মুজিববর্ষে ভূমিহীন-গৃহহীন অসহায় মানুষকে নতুন ঘর উপহার দেওয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, এর আওতায় আরও প্রায় সাড়ে ৫৩ হাজার পরিবার পেতে যাচ্ছে নতুন ঘর। শুক্রবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে অসহায়দের এসব ঘর দেওয়া হচ্ছে। রোববার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিনামূল্যে দুই শতাংশ জমিসহ সেমিপাকা এসব ঘরের চাবি ওই পরিবারগুলোর কাছে তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা জানি, এর আগে আরও ৭০ হাজার পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগী হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও প্রায় এক লাখ পরিবার এর আওতায় আসার কথা রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গৃহীত অন্যতম এই কর্মসূচি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক, তা প্রশ্নাতীত। আমরা সরকারকে এ জন্য সাধুবাদ জানাই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে তারই স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নের এই কর্মসূচি সফলভাবে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার মধ্য দিয়ে নাগরিকের মৌলিক অধিকার পূরণের ক্ষেত্রে এ এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আমরা জানি, অন্ন-বস্ত্রের পরেই বাসস্থান নাগরিকের মৌলিক অধিকার। স্বাধীনতা-উত্তর পাঁচ দশকে দেশে দরিদ্রের হারই শুধু যে কমেছিল তা-ই নয়, অন্ন-বস্ত্রের অভাবও দূর হয়েছে।

কিন্তু চলমান মহামারি করোনা-দুর্যোগ ফের দারিদ্র্যের হার ঊর্ধ্বমুখী করেছে। দেশে নতুন দরিদ্রের সংখ্যা কত এ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ যে দরিদ্রের বৃত্তে ঢুকেছে, তাতে সন্দেহ নেই। এই জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নানারকম সহায়তামূলক কর্মসূচি চলমান আছে বটে, কিন্তু আমাদের প্রধান খাদ্যপণ্য চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দামের উল্লম্ম্ফন নেতিবাচক প্রভাবও ফেলেছে। আমরা মনে করি, নতুন দরিদ্রদের সঠিক সংখ্যা নির্ণয়ক্রমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বিস্তৃত করার পাশাপাশি তাদের শ্রেণিগত পরিবর্তনে মনোযোগ আরও গভীর করা জরুরি। আমরা মনে করি, গৃহহীন-ভূমিহীনদের পর্যায়ক্রমে গৃহ ও ভূমিদানের সরকারের ব্যাপক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকল্পে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার এ লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। নিকট অতীতে গৃহদান কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একজন মানুষও যাতে গৃহহীন না থাকে, সে জন্য সমগ্র বাংলাদেশের গৃহহীনদের নিরাপদ বাসস্থান তৈরি করে দেওয়া হবে। সরকারপ্রধানের এই অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি যথাযথ বাস্তবায়নে সংশ্নিষ্ট সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা জরুরি। কিন্তু কতিপয় অসাধু দায়িত্বশীলের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এরই মধ্যে কিছু নেতিবাচক চিত্রও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রয়েছে পরিকল্পনার ত্রুটিও।

আমরা প্রত্যাশা করব, অসহায়দের কল্যাণে সরকারের গৃহীত এই মহতী উদ্যোগ সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীল কারোর অনিয়ম-দুর্নীতি কিংবা স্বেচ্ছাচারিতায় যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, এ জন্য সরকার আরও সজাগ থাকবে। যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে সময় ক্ষেপণ না করে কঠোর, নির্মোহ পদক্ষেপ নিলে ভুক্তভোগীদের কল্যাণের পথ মসৃণ হবে। একেবারে প্রান্তিক, গরিব, অসহায়দের জন্য এই ব্যবস্থা অত্যন্ত দূরদর্শী। যারা গৃহহীন-ভূমিহীন রয়ে গেছে, তাদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় আনার ব্যবস্থা দ্রুততার সঙ্গে একই রকমভাবে সম্পন্ন করা হবে- এও আমাদের প্রত্যাশা। মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য নিরাপদ বাসস্থান অপরিহার্য। কারণ এর সঙ্গে মানুষের শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য তো বটেই কর্মক্ষমতার সম্পর্কও ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। আমরা আশা করি, যেসব বিপন্ন মানুষ তাদের স্বপ্নের ঠিকানা পেয়েছে, তাদের মধ্যে কর্মক্ষমরা জীবনের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সক্ষম হবে।

বিষয় : ঘর উপহার

মন্তব্য করুন