জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা

সচেতনতা ও সুচিকিৎসা জরুরি

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

জনস্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে নানা সমস্যা ও অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার অবকাশ নেই। উন্নত দেশ তো বটেই, উন্নয়নশীল দেশেও উন্নয়নের পরিকাঠামোর অংশ বলে গণ্য করা হচ্ছে- রোগ কমলে মানুষের কর্মদক্ষতা বাড়বে, আর্থিক বৃদ্ধিও সহজ হবে। চিকিৎসাশাস্ত্রের বিকাশ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বিশ্বে অনেক সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। কিন্তু এর বিপরীত চিত্রও যে রয়েছে। রোববার সমকালে 'বেড়েছে ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ' শিরোনামে প্রকাশিত খবরটি এর প্রমাণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মাসে পৌনে দু'লাখ আক্রান্ত হয়েছে ও প্রাণহানি ঘটেছে ৩৮ জনের। ডায়রিয়া, আমাশয় সাধারণত অসচেতনতার কারণেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আমরা জানি, শ্বাসতন্ত্রের রোগ বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ পরিবেশগত। বায়ুদূষণ, শব্দদূষণসহ নানা রকম দূষণে আমরা আক্রান্ত। বায়ু যদি দূষিত হয় এবং এর কারণ হয়ে দাঁড়ায় প্রাণ হরণের, তবে এর চেয়ে আর ভয়াবহ কী হতে পারে। আমাদের দেশে বাতাসে দূষণের মাত্রা ভয়াবহ। আর এই দূষণ কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মৃত্যুর। 'দ্য স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার-২০১৯' শীর্ষক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে প্রকাশ, বিশ্বের যে পাঁচ দেশের মানুষ শতভাগ দূষিত বায়ুর মধ্যে বসবাস করে এর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সমীক্ষায় প্রকাশ, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে প্রায় সোয়া লাখ মানুষ বায়ুদূষণের কারণে মারা গেছে। ভাইরাসজনিত কারণে যেমন ডায়রিয়া, আমাশয়, শ্বাসতন্ত্রের রোগব্যাধি বাড়ছে, তেমনি এ ক্ষেত্রে মনুষ্যসৃষ্ট কারণও কম দায়ী নয়। পরিবেশ দূষণের জন্য মূলত মানুষই দায়ী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব রোগব্যাধি থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত রাখতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা জানি, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। আমরা মনে করি, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ব্যবস্থা আরও সুগম করা বাঞ্ছনীয়। সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। রোগব্যাধি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা দরকার। মনে রাখতে হবে, চিকিৎসায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ ঘটলেও জনস্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে আমরা এখনও অনগ্রসর। বিদ্যমান ব্যবস্থা বদলাতে হবে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে।