পাসপোর্টপ্রাপ্তি

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

তন্ময় হক

পাসপোর্টপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভোগান্তির সংবাদ মাঝে মধ্যেই সংবাদপত্রগুলোতে দেখা যায়। পাশাপাশি ভুয়া পরিচয়পত্র, ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্ট নেওয়ার ঘটনাও ঘটে থাকে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় ভোগান্তি হয় বলে কেউ কেউ অভিযোগ করে থাকেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েও বলা যায়, পাসপোর্টপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এখন অনলাইনে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা সম্ভব হচ্ছে। এমনকি পাসপোর্টের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার কাজও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে করা যাচ্ছে। মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট চালু করার পর জালিয়াতি কিছুটা হলেও কমেছে।
সম্প্রতি বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো, সব জেলায় পাসপোর্ট অফিস স্থাপন। বর্তমানে দেশের ৩২টি জেলায় ৩৪টি কার্যালয়ের মাধ্যমে পাসপোর্ট ইস্যু করা হচ্ছে। এতে পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। জানা গেছে, চলতি বছরের মধ্যেই দেশের ৬৪টি জেলায় পাসপোর্ট অফিস চালু হবে। এর ফলে নিজের জেলা থেকেই আবেদন করা যাবে এবং পাসপোর্টপ্রাপ্তিতে ভোগান্তি কমবে। তবে আঞ্চলিক অফিসগুলো যাতে জনগণের কাছে সেবা পেঁৗছে দেওয়ার ব্যাপারে একাগ্র থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রয়োজনে আঞ্চলিক অফিসগুলোর কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
ভুয়া ঠিকানা ও পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরি করে নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রোহিঙ্গাদের অনেকেই এভাবে পাসপোর্ট তৈরি করে নিচ্ছেন। পরে সেই পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। এছাড়া একই ব্যক্তির একাধিক পাসপোর্ট তৈরির প্রবণতাও রয়েছে। অবশ্য মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট পদ্ধতি চালুর পর সেই প্রবণতা কিছুটা হলেও কমেছে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে ঘিরে এ রকম নেতিবাচক খবর রয়েছে। তবে এটিও মনে রাখতে হবে, নানা সীমাদ্ধতা সত্ত্বেও প্রতিদিন যে সংখ্যায় পাসপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে তা প্রশংসনীয়। সম্প্রতি বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডার ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি কার্যকর করা গেলে নিঃসন্দেহে অনেক রকমের জটিলতার নিরসন হবে। তখন পাসপোর্টের জন্য কেউ আবেদন করলে তার ঠিকানা ও পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্যের ভেরিফিকেশনের জন্য সহজেই জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডার থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে। এটি পাসপোর্টে জালিয়াতি কমিয়ে আনতে পারবে। তবে এজন্য অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র নির্ভূল ও হালনাগাদ হতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত বয়স হলেই যাতে সহজে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন বিষয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তারা ভেরিফিকেশন পদ্ধতি উঠিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তাদের মত অনুযায়ী, কেউ জাতীয় পরিচয়পত্র পেলে বিনাশর্তে পাসপোর্ট পাওয়া উচিত। পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় নানারকম ভোগান্তি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় অর্থের আদান-প্রদানও ঘটে থাকে। ভেরিফিকেশনের ফাঁক গলে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্টপ্রাপ্তির বিষয়টি অভিযোগের সত্যতা তুলে ধরে। জানা গেছে, এক মাসের মধ্যেই পাসপোর্ট অধিদপ্তর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারে যুক্ত হবে। পাসপোর্ট অধিদপ্তর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারে যুক্ত হলে ভেরিফিকেশনের কাজটিও সহজ হয়ে যাবে। তখন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন মনে করলে পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন উঠিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে পাসপোর্টপ্রাপ্তির বিষয়টি সহজ হোক, এটাই কাম্য।