চিঠিপত্র

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

কার্ডের সুফল পাক কৃষক
সরকার ২০১০ সালে দেশের কৃষকদের ভর্তুকি সাহায্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ছবিযুক্ত কৃষিকার্ড বিতরণের এক যুগান্তকারী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। কৃষি কার্ডধারী ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে দশ টাকার বিনিময়ে সঞ্চয়ী হিসাব খোলার সুযোগ পান। এ সুযোগে সারাদেশে কৃষক কর্তৃক প্রায় ৯৭ লাখ সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে প্রকাশ। সে বছর ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের বোরো ফসলে বাড়তি সেচ খরচ পুষিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যাংকের এই হিসাব নম্বরের বিপরীতে নির্বাচিত কৃষকদের নগদ ভর্তুকি সাহায্য দেয় এবং আউশ আবাদ বৃদ্ধি সহায়তা হিসেবে উপকরণ কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের সার দেওয়া হয়। এই কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড ব্যবহারের কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকায় তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি অথবা সংশিল্গষ্ট কৃষক কোনো উপকরণ সহায়তা না পাওয়ার ক্ষোভে অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট করে ফেলেছেন। সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পুরনো কার্ড সংগ্রহ করে নতুনভাবে কার্ড সরবরাহের জন্য মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা জারি করে। এতে বিপত্তিতে পড়েছেন তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত কৃষি কর্মকর্তারা। কেননা কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডের কোনো কার্যকারিতা এবং এর সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় সাধারণ কৃষকরা এই কৃষিকার্ড তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। তাই জনস্বার্থে এই কৃষি উপকরণ কার্ডের বাস্তব কার্যকারিতার ব্যবস্থা করা দরকার।
স ম ফরিদ
ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম
পাবলিক বাসের বিড়ম্বনা আর কত?
দৈনন্দিন জীবনে আমাদের প্রতিনিয়ত ঘরের বাইরে প্রয়োজনে ছুটতে হয়। যাতায়াতের প্রয়োজনে বাসে উঠতে হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে বাস না পাওয়া, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে বাসে উঠতে না পারা, নারীদের পর্যাপ্ত সিটের ব্যবস্থা না থাকা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এসব দেখবে কে? এজন্য প্রশাসন এবং বাস মালিক কর্তৃপক্ষকে একটু রুচিশীল চিন্তা করতে হবে। প্রতিটি বাসের একটি গেট পুরুষ এবং আরেকটি গেট নারীদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ থাকলে বাসের ভেতরের পরিবেশটা সুশৃঙ্খল থাকে। তাছাড়া নারীদের আলাদা বাসের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত বাসের অর্ধেকটা সিট নারীদের জন্য বরাদ্দ করা দরকার। বেশ কিছু বাসে ফ্যানগুলো অকেজো হয়ে আছে। সে ব্যাপারে বাস কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যেসব বাসে ফ্যান নেই, সেসব বাস কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আশা করি জাগ্রত হবে।
সাগরিকা
রামপুরা
দালাল থেকে মুক্তি দিন
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা ঝিনাইদহ। সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামগুলোতে বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধভাবে পানিপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সংখ্যা। এ সংখ্যা বেশিমাত্রায় বেড়েছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলায়। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি মাস পর্যন্ত এ উপজেলার প্রায় ৮ শতাধিক অল্প বা স্বল্পশিক্ষিত লোক পাড়ি জমিয়েছে পানিপথে মালয়েশিয়া। স্থানীয় এক দৈনিকের খবর অনুযায়ী, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় বিজিবি ও কোস্টগার্ডের হাতে ধরা পড়েছে অন্তত ৬৫ জন এবং ঠিক সময় টাকা না পাওয়া বা দালালদের অন্তর্দ্বন্দ্বে উপজেলাতে কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছেন। তারপরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ঝিনাইদহ সদর থানাসহ বিভিন্ন উপজেলায় এসব দালালের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ! আর যেখানে প্রশাসনের ভূমিকা নির্বিকার সেখানে সাধারণ মানুষেরই-বা কী করার আছে! বর্তমানে যখন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের জন্য বিদ্যমান শ্রমবাজার বন্ধ, ঠিক তখনই এক শ্রেণীর আদম ব্যবসায়ী বিভিন্ন প্রলোভনে গ্রামের অর্ধ বা অশিক্ষিত লোকদের অবৈধভাবে পানিপথে পাচার করছে মালয়েশিয়ায়।
মাহবুব হাসান
হরিণাকুণ্ডু, ঝিনাইদহ
বাড়ি ভাড়ায় বৈষম্য নয়
সরকারি চাকরি বদলির চাকরি। নতুন নতুন জায়গায় গিয়ে বাড়ি ভাড়া করেই তাদের থাকতে হয়। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেসিক বেতনের সঙ্গে বাড়ি ভাড়াও দেওয়া হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সে টাকা দিয়ে বাড়ি ভাড়া হয় না। ফলে যাদের বদলির চাকরি সত্যিকারার্থেই বদলিকৃত এলাকার চাহিদা অনুপাতে বাড়ি ভাড়া প্রদান করা প্রয়োজন। যাদের বাড়ি ভাড়া থাকতে হয় না, তাদের অনুপাতে যদি বেতন প্রদান করা হয় তাহলে বৈষম্যের শিকার হয়। এ বৈষম্য দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।
মো. এরশাদ আলী
নওগাঁ