সিরাজুল হক স্মরণে

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০১৫      

আবদুল কাইয়ুম

অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক ১৯৭০ সালে কসবা বুড়িচং নির্বাচনী এলাকা থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য এবং ১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে কসবা-আখাউড়া এলাকা থেকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সাল থেকে আমি কসবাতে তার পদচারণা প্রথম দেখার সুযোগ পেয়েছি। আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে দেশের দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে দলীয় পরিচিতির আবডালে রেখে নির্বাচনী অভিযান পরিচালনার জন্য যে কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, তা একজন মেধাবী আইনজীবীর পক্ষেই সম্ভব ছিল। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের মাটিতে দাঁড়িয়েই ছয় দফা ঘোষণা করেন। আওয়ামী লীগের অনেক নিবেদিত ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মীও সমালোচনামুখর হলেন। কারণ ওই সময়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পাট ক্ষেত ও ধান ক্ষেতের আড়ালে পালিয়ে যেতেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সেই স্বাধীনচেতা মনোভাবের ধারক ও বাহক হিসেবে সিরাজুল হক প্রতি মাসে বাড়িতে (পানিয়ারূপ) আসা-যাওয়া করতেন। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে নভেম্বর মাসে বঙ্গবন্ধু কসবা আসেন। কসবা হাইস্কুলের মাঠে জনসভার আয়োজন করা হয় এবং মঞ্চ তৈরি থেকে ভলান্টিয়ার পরিচালনার দায়িত্ব তিনি আমাকে দিয়ে দিলেন। বঙ্গবন্ধু এলেন দুপুর প্রায় ১২টায়। স্কুল মাঠে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ। গঙ্গা সাগরের গোলাম রফিক ভাই, আখাউড়ার নিলু মিয়া, নাদির হোসেন ও বুড়িচংয়ের অনেক নেতাকর্মী সভায় উপস্থিত হলেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সিরাজুল হক মঞ্চে উঠে প্রথমে যে বক্তব্য রাখলেন তাতে এত বড় জনসমাগমেও পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছিল। সিরাজুল হকের সঙ্গে দ্বিতীয় বক্তা হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ এমদাদুল বারী। তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর সিরাজুল হক নিজের এলাকায় এলেন এবং বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে আমাদের ধারণা দিলেন। তিনি এলাকায় বেশিদিন অবস্থান করতে পারেননি। কারণ বাংলাদেশের সংবিধান রচনার দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। দেশের স্বার্থে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে সংবিধান রচনার কাজ সমাপ্ত করলেন। বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর বেশ কিছুদিন তিনি ভারাক্রান্ত মনে কাটিয়েছেন।
১৯৬৮ সালে মঞ্চস্থ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কেঁৗসুলি ও ১৯৭৫-এর পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান কেঁৗসুলি ছিলেন। ১৯৭৯ সালে দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেল এমএজি ওসমানীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে তিনি সক্রিয় ছিলেন। নির্বাচনে জেনারেল ওসমানী হেরে গেলে তিনি দীর্ঘদিন নীরব ছিলেন এবং নিজের আইন ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। একটি টার্ম তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আমি তার সুপ্রিম কোর্ট বার চেম্বারে অনেকবার দেখা করেছি, অনেক আলাপ-আলোচনা করেছি। ধর্মনিরপেক্ষ ও আকাশচুম্বী প্রতিভার অধিকারী এই মহান ব্যক্তিত্বের সানি্নধ্য আমাদের জীবনকে মহীয়ান করেছে, তা আমরা হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছি। ২৮ অক্টোবর, ২০০২ সালে তার মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর বনানীর বাসায় গিয়েছি এবং বনানীর মসজিদে জানাজায় শরিক হয়েছি। কসবা উপজেলা সমিতির পক্ষে কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন ইঞ্জিনিয়ার কবির আহমেদ ভূঁইয়া। আমরা সবাই দোয়া পাঠ করে বিদায় নিলাম। মনে হলো যেন একটি শতাব্দীর তিরোধান হয়েছে। এই মহান ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ ২০০৫ সালের এক স্বর্ণালি সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডার, কমফোর্টের চেয়ারম্যান কবির আহম্মেদ ভূঁইয়া এবং আমি মরণোত্তর সম্মাননাস্বরূপ একটি ক্রেস্ট তার বনানীর বাসায় ভাবির হাতে তুলে দিয়েছিলাম। দ্বাদশ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম।
সাবেক আহ্বায়ক , স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ঘরের মাঠে মস্কোয় বিধ্বস্ত রিয়াল

ঘরের মাঠে মস্কোয় বিধ্বস্ত রিয়াল

রাশিয়া নামক এক জুজু বুড়ির ভয় ভর করেছে রিয়ালের ওপর। ...

হারাচ্ছে জমি, অস্তিত্ব সংকটে সমতলের আদিবাসীরা

হারাচ্ছে জমি, অস্তিত্ব সংকটে সমতলের আদিবাসীরা

'জমি চাই মুক্তি চাই' স্লোগানে ১৮৫৫ সালে সাঁওতাল নেতা সিধু, ...

'কোল্ড আর্মসে' কক্সবাজার সৈকতে দুর্ধর্ষ হামলার ছক

'কোল্ড আর্মসে' কক্সবাজার সৈকতে দুর্ধর্ষ হামলার ছক

দুনিয়াব্যাপী কমান্ডো নাইফ এবং বিশেষ ধরনের ছুরি ও চাকু 'কোল্ড ...

সহিংসতা রোধে ইসিকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ আওয়ামী লীগের

সহিংসতা রোধে ইসিকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ আওয়ামী লীগের

দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট সহিংসতা ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আরও ...

গ্রেফতার হামলা বন্ধে সিইসির হস্তক্ষেপ চায় বিএনপি

গ্রেফতার হামলা বন্ধে সিইসির হস্তক্ষেপ চায় বিএনপি

প্রতীক বরাদ্দের পরও বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি, গ্রেফতার ও সন্ত্রাসী হামলার ...

বৃহত্তম সমাবেশ যুক্তরাজ্যে

বৃহত্তম সমাবেশ যুক্তরাজ্যে

১ আগস্ট ১৯৭১। যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে দুপুর থেকেই ...

চট্টগ্রামে আমীর খসরুর প্রচারে হামলায় আহত ৫

চট্টগ্রামে আমীর খসরুর প্রচারে হামলায় আহত ৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর গণসংযোগে হামলার ...

২৪ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনা মোতায়েন

২৪ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনা মোতায়েন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী ...