আলতাফ মাহমুদ বিদ্যালয়

স্মৃতি ও সংগীতে শকুনের চোখ

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯

অমর সুরস্রষ্টা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ যেমন আমাদের সম্পদ, তেমনি বরিশালে তার নামে প্রতিষ্ঠিত সংগীত বিদ্যালয় তার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবেও আমাদের আবেগের জায়গা। সোমবারের সমকালে প্রকাশিত 'আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যালয়ের সম্পত্তি বেহাতের আশঙ্কা' শীর্ষক খবরটিতে তাই আমরা ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। প্রতিবেদনটি বলছে, ১৯৭২ সালে জেলা প্রশাসন থেকে ১০ শতাংশ অর্পিত সম্পত্তি লিজ নিয়ে বরিশাল শহরের হাসপাতাল সড়কে সংগীত বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ জমিতে সরকার পক্ষে লিজ ছাড়া অন্য কারও স্বত্ব বা দখল থাকার কথা নয়। অথচ সেই বিদ্যালয়ের জমি কেনাসূত্রে নিজের দাবি করে আদালতে মামলা করেছেন জনৈক ব্যক্তি। যেখানে এমন একজন সম্মানিত ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতা থেকে চলে এসেছে, এমনকি জায়গাটি সরকারি সম্পত্তি- সেখানে কীভাবে টাকা দিয়ে সে জায়গা আরেকজন কিনতে পারে! এ সম্পত্তি কেনা ও বিক্রির মতো ঘটনা কীভাবে ঘটল, সেটা এক বিস্ময়! অভিযোগ রয়েছে, আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যালয়ের জমি দখলে জড়িত ভূমিদস্যুরা একই সঙ্গে প্রশাসনের অসৎ ব্যক্তিদেরও সেখানে হাত রয়েছে। আমরা মনে করি, মামলার বিবাদী জেলা প্রশাসনই জায়গাটি রক্ষা করতে পারে। এখন ক্রয়সূত্রে যারা বিদ্যালয়টিকে নিজেদের সম্পত্তি দাবি করছেন, তাদের দাবির অসারতা আদালতে খুব সহজেই প্রমাণ করা সম্ভব। বিদ্যালয়ের জমিটি নগরের প্রাণকেন্দ্রে ও মূল্যবান হওয়ায় জালিয়াতির মাধ্যমে কেউ কাগজ তৈরি করলে সেই কাগজ দেখে কেউ ক্রয় করলে, তার দায় তো জেলা প্রশাসনের নয়। ফলে আইন ও সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানে এমনিতেই বিদ্যালয়টির সম্পত্তি বেহাত হওয়ার কোনো আশঙ্কাই আমরা দেখি না। তার ওপর বিদ্যালয়টি যেখানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সুরকার আলতাফ মাহমুদের স্মৃতিচিহ্ন, সেখানে তা হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরা দেখেছি, বিদ্যালয়টি রক্ষায় ইতিমধ্যে বরিশালের সাংস্কৃতিক কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আমাদের প্রত্যাশা, তারা সফল হবেন। আমাদের এটাও বিস্ময়ের যে, শহীদ আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যালয়টি অত্যন্ত জরাজীর্ণ দশা। আমরা মনে করি, বিদ্যালয়টির সম্পত্তি নিয়ে শঙ্কা, একই সঙ্গে এর প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ার দায় বরিশাল জেলা প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।