ম্যালেরিয়া ঝুঁকি

আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ল কেন?

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় ম্যালেরিয়া পরিস্থিতির অবনতির খবর আমাদের উদ্বিগ্ন করছে। সোমবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যাচ্ছে, কয়েক বছর ধরে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গত দুই মাসে তা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ম্যালেরিয়ায় ওই অঞ্চলে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত আরও ১৪ হাজারের বেশি। মৃত ও আক্রান্তের এই সংখ্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে আমরা মনে করি। আমরা জানি, দেশে বিশেষত বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলে ম্যালেরিয়া ঝুঁকি অনেক পুরনো। সেখানকার ভূপ্রকৃতিই ম্যালেরিয়া মশার বংশবিস্তারের জন্য সহায়ক। পাশাপাশি আমরা এও জানি, ম্যালেরিয়ার হাত থেকে মানুষকে রক্ষা এবং এর বিস্তার রোধে একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে একটি বিশেষ এলাকায় সীমাবদ্ধ একটি বিশেষ প্রজাতির মশক এতদিনেও নির্মূল কঠিন হওয়ার কথা ছিল না। উপরন্তু এই রোগে প্রাণহানির ঘটনা হঠাৎ কেন বেড়ে গেল, তা বড় প্রশ্ন হয়েই থাকবে। সাধারণভাবে মনে করা হতো, আক্রান্ত এলাকাগুলোয় ম্যালেরিয়া প্রতিরোধক বিশেষ মশারি ব্যবহার করলেই ঝুঁকি অনেক কমে যায়। কমে যায় রোগের বিস্তার। পাহাড়ি অঞ্চলে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিশেষ মশারিও সরবরাহ করা হচ্ছে। সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিতরণকৃত ও বিতরণের জন্য মজুদ মশারিগুলোর কার্যকারিতা এ বছর শেষ হয়ে যাচ্ছে। সে কারণেই কি আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেল? আমরা চাই, কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখুক মেয়াদ না থাকা সত্ত্বেও মশারি পুনঃস্থাপন বা বিতরণ করা হয়েছে কার স্বার্থে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার এক কর্মকর্তা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ম্যালেরিয়া মশক বৃদ্ধির যে ধারণার কথা বলেছেন, তাও খতিয়ে দেখা হোক। এটা স্বস্তিকর যে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই তিন পার্বত্য জেলাসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় জরুরি কার্যক্রম গ্রহণ, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিশেষ টিম পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু মনে রাখা জরুরি_ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সদিচ্ছা মাঠ পর্যায়ে প্রতিফলিত করা না গেলে সকলই গরল ভেল। এই খাতে কর্মরত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয়েও জোর দিতে হবে। জোর দিতে হবে সচেতনতামূলক কর্মসূচিতেও। পাশাপাশি ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ ও নির্মূলের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিগুলো আরও বাস্তবানুগ ও কার্যকর করার আহ্বান জানাই আমরা। ম্যালেরিয়া আমাদের পুরনো সমস্যা বটে, সেটা চিরস্থায়ী হতে পারে না।