ত্রিশ বছরে এসএসএফ

ফিরে দেখা

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০১৫      

আসিফ কবীর

সাংবিধানিকভাবে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা প্রদান এবং নিরাপত্তা সংশিল্গষ্ট বিভিন্ন বাহিনী/সংস্থা/সেবাদানকারী সংস্থার সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ক প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত। আজ এ বাহিনীর ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এছাড়াও বিদেশি সরকারপ্রধান বা অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাংলাদেশ সফরকালীন সময়ে যথাযথ নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব পালন করে থাকে।
প্রতিষ্ঠাকালীন প্রেসিডেন্ট সিকিউরিটি ফোর্স বা পিএসএফ নব্বই দশকের প্রারম্ভে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তিত হলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সরূপে পরিচিতি পায়। সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, উগ্র মৌলবাদ, জাতিগত ও গোষ্ঠীগত বিরোধ এবং প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন ও সহজলভ্যতা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় অভিনব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে। নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে তাই এসএসএফ সহায়তা প্রদানকারী সব নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য সহযোগী সংস্থা-সংগঠন নিয়ে যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা প্রদানে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নতুন পদ্ধতি যুক্ত করতে হয়। এই বাহিনীতে কর্মরত সব সদস্য নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্বকে শুধু পেশা হিসেবে দেখা না, বরং মহৎ কর্তব্য এবং ব্রত হিসেবে ধারণ করে থাকে। এই প্রতিশ্রুতিশীলতার জন্য এসএসএফের সব সদস্য জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়াতেও কুণ্ঠিত নয়।
এসএসএফের মূল চালিকাশক্তি এর নিরাপত্তা সদস্যরা। তারা বিভিন্ন পদবির কর্মকর্তা, যাদের সশস্ত্র বাহিনীসহ পুলিশ ও আনসার বাহিনী হতে প্রেষণে এ বাহিনীতে প্রেরণ করা হয়ে থাকে। পরে ৩ মাস তাত্তি্বক, মৌলিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ শেষে শুধু প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনকারী কর্মকর্তা নিরাপত্তা রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ মহাপরিচালক কর্তৃক 'এসএসএফ পিন' প্রদানের মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়। মৌলিক প্রশিক্ষণে শরীর চর্চা, আগ্নেয়াস্ত্র পরিচালনা, সংশিল্গষ্ট নিরাপত্তা আইন এবং সংশিল্গষ্ট বিষয়াদির তাত্তি্বক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এ বাহিনীর প্রশিক্ষণ মান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত।
২০১১ সালে এসএসএফ প্রশিক্ষণ শাখা ১৬ জন প্যালেস্টাইনি নিরাপত্তা কর্মীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে। এছাড়াও ভুটান, মালদ্বীপ ও অন্যান্য দেশ প্রশিক্ষণের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি, অফিসারদের উচ্চতর নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণের জন্য ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যে প্রেরণ করা হয়। বর্তমান নিরাপত্তা ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশিক্ষণ পদ্ধতি যুগোপযোগী ও আধুনিকায়নের জন্য তুরস্ক, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, পোল্যান্ড এবং ভারতে প্রশিক্ষণ মূল্যায়ন দল প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও যে কোনো আক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য অতিরিক্ত কৌশলগত সহায়তা দলকে নিয়োজিত করা হয়েছে।
এসএসএফ ব্যাপকার্থে যে নিরাপত্তা বিধান করে তার সবটাই দৃশ্যমান নয়। এমনকি সর্বসাধারণের অনুমেয়ও নয়। ভিভিআইপির (তার) আবাসস্থল থেকে গন্তব্য পর্যন্ত পথের সার্বিক নিরাপত্তাও তাদের দেখতে হয়। যাতায়াত পথের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অস্বস্তিগুলো এড়ানোর খেয়ালও তাদের রাখতে হয়।
ভিভিআইপির অবস্থানের নিকটবর্তী আকাশে প্লেন-চপারের উড্ডয়নের অনুমতি বিধান বা চলার পথে রেলক্রসিং থাকলে ট্রেনের সময়সীমা জানা, এমনকি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থ সংশিল্গষ্ট তথ্য আদান-প্রদানকালে অনাহূত নজরদারি বা আড়িপাতা নিষ্ক্রিয়করণের তদারকি করতে হয়। আকাশপথে চলাচলে উড়োজাহাজ বা হেলিকপ্টারের ফিটনেস দেখা থেকে বিদেশেও আমন্ত্রণকারী দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে এসএসএফ।
এ কাজের জন্য তাদের প্রস্তুতিও দীর্ঘমেয়াদি ও কষ্টসাধ্য। একটি ভিভিআইপি ভেন্যুর জন্য আগাম সমন্বয় সভা করতে হয় দুই সপ্তাহ আগেই। রাখতে হয় গ্রাফিক্স পরিকল্পনা, যে কোনো অনাহূত পরিস্থিতি মোকাবেলা প্রস্তুতি ও বিকল্প ভাবনা। অনুষ্ঠান এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা, ইভেন্টগুলোর মহড়া, আনুষ্ঠানিকতার ক্রমন্বয় ঠিক রাখা, অনুষ্ঠানের মর্যাদা ও গুরুত্ব সমুন্নত রাখা, অনাকাগ্ধিঙ্ক্ষত সময়ক্ষেপণ কিংবা অনুমোদনহীন কোনো পর্ব ঘটতে না দেওয়ার প্রতি দৃষ্টি রাখতে হয়। আগের রাতে দ্বিপ্রহরের পূর্বেই নিরাপত্তা বেষ্টনী গঠন নিশ্চিত করতে হয়। ভিভিআইপি অনুষ্ঠান শুরুর তিন ঘণ্টা আগে চূড়ান্তভাবে এসএসএফ সদস্যরা অনুষ্ঠানস্থলের দায়িত্ব বুঝে নেন।
২০০৯ সালে মহাজোট সরকার গঠন করলে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়টি এ বাহিনীর প্রধান ফোকাস হয়। এ সময়ে বাহিনীর নীতিনির্ধারকরা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিধানে সর্বোচ্চ সতর্কতা সত্ত্বেও তার জনসম্পৃক্ততা ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া কোনোভাবেই ব্যাহত না হওয়ার ওপর জোরারোপ করেন। বর্তমান সময়ে মেজর জেনারেল শেখ মোহাম্মদ আমান হাসান, এনডিইউ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিধানে সাম্প্রতিকতম দুই পূর্বসূরির নিরাপত্তা কৌশল সমুন্নত রেখেছেন। আমরা আশা করব, ত্রিশে পা রাখা এ বাহিনী তাদের লক্ষ্য হিসেবে ক্রমবর্ধিষুষ্ণ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলা করেও গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানতম ব্যক্তি ও বঙ্গবন্ধুকন্যার জনসম্পৃক্ততা, সর্বসাধারণের সঙ্গে সহজ-সাবলীল আদান-প্রদান (যে কোনো সময়ের চেয়ে বৃহৎ) গণমাধ্যমের বহুবচন অভিগম্যতার অধিকারকে আক্ষরিক ও প্রায়োগিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
নিরাপত্তা কৌশল বিশ্লেষক

পরবর্তী খবর পড়ুন : চিরসবুজ তারুণ্য

ঘরের মাঠে মস্কোয় বিধ্বস্ত রিয়াল

ঘরের মাঠে মস্কোয় বিধ্বস্ত রিয়াল

রাশিয়া নামক এক জুজু বুড়ির ভয় ভর করেছে রিয়ালের ওপর। ...

হারাচ্ছে জমি, অস্তিত্ব সংকটে সমতলের আদিবাসীরা

হারাচ্ছে জমি, অস্তিত্ব সংকটে সমতলের আদিবাসীরা

'জমি চাই মুক্তি চাই' স্লোগানে ১৮৫৫ সালে সাঁওতাল নেতা সিধু, ...

'কোল্ড আর্মসে' কক্সবাজার সৈকতে দুর্ধর্ষ হামলার ছক

'কোল্ড আর্মসে' কক্সবাজার সৈকতে দুর্ধর্ষ হামলার ছক

দুনিয়াব্যাপী কমান্ডো নাইফ এবং বিশেষ ধরনের ছুরি ও চাকু 'কোল্ড ...

সহিংসতা রোধে ইসিকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ আওয়ামী লীগের

সহিংসতা রোধে ইসিকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ আওয়ামী লীগের

দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট সহিংসতা ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আরও ...

গ্রেফতার হামলা বন্ধে সিইসির হস্তক্ষেপ চায় বিএনপি

গ্রেফতার হামলা বন্ধে সিইসির হস্তক্ষেপ চায় বিএনপি

প্রতীক বরাদ্দের পরও বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি, গ্রেফতার ও সন্ত্রাসী হামলার ...

বৃহত্তম সমাবেশ যুক্তরাজ্যে

বৃহত্তম সমাবেশ যুক্তরাজ্যে

১ আগস্ট ১৯৭১। যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে দুপুর থেকেই ...

চট্টগ্রামে আমীর খসরুর প্রচারে হামলায় আহত ৫

চট্টগ্রামে আমীর খসরুর প্রচারে হামলায় আহত ৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর গণসংযোগে হামলার ...

২৪ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনা মোতায়েন

২৪ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনা মোতায়েন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী ...