বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য

সব বাধা দূর হোক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

আগামী পাঁচ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য বর্তমানের প্রায় দ্বিগুণ হয়ে টেন বিলিয়ন ডলার বা এক হাজার কোটি ডলারে পেঁৗছাবে_ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসারে আগ্রহী সবার জন্যই এ তথ্য উৎসাহব্যঞ্জক। গত অর্থবছরে দুই নিকট প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৬০ কোটি ডলার। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন ও পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জেনারেল (অব.) ভিকে সিং রোববার ঢাকায় ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স এবং বাংলাদেশের ইন্ডিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি দুই দেশকেই ঔপনিবেশিক ধ্যান-ধারণা পাল্টানো এবং ব্যবসা প্রক্রিয়া সহজতর করার তাগিদ দিয়েছেন। তার প্রত্যাশা পূরণ হলে এক বছরে টেন বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য হতেই পারে। আমাদের মুদ্রায় যা প্রায় ৭৯ হাজার কোটি টাকা। যারা বাণিজ্যে বসতি লক্ষ্মী প্রবাদে আস্থা রাখেন, তারা এ লক্ষ্য অর্জনে অবশ্যই খুশি হবেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে_ হিস্যা কী হবে? কার ভাগে কতটা মিলবে? সরকারি তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে যে ৬৬০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে রফতানি করেছে ৬০ কোটি ডলারের মতো পণ্য এবং আমদানি করেছে তার ৬০০ কোটি ডলারের মতো পণ্য। অর্থাৎ বাংলাদেশ ভারত থেকে রফতানির ১০ গুণ পণ্য আমদানি করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরিখে এ পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। এর বাইরেও রয়েছে চোরাপথের বাণিজ্য, যার পরিমাণ বৈধ পথের তুলনায় মোটেও কম নয় এবং এর সুফল প্রধানত ভারতই ভোগ করে। ভারতের অর্থনীতি বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বড়। এ কারণে পূর্ণ বাণিজ্য ভারসাম্য কেউ প্রত্যাশা করে না। তদুপরি ভারত থেকে আমদানি করা কয়েক ধরনের কাঁচামাল আমরা উন্নত দেশের বাজারে পণ্য রফতানির জন্যও ব্যবহার করে থাকি। তাই বলে এত পার্থক্য হবে কেন? এমনকি ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাওয়ার পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটেনি। রোববার দুই দেশের বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা পণ্য রফতানি বাড়াতে ভারতের তরফে আরোপিত অশুল্ক বাধা অপসারণের তাগিদ দিয়েছেন। দুই দেশের অবকাঠামো সমস্যার প্রসঙ্গও এসেছে। ভারতে প্রবেশের সময় বাংলাদেশের রফতানি পণ্যবাহী যানবাহনগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়_ এ তথ্য জরুরি করণীয় উপস্থিত করে এবং তার সমাধান ভারতীয় পক্ষের হাতে। ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্যবসায় প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলেছেন এবং এর সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশের অবকাশ নেই। এ ক্ষেত্রে যাবতীয় বাধা অপসারণে প্রধান ভূমিকা কিন্তু ভারতীয় পক্ষকেই গ্রহণ করতে হবে। এটা ঠিক যে, বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের ঝুড়িতে খুব বেশি পণ্য নেই। এর সমাধানে বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। আবার ত্রিপুরার প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগানোর জন্য সেখানে বাংলাদেশি শিল্পপতিদের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন সে রাজ্যের একজন মন্ত্রী। সীমান্ত বাণিজ্যের ধীরগতির প্রসঙ্গও এসেছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান সীমান্ত হাটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেছেন, একুশ শতকের সমস্যাকে উনিশ শতকের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে। দুই দেশের নীতিনির্ধারকরাই চাইছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হোক। ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যবসাবান্ধব হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য বাড়াতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি, সেটা নিশ্চয়ই তিনি অনুধাবন করতে পারবেন।