হালদা মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র

হ্যাচারির সক্ষমতা বাড়াতে হবে

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদায় মা মাছের ছাড়া ডিম থেকে আধুনিক পদ্ধতিতে পোনা ফোটানোর হ্যাচারিগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী সুফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়া, লোকবলের অভাব এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক ও কার্যকর কর্মকুশলতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। শনিবার সমকালে প্রকাশিত 'কোটি টাকার হ্যাচারিতে ত্রুটি, সুফল পাচ্ছেন না জেলেরা' শিরোনামের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে কীভাবে পোনা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং সরকারের লাখ লাখ টাকা গচ্চা যাচ্ছে, তা বোঝা যাবে। প্রাকৃতিক এই মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রটি থেকে সুফল পুরোপুরি না পাওয়া যাওয়াটা এক অর্থে যে জাতীয় ক্ষতির পর্যায়ে পড়ে তা কিন্তু বিস্মৃত হওয়া চলে না। কারণ এ ব্যর্থতার কারণে সাধারণ মানুষকে আমিষের মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ প্রোটিনের জোগান দেওয়া যেত তা কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না। এতে সীমান্তের ওপার থেকে আইনি-বেআইনি পথে বিদেশ থেকে আসা মাছের সরবরাহের ওপর আমাদের অধিক হারে নির্ভর করতে হচ্ছে। অথচ কেন্দ্রীয়ভাবে এ ব্যাপারে নজরদারি থাকলে এবং মৎস্য বিভাগ প্রকল্পটি নিয়ে তৎপর থাকলে তিনটি হ্যাচারির কার্যক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা যেত। এতে রাউজানে প্রতিষ্ঠিত হ্যাচারিগুলোর ওপর নির্ভরশীল জেলেরা অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী মূল্যে সবল পোনা পেতে পারতেন। অথচ মাত্র ৫ বছর আগে রাউজানে হালদা নদীর পাড়ে প্রতিষ্ঠিত তিনটি হ্যাচারির প্রত্যেকটিই ফুটো হয়ে গেছে। এতে এগুলোর সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। ফুটোগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা কি বিরাট বাজেটের বিষয়! সামান্য অর্থ হলেই এগুলো করা যায়। প্রকল্প পর্যায়ে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন তাদের এ প্রকল্পের জাতীয় গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থতা এবং মৎস্য বিভাগের ঊর্ধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা এ অবস্থা সৃষ্টির জন্য দায়ী। বৃষ্টিপাত কম হওয়ার পর ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করতে গিয়েও বিপত্তি দেখা দিয়েছে। ওই পানিতে আয়রনের মাত্রা বেশি থাকায় অনেক ডিম পোনা ফোটানোর পর্যায়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটা একটি বড় দুঃসংবাদ বটে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ নিশ্চয়ই আছে। পানিতে আয়রনের পরিমাণ সুষম করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি না থাকার কোনো কারণে নেই। প্রয়োজন এটা প্রয়োগের জন্য তহবিল জোগানো এবং সর্বোত্তম পদ্ধতি প্রয়োগ করা। এ ক্ষেত্রে জাতীয় প্রয়োজনকে উপলব্ধিতে এনে তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার মতো মানসিকতা থাকা চাই। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাউজানে হালদা নদীর কিনারায় তিনটি পয়েন্টে স্থাপিত হ্যাচারির প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় আধুনিক পদ্ধতি সংযোজন করে এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানাই।