'সাঁড়াশি অভিযান'

গোয়েন্দা-দক্ষতা ও সতর্কতা কাম্য

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের দমনে পুলিশের 'সাঁড়াশি অভিযান' কারও মতে সময়োচিত, কারও মতে কিছুটা বিলম্বে হলেও সবাই একে প্রয়োজনীয় মনে করছেন। কেবল বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই অভিযান বিএনপিকে কোণঠাসা করতে করা হচ্ছে। তার এই অভিযোগ থেকে আবার স্পষ্ট হলো যে, জঙ্গি দমনের প্রশ্নে, অন্তত এর কৌশল নিয়ে বড় দুই দলের মধ্যে নূ্যনতম মতৈক্য নেই। বরং আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, গত সপ্তাহটিতে একের পর এক গুপ্তহত্যা যেমন হয়েছে, তেমনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপও আরেক ধাপ বেড়ে গেছে। উভয় দলের শীর্ষ পর্যায়েই গত সপ্তাহে পারস্পরিক দোষারোপের বার্তা উচ্চারিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার জাতীয় সংসদে এবং সংবাদ সম্মেলনে গুপ্তহত্যায় বিএনপি ও জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিয়ে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন গুপ্তহত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য। জনগণ নিশ্চয়ই এই সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। জঙ্গি তৎপরতা মোকাবেলায় দেশে রাজনৈতিক ঐকমত্যের বাতাবরণে এই সহযোগিতা আরও ফলপ্রসূ হতো। তথাপি বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে যে অভিযান শুরু হয়েছে আমরা তার সাফল্য কামনা করি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনে 'সহস্রাধিক' গ্রেফতার হয়েছে। সমকালের খবরে বলা হয়েছে, সাঁড়াশি অভিযানে প্রথম দিনে বড় কোনো সাফল্য আসেনি। অর্থাৎ প্রকৃত সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কেউ ধরা পড়েনি। পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে অভিযান-সংক্রান্ত তথ্যাদি জনগণকে জানানো হবে বলে আমরা আশা করি। আমরা জানি, ছিনতাই, রাহাজানি, চুরি-ডাকাতি, হত্যাকাণ্ড বেড়ে গেলে তথা স্বাভাবিক জনজীবন নিরাপত্তাহীনতায় ব্যাহত হলে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গ্রেফতার করে এবং তাতে পরিস্থিতির উন্নতিও হয়। এখন যে বেছে বেছে টার্গেট করে ব্যক্তি হত্যা হচ্ছে, তা সাধারণ অপরাধীদের কাজ নয়। এটা ধর্মান্ধদের কাজ বলা হলেও সন্দেহাতীতভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। পুলিশের গোয়েন্দা কাজে যথেষ্ট দক্ষতা ছাড়া 'সাঁড়াশি' হোক বা 'চিরুনি' হোক, ঝোপঝাড়ে কোপ দেওয়ার মতো অভিযানে গুপ্তঘাতক ধরা সম্ভব নয়। সাময়িকভাবে ভয় পাইয়ে তাদের সরিয়ে রাখা যেতে পারে মাত্র। অভিযানে যাতে নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হয় এবং অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, একশ্রেণীর পুলিশ সদস্যের 'গ্রেফতার-বাণিজ্যের' মওকা না হয় সেদিকে কর্তৃপক্ষের তীক্ষষ্ট দৃষ্টি থাকতে হবে।