বিদায় 'আকবর বাহিনী' প্রধান

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৫      

জাহিদ রহমান

গত ২ মে না ফেরার দেশে চলে গেলেন মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি অধিনায়ক আকবর হোসেন। তিনি ছিলেন মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। একাত্তরে তৎকালীন মাগুরা মহকুমার শ্রীপুর থানার নিজগ্রাম টুপিপাড়া-খামারপাড়াতে এক হাজারেরও বেশি মুক্তিযোদ্ধার সমন্বয়ে এক বিরাট আঞ্চলিক বাহিনী গড়ে মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেন অধিনায়ক আকবর হোসেন। যুদ্ধকালে
তার নিজস্ব বাহিনী প্রথমে ৮ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার মেজর আবুল মঞ্জুর কর্তৃক 'শ্রীপুর বাহিনী' হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করলেও পরবর্তীকালে এই বাহিনী তার নিজ নাম 'আকবর বাহিনী' হিসেবেই সাধারণ্যে জনপ্রিয় ও পরিচিতি লাভ করেছিল। মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ফরিদপুর অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ পরিবারের মুক্তিযোদ্ধারা ছিল এই বাহিনীর সক্রিয় সদস্য। সাহসী আকবর হোসেন সাধারণ পরিবারের তরুণদের সংগঠিত করেই পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে আকবর হোসেন মিয়া সহযোদ্ধাদের নিয়ে শ্রীপুরেই ছিলেন। যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে তিনি তৈরিও হয়ে থাকেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক আর্মিরা ঢাকায় নিরীহ বাঙালির ওপর অতর্কিত হামলা চালালে মাগুরা শহর অরক্ষিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মাগুরার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও মাগুরা ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। কিন্তু রুখে দাঁড়ান আকবর হোসেন। পরিবার-পরিজনকে ফেলে রেখে শুধু দেশপ্রেমের কারণে জীবনকে হাতের মুঠোয় ধরে নিজ থানা শ্রীপুরের আরও অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে মাগুরার সর্বত্র পাক হানাদারদের প্রতিরোধের পরিকল্পনা নেন। এরই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযোদ্ধাদের বড় একটি দল নিয়ে প্রথমে মাগুরার আনসার ক্যাম্প দখলে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরু করেন। মুহূর্তেই আকবর হোসেনের সাহসী নেতৃত্বের কথা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। মাগুরার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তরুণরা এসে তার দলে ভিড় জমাতে থাকে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নেতৃত্বে তিনি যেমন ছিলেন এক অনুকরণীয় চরিত্র, তেমনি আপাদমস্তক সৎ সজ্জন হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে ছিলেন নমস্য। একই সঙ্গে ছিলেন রুচিশীল, আধুনিক এবং স্বপ্নবাদী অসাম্প্রদায়িক এক মানুষ। সবসময় কাজ করতে ভালোবাসতেন। নতুন নতুন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা করার স্বপ্ন দেখতেন। তরুণদেরও সেইভাবে উদ্দীপ্ত করতেন। আলোকিত সমাজ নির্মাণের লক্ষ্যেই তিনি এলাকায় একাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুল-কলেজ, লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন। সততা এবং সত্যবাদিতায় তিনি ছিলেন অনন্য। দলীয় বৃত্তে কখনোই বন্দি থাকেননি। আর তাই সর্বমহলে ছিলেন শ্রদ্ধেয় এক মানুষ। মৃত্যু পর্যন্ত সৎ ও সততার মহান পুরস্কার নিয়েই তিনি চিরকালের জন্য বিদায় নেন।
প্রজ্ঞাবান ও পরহেজগার মানুষ হিসেবেও তিনি ছিলেন অনুকরণীয়। মুক্তিযুদ্ধকালেও তিনি কখনও নামাজ বাদ দেননি। যুদ্ধক্ষেত্রে সবসময় টুপি পরিহিত অবস্থায় থাকতেন। অনেক সময় তাই পাকসেনারা তাকে চিনতে পারত না। মুক্তিযুদ্ধের যে লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ছিল তা তার ব্যক্তিগত জীবনে সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত ছিল। কখনোই তাই মিথ্যার কাছে নতি স্বীকার করেননি। কখনোই ন্যায়নীতিকে বিসর্জন দিয়ে নিজের জন্য সামান্যতম লাভ খুঁজতে যাননি। যখনই যা করেছেন সেটা এলাকাবাসীর কল্যাণেই করেছেন। ন্যায়-ন্যায্যতার প্রশ্নে কখনোই আপস করেননি। সাধারণ মানুষের মতো তিনি ভ্যানে চড়ে চলাফেরা করতেন।
লম্বা শ্মশ্রুমণ্ডিত অধিনায়ক আকবর হোসেন ছিলেন সত্যিই বাংলাদেশেরই এক প্রতিচ্ছবি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ৮৯ বছর বয়সেও তিনি মাথা উঁচু করে হাঁটতেন। তার অপরিসীম ত্যাগ আর ভালোবাসা জড়িয়ে আছে এই বাংলাদেশে। কিন্তু এই মানুষটি রাষ্ট্রের কাছ থেকে সেই ভালোবাসার যথার্থ মূল্যায়ন পাননি। তবে তিনি জনগণের ভালোবাসা পেয়েছেন। তার শেষযাত্রায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, তিনি কতটা প্রিয় ছিলেন সবার কাছে।
ুধযরফৎধযসধহ৬৭@মসধরষ.পড়স
ঘরের মাঠে মস্কোয় বিধ্বস্ত রিয়াল

ঘরের মাঠে মস্কোয় বিধ্বস্ত রিয়াল

রাশিয়া নামক এক জুজু বুড়ির ভয় ভর করেছে রিয়ালের ওপর। ...

হারাচ্ছে জমি, অস্তিত্ব সংকটে সমতলের আদিবাসীরা

হারাচ্ছে জমি, অস্তিত্ব সংকটে সমতলের আদিবাসীরা

'জমি চাই মুক্তি চাই' স্লোগানে ১৮৫৫ সালে সাঁওতাল নেতা সিধু, ...

'কোল্ড আর্মসে' কক্সবাজার সৈকতে দুর্ধর্ষ হামলার ছক

'কোল্ড আর্মসে' কক্সবাজার সৈকতে দুর্ধর্ষ হামলার ছক

দুনিয়াব্যাপী কমান্ডো নাইফ এবং বিশেষ ধরনের ছুরি ও চাকু 'কোল্ড ...

সহিংসতা রোধে ইসিকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ আওয়ামী লীগের

সহিংসতা রোধে ইসিকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ আওয়ামী লীগের

দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট সহিংসতা ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আরও ...

গ্রেফতার হামলা বন্ধে সিইসির হস্তক্ষেপ চায় বিএনপি

গ্রেফতার হামলা বন্ধে সিইসির হস্তক্ষেপ চায় বিএনপি

প্রতীক বরাদ্দের পরও বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি, গ্রেফতার ও সন্ত্রাসী হামলার ...

বৃহত্তম সমাবেশ যুক্তরাজ্যে

বৃহত্তম সমাবেশ যুক্তরাজ্যে

১ আগস্ট ১৯৭১। যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে দুপুর থেকেই ...

চট্টগ্রামে আমীর খসরুর প্রচারে হামলায় আহত ৫

চট্টগ্রামে আমীর খসরুর প্রচারে হামলায় আহত ৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর গণসংযোগে হামলার ...

২৪ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনা মোতায়েন

২৪ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনা মোতায়েন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী ...