৃপক্ষকে মামলাটির ব্যাপারে একই আন্তরিকতা ও নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে। উচ্চ আদালতেও যাতে এই রায় বহাল থাকে, সে ব্যাপারে সব পক্ষকে সক্রিয় ও সতর্ক থাকতে হবে। সংশ্নিষ্টদের ঔদাসীন্যে নিম্ন আদালতের রায় উচ্চ আদালতে গিয়ে হালকা হয়ে যাওয়ার নজির আমাদের দেশে কম নেই। মীম-রাজীব মামলার ক্ষেত্রে এর পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না। আমরা কোনো একটি পেশাজীবী শ্রেণির প্রতি বিরূপ নই; আইনও শ্রেণি বা অবস্থান বিবেচনা করে চলে না। কিন্তু এই মামলায় দায়ীদের উপযুক্ত শাস্তি পেতে হবে সড়কে সার্বিক শৃঙ্খলার স্বার্থেই। আমরা চাই, এই রায়ের মাধ্যমে বেপরোয়া বাসগুলোর হুঁশ ফিরুক। আলোচ্য দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, কীভাবে নিছক খেলাচ্ছলে দুই বাসের চালক পাল্লা দিতে গিয়ে দুটি মূল্যবান প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। বস্তুত চালক ও সহকারীরা একটু সতর্ক ও সচেতন থাকলেও সড়কে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। আমরা এই সম্পাদকীয় কলামেই বিভিন্ন সময়ে চালক ও সহকারীদের প্রশিক্ষণ, লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, তাদের অদক্ষতার কারণে খুব বেশি দুর্ঘটনা ঘটে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দায়ী থাকে তাদের বেপরোয়া মনোভাব কিংবা মাদক সেবন। সড়ক দুর্ঘটনায় শাস্তির নজির নগণ্য থাকার কারণেও তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠত। আমরা প্রত্যাশা করি, আলোচ্য রায় তিন ব্যক্তির জন্য শাস্তি হলেও বাকিদের জন্য শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে। সমকালে প্রকাশিত বিশেষ অভিমতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি সৈয়দ আবুল মকসুদের সঙ্গে আমরা একমত যে, এই রায়কে কেন্দ্র করে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কোনো প্রতিবাদী কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত হবে না। বরং উচিত হবে, রায়কে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে সতর্কতার শপথ নেওয়া। আমরা দেখেছি, নিহতদের একজনের পিতাও বাসচালক। এতে করে প্রমাণ হয়, বেপরোয়া বাস যে কারও জীবন কেড়ে নিতে পারে। এমনকি নিজেদের পরিবারের সদস্যেরও।