জঙ্গি আটক

নজরদারি ও সতর্কতার বিকল্প নেই

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

রাজধানী থেকে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবানের (টিটিপি) তিন সদস্য আটকের বিষয়টিকে এ ধরনের আর দশটি ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার অবকাশ নেই। বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদী ও জঙ্গি সংগঠনের যে তৎপরতা কমবেশি গত দেড় দশক ধরে দৃশ্যমান, তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জঙ্গিগোষ্ঠীর যোগসূত্র থাকলেও মাঠপর্যায়ে স্থানীয়দেরই দেখা গেছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী মিয়ানমারে তৎপর কিছু জঙ্গিগোষ্ঠীর রোহিঙ্গা সদস্যও আটক হয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, সুদূর পাকিস্তান থেকেও জঙ্গিরা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। আমাদের মনে আছে, গত বছর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর টিটিপির পক্ষ থেকে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় সম্পাদকীয় কলামে আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম_ 'জঙ্গিবাদবিরোধী আন্তর্জাতিক লড়াইয়ে বাংলাদেশের ভূমিকা মানবতা ও সভ্যতাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কতটা ক্ষুব্ধ করেছে, টিটিপির হুমকির মধ্য দিয়ে তা আরেকবার প্রমাণ হলো।...দেশের অভ্যন্তরেও জঙ্গিগোষ্ঠী ও তাদের দোসরদের নৈরাজ্য সৃষ্টির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।' দুর্ভাগ্যবশত স্বল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের আশঙ্কা প্রমাণ হতে যাচ্ছে। আটক তিন জঙ্গির কাছ থেকে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন, বাংলাদেশে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল এদের। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বা পরে বাংলাদেশি একটি চক্রের সহায়তায় এ নাশকতা চালানোর চেষ্টা করেছিল তারা। আরও আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, আটক তিন জঙ্গি একে-৪৭ ও এম-১৬ রাইফেলের মতো ভারী অস্ত্র চালানো ছাড়াও গাড়িবোমার মতো নাশকতায় সক্ষম। গাড়িবোমা হামলা ও এর ভয়াবহতার চিত্র আমরা পাকিস্তান-আফগানিস্তান ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সময়ে দেখেছি। বাংলাদেশের মতো জনবহুল এলাকায় এমন নাশকতার কুফল আরও ভয়াবহ হতে বাধ্য। তিনজন আটক হয়েছে বটে, এদের আরও সহযোগী ও দেশীয় দোসর নিশ্চয়ই রয়েছে। তাদেরও আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত আশঙ্কা কমবে না। একই সঙ্গে জঙ্গি-উপদ্রুত দেশগুলোর নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি প্রয়োজন। এই তিনজন কীভাবে প্রবেশ করেছে এবং অবস্থান করছে, তাও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে। আমরা চাই এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ এখনই সর্বোচ্চ নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। আমরা উদার, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে দেশি-বিদেশি জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রাণঘাতী ক্রীড়াক্ষেত্র হতে দিতে পারি না