বিশ্ব কাঁপে

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪

একরামুল হক শামীম

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৪ উপলক্ষে তৈরি করা একটি বিজ্ঞাপনের ভাষা এমন_ 'এ শুধু ফিফা বিশ্বকাপ নয়, এ হচ্ছে বিশ্বের কাপ'। আদতেই এটি বিশ্বের কাপ। বিশ্বকাপ উন্মাদনায় মত্ত বিশ্ববাসী। বিশ্বকাপে যেন বিশ্ব কাঁপে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের সমর্থন বিবেচনায় নিয়ে এটিকে যেমন বিশ্বের কাপ বলা যায়, আবার অংশগ্রহণ বিবেচনায়ও একই কথা বলা যায়। ফিফার সদস্য সংখ্যা ২০৮। এর মধ্যে ২০৩টি জাতীয় দল ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের জন্য বাছাইপর্বের খেলায় অংশগ্রহণ করে। ২০১১ সালের ১৫ জুন থেকে শুরু হয়ে বাছাইপর্বের খেলা শেষ হয় ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর। বাছাইপর্বের খেলায় ২০৩টি জাতীয় দলের অংশগ্রহণই স্পষ্ট করে দেয় এটি বিশ্বের কাপ। এতগুলো দেশের প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত আসরের জন্য টিকে থাকে ৩২টি দল। ৩২ দলের ৭৩৬ খেলোয়াড়ই আগামী এক মাস মাতিয়ে রাখবে বিশ্ববাসীকে। ১৩ জুলাই ফাইনালে যে দলটির হাতে উঠবে কাপ সে দলই তো বিশ্বের সেরা। তার আগে তো মাসব্যাপী এই বিশ্বকাপ উৎসব চলবে পৃথিবীজুড়ে। এ এমনই এক উৎসব যা দেশ, সীমানা, ভাষা, সংস্কৃতির ভেদরেখাকে টলিয়ে দিয়ে সবাইকে একই সুতোয় বুনে নিতে পেরেছে।
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশ কখনোই যেতে পারেনি, এ তথ্য তো সবারই জানা। তাই বলে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত সংযোগ নেই এমনটা বলা যাবে না। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের জন্য খেলেছিল বাংলাদেশ। তারপর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে এমনকি দ্বিতীয় পর্বে উত্তীর্ণ হয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১১ সালের ২৯ জুন ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বাছাই প্রথম পর্বের খেলায় পাকিস্তানকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছিল বাংলাদেশ। ফিরতি খেলা ড্র হয়। দ্বিতীয় পর্বে উত্তীর্ণ হয়ে লেবাননের বিপক্ষে খেলে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ৪-০ গোলে হারলেও ফিরতি ম্যাচে ২-০ গোলে জয়লাভ করে বাংলাদেশ। তবে গোলগড়ে বাছাইপর্ব থেকেই বাদ পড়ে যায় বাংলাদেশ। অংশগ্রহণ বিবেচনায় বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা ফুটবল বিশ্বকাপে নেই, কিন্তু সমর্থন বিবেচনায় বাংলাদেশ অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে। এখানে বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে যে উন্মাদনা তৈরি হয় তার পরিমাণ বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে বেশি।
প্রিয় দলের জার্সি পরে ঘুরে বেড়ানো, পতাকা টানানো, দলের পক্ষে তর্ক করাসহ আরও নানা বিষয় ফুটবল উন্মাদনার অংশ। বাংলাদেশের দর্শকদের এমনিতে লাতিন ফুটবল দল, বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দলের প্রতি আলাদা টান রয়েছে। তাই তো দেখা যায় কোনো এলাকায় কেউ ব্রাজিলের বড় পতাকা টানালে, আর্জেন্টিনার সমর্থকরা তার চেয়ে বড় পতাকা টানাতে চেষ্টা করে। কেউ আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে বাড়ি রাঙিয়ে তুললে, ব্রাজিলের সমর্থক ব্রাজিলের পতাকার রঙে বাড়ি রাঙিয়ে দেয়। বিশ্বকাপ উৎসবের আনন্দকে এভাবেই বাড়িয়ে তুলে ভক্তদের অংশগ্রহণ।
বিশ্বকাপ বিশ্ব কাঁপাবে বলা হলেও শঙ্কা পুরোপুরি দূর হয়নি। বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে ব্রাজিলে বর্তমানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভকারীরা নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে রাজপথে। দৈনন্দিন জীবনের নানা দাবি-দাওয়া কেন্দ্র করেই এই বিক্ষোভ। বিশ্বকাপ আয়োজনের চেয়ে নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা আগে জরুরি_ এমনটাই বিক্ষোভকারীদের অভিমত। এত কিছুর পরও আশা টিকে আছে ব্রাজিলের মানুষের ফুটবল উন্মাদনার সলতেতে। ধরে নেওয়া যায় বিশ্বকাপের উদ্বোধন হয়ে গেলেই সেই সলতে জ্বলে উঠবে। বিশ্বকাপে তখন কাঁপবে বিশ্ব।