'নতুন' সরকারের সামনে জরুরি কিছু অগ্রাধিকার

সুশাসন

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ

এটা আপাতত স্বস্তিকর যে অনেক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত আমাদের দেশে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর সংখ্যা এবং ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম থাকায় এ নির্বাচন দেশের ভেতরে ও বাইরে সমালোচনা কুড়িয়েছে, সন্দেহ নেই। কিন্তু সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার স্বার্থে এর বিকল্পও ছিল না। নির্বাচনের পর নতুন সরকার শপথ নিয়েছে এবং এ মাসের শেষ দিকে নতুন সংসদও অধিবেশনে বসবে। ইতিমধ্যে ভারত, রাশিয়া, চীনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউসহ প্রভাবশালী দেশ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোও বলেছে যে, নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তারা নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাবে। অভ্যন্তরীণভাবে নির্বাচনের আগে যে সংঘাতময় পরিবেশ বিরাজ করছিল এবং রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে জ্বালাও-পোড়াও ও হত্যা-নির্যাতনের ঘটনা ঘটছিল নির্বাচনের পর তা বহুলাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও অপেক্ষাকৃত নমনীয় ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছে। পরিস্থিতির এই স্বস্তিকর পরিবর্তনকে স্বাগত জানাই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জগুলো কী? ধারাবাহিক দ্বিতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনার সুযোগ পাওয়ার পর বর্তমান মেয়াদে সরকারের অগ্রাধিকার কী কী হতে পারে?
আমি মনে করি, নতুন সরকারের সামনে কয়েক ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে_ সেগুলো সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিস্তৃত। সামাজিক চ্যালেঞ্জের প্রথমেই রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা। নির্বাচনের আগের সংঘাতময় পরিস্থিতি যদিও এখন নেই, তবুও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক স্থানে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি এখনও বিরাজ করছে। এসব স্থানে স্বাভাবিক জনজীবন ফিরে আসেনি। পরিস্থিতির উন্নতি ও এর পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সেজন্য এসব হামলা ও আতঙ্কের জন্য যারা দায়ী তাদের শক্ত হাতে দমন করা জরুরি। যে দল বা গোষ্ঠীরই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
নির্বাচনের পর বিশেষভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একটি দেশে গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় আছে কি-না, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হচ্ছে সেখানে অসাম্প্রদায়িকতার ব্যাপকতা ও গভীরতা। নির্বাচনের আগে-পরে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেসব হামলা হয়েছে, তার প্রত্যেকটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। যারা এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং যারা এর নেপথ্যে রয়েছে, তাদের সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অনেক এলাকা থেকে অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় পর্যায়ের কিছু কর্মী-সমর্থক সংখ্যালঘু নির্যাতনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষভাবে তদন্ত জরুরি। যদি কেউ দায়ী হয়, তাহলে যে পর্যায়ের নেতাকর্মীই হোক না কেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনা বাঞ্ছনীয়। মনে রাখতে হবে, অতীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিচার হয়নি বলেই দুর্বৃত্তরা বারবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সাহস পায়। দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অত্যাচার-নির্যাতনের ঘটনা ঘটবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।
এর পাশাপাশি সংঘাত ও সন্ত্রাসের কারণে দেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা দ্রুত নিরূপণ করে যথাযথ ব্যবস্থার মাধ্যমে পুনর্বাসিত করতে হবে। ব্যক্তি পর্যায় ও প্রতিষ্ঠান পর্যায় ছাড়াও রাষ্ট্রীয় সম্পদেরও অনেক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ অফিস, রেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সরকার ইতিমধ্যে এসবের মেরামত ও সংস্কার কাজ শুরু করেছে। ব্যক্তি পর্যায়ে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যেমন_ বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, দোকান ভাংচুর ও লুট করা হয়েছে, অটোরিকশা, লেগুনা, মিনিবাস, বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজন নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্টরা আবার স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রক্রিয়ায় ফিরে যেতে পারেন। দুর্বৃত্তের হামলায় অনেকে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। সেই পরিবার যাতে স্বাভাবিক জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতে পারে, সেজন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। বস্তুত রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে ব্যক্তি পর্যায়ের বিপর্যয়ই বেশি ঘটেছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য অবিলম্বে জরিপ পরিচালনা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা খুবই জরুরি। সরকারের পাশাপাশি সক্ষমতা আছে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সংশ্লিষ্টদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে যেতে অনেক সময় লেগে যাবে। এমনকি যারা দরিদ্র ছিলেন না তারাও দারিদ্র্যের কবলে নিপতিত হতে পারেন।
অন্য যে অগ্রাধিকার সরকারের সামনে থাকা উচিত তা হচ্ছে, সংকট ও সংঘাতের কারণে অর্থনীতির ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে তা দূর করে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তোলা। হরতাল ও অবরোধের ফাঁদে পড়ে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত ও গ্রামীণ অর্থনীতি ব্যাপক মাত্রায় বিঘি্নত হয়েছে। এই দুই খাতের জন্য প্রণোদনার প্রয়োজন হতে পারে, যা শুধু পারিপাশর্ি্বকতা স্বাভাবিক করাও হতে পারে, নীতিগত পরিবর্তন হতে পারে আবার আর্থিক সহায়তাও হতে পারে। যে ক্ষেত্রে যা প্রয়োজন তা নিরূপণ করেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগ পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটেছে। দ্রুতই বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমি মনে করি, অর্থনীতির মূল ভিত বা 'ফান্ডামেন্টাল'গুলো সঠিক রয়েছে। ফলে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া হলে বিনিয়োগে এবং প্রবৃদ্ধি অর্জনে গতি ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে না। এ ক্ষেত্রেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। সন্ত্রাস ও সংঘাত দূর হলেই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আবার উদ্যোগী হয়ে উঠবে_ এ কথা জোর দিয়েই বলা যায়।
অনেকে আশঙ্কা করছেন প্রবৃদ্ধির হার কমে যাবে। আমি খুব বেশি আশঙ্কা করি না। আমার ধারণা, উলি্লখিত সাময়িক সমস্যাগুলোর সমাধান দ্রুত করা গেলে চলতি বছরেও প্রবৃদ্ধির হার কমবেশি ছয় শতাংশ থাকবে। ওই সমস্যাগুলো সৃষ্টি না হলে, এই হার আরও বাড়ত আমার ধারণা। তবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে সামাজিক জীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি পাবে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা সৃষ্টি হওয়ায় এবং শাসনতান্ত্রিক সংকট দেখা দেওয়ায় সরকার ও সরকারি দলের প্রতি জনআস্থায় ঘাটতি দেখা দেয়। এই আস্থা যত দ্রুত ফিরিয়ে আনা যাবে, নতুন সরকারের শাসনতান্ত্রিক কাজ তত সহজ হবে। সেই লক্ষ্যে উপর্যুক্ত করণীয়গুলো যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করা জরুরি।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি কিছু কাজও নতুন সরকারকে প্রথম থেকেই শুরু করতে হবে। এর একটি হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করা। তাদের জন্য মানবতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। তাদের সুশিক্ষা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের প্রতি আরও নজর দিতে হবে। কারণ তারাই দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতির ভবিষ্যৎ। মনে রাখতে হবে, উপযুক্ত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানহীন তরুণদেরই একটি অংশ রাজনৈতিক সহিংসতা ও সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হয়। যদি তরুণ প্রজন্মের সামনে সম্ভাবনার দুয়ার খোলা থাকে, তাহলে তারা অপকর্মে সম্পৃক্ত হবে না। নিজের উন্নতি ও দেশ গড়ার কাজে নিজেদের নিয়োজিত করবে।
দীর্ঘমেয়াদি আর যে কাজটি করা বাঞ্ছনীয় তা হচ্ছে সামাজিক বৈষম্য দূর করা। সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক বৈষম্য দূর করা টেকসই উন্নয়নের একটি পূর্বশর্ত। আরেকটি কাজ হচ্ছে কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা। জনআস্থা ফিরিয়ে আনার জন্যও দুর্নীতি দমন করা জরুরি। আমরা দেখেছি, অনেকের সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার চিত্র সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এ ধরনের আরও অনেক চিত্র হয়তো সংবাদমাধ্যম পর্যন্ত যায়নি, ধারণা করা যায়। এসব ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে যাদের আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ পাওয়া যায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় জনআস্থা তো কমবেই, অন্যরাও এভাবে দুর্নীতি করতে উৎসাহ পাবে। দুর্নীতিবাজ যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতেই হবে।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদারে এবং জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে গত মেয়াদে অসম্পূর্ণ মেগা প্রকল্পগুলো এবার শেষ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নাম আসবে সর্বাগ্রে। আমি মনে করি নিজস্ব অর্থায়নেরই পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ কথা একাধিকবার বলেছেন। নতুন সরকারের শুরু থেকেই এ প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রসর হওয়ার দরকার। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল ১৮ বিলিয়ন ডলারে ইতিমধ্যে উন্নীত হয়েছে। সেখান থেকে দুই-আড়াই বিলিয়ন ডলার পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য ব্যয় করা কঠিন নয়। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক অর্থলগি্নকারী কোনো সংস্থা বা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে এ ক্ষেত্রে সহায়তা চাওয়ার প্রয়োজন নেই। এ ছাড়াও সরকার এই মেয়াদে গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নেও অগ্রসর হতে পারে।
আরও একটি অগ্রাধিকার নতুন সরকারের সামনে থাকা জরুরি, তা হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা নিশ্চিত করা যায়নি। এ সংকট কাটাতে হবে সংলাপের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার বলেছেন। বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াও ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সোমবার আয়োজিত জনসভায় সংলাপের কথা বলেছেন। আমি আশা করব, এখন সরকার এবং বিএনপি উভয়েই এ ব্যাপারে এগিয়ে আসবে। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে এবং অন্যান্য কারণে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত গোষ্ঠীগুলোকে এই সংলাপ প্রক্রিয়ায় আনা যাবে না। বস্তুত তাদের অবশ্যই আইনের মুখোমুখি করতে হবে, আইনের শাসনের স্বার্থেই। আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে যে কোনো সংকটেরই সমাধান সম্ভব। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে মানবকল্যাণমুখী রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি সৎ থাকতে হবে। সব রাজনীতিকই বলেন তারা জনকল্যাণের জন্য রাজনীতি করেন। আমি মনে করি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাতেই রয়েছে জনকল্যাণ ও মানব মর্যাদার স্বীকৃতি। সব রাজনৈতিক দল যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকে এবং সেভাবে কাজ করে, তাহলেই এ দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অগ্রগতি, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতায় যারা থাকেন, তাদের দায়িত্ব অবশ্যই বেশি এবং সরকারি দল সেটা অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আমি আশা করি। তবে কি সরকারি দল কি বিরোধী দল_ সবাইকে একটি জনকল্যাণধর্মী গণতান্ত্রিক সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে ও বজায় রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

অর্থনীতিবিদ