তবুও ঘরে ফেরা

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৭

এবারের ঈদযাত্রা যে তেমন সুখকর হবে না, সেটা স্পষ্ট। ২ সেপ্টেম্বর ঈদুল আজহা। হাতে মাত্র ৪-৫টি দিন। এর মধ্যে প্রবল বন্যার হানায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচশ' কিলোমিটারের বেশি মহাসড়কের বেহাল দশা কাটিয়ে তোলা যাবে- এটা অতি বড় আশাবাদী মানুষও বলবেন না। ভাঙাচোরা সড়কগুলোতে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাস্তববাদী মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি পরিস্থিতির উন্নতির চেষ্টা করছেন। কিন্তু এটাও জানেন, তার হাতে আলাদিনের চেরাগ নেই যে, চাইলেই স্বাভাবিক চেহারা ফিরে পাবে সড়কগুলো। ঈদযাত্রা এবারে স্বস্তিদায়ক হবে না, সেটা ইতিমধ্যে বলে দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে আগাম দুঃখও প্রকাশ করেছেন। প্রতিদিন সংবাদপত্রে গর্ত, খানাখন্দে ভরা মহাসড়কের চিত্র দেখে যারা ভাবেন রেলপথে যাবেন, তাদের স্বপ্নভঙ্গ হতে দেরি হয় না- ঢাকা ও চট্টগ্রামে টিকিট বিক্রয় শুরু হতে না হতেই শেষ। নৌপথেও একই চিত্র। বরিশাল-পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলায় ঢাকা থেকে যারা যেতে চান, তাদের জন্য লঞ্চ-স্টিমারের কেবিন তো সোনার হরিণ- ডেকেও পা ফেলার স্থান মেলা নিয়ে সংশয়। অতি বিত্তবানদের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে প্রাইভেট হেলিকপ্টার সার্ভিস চালু হয়েছে। কয়েকটি জেলায় সরকারি-বেসরকারি বিমান সার্ভিসও রয়েছে। কিন্তু এসব সাধারণের জন্য নয়। তাদের ভরসা বাস কিংবা ট্রেন বা লঞ্চ। পথের বাধা-বিপত্তির কথা তাদের জানা। টিকিট কিনতে বড় অঙ্কের বাড়তি অর্থদণ্ড যেন দিতে না হয়, সেটা তাদের প্রত্যাশা থাকে। কালোবাজারি ও মুনাফাখোরদের সরকার কিছুটা হলেও দমিয়ে রাখতে পারবে, এমন দাবি সুযোগ পেলে তোলে। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ না হলেও মুষড়ে পড়ে না, বরং যেভাবেই হোক 'শিকড়ের টানে' ঘরমুখো হওয়ার সংকল্পে থাকে অটুট। রাজধানী কিংবা অন্য যে কোনো বড় শহরে যারা থাকেন, তাদের কাছে অচেনা বা স্বল্প চেনা লোকদের একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন- 'দেশের বাড়ি' কোথায়? এখানে 'দেশ' মানেই গ্রাম। শ্রেণি-পেশা ও আর্থিক অবস্থান, সবাই দুই ঈদের ছুটিতে এই 'দেশে' যেতে চায়। সেখানেই যে শিকড়! পথের দুর্ভোগ তারা উপেক্ষা করে। দেশ পরিচালনায় যারা রয়েছেন তাদের প্রতি অনুরোধ, পথের পরিস্থিতি যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখায় যত্নবান থাকুন। জনপ্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধ, নিজ নিজ এলাকায় প্রয়োজনে স্বেচ্ছাশ্রমে শামিল হোন। আপনারা বেহাল সড়কের শ্রী ফেরাতে নেমে পড়লে আমজনতাও তাতে হাত মেলাবে। যেখানে সরকারের বরাদ্দ মিলেছে সড়ক বা রেলপথের সংস্কারের জন্য, সেখানে কাকে ঠিকাদারি দেওয়া হবে সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে কাজটি যেন ঠিকঠাক হয়, তার প্রতি নজর দিন। দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনো কারণে পথে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে কিংবা কোথাও 'অবরোধ' তৈরি করা হলে, সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা করুন। সর্বাঙ্গে ব্যথা ওষুধ দিব কোথা- প্রকৃতপথে সড়কপথের এটাই বাস্তবতা। তবুও সংশ্লিষ্টরা সাধ্যমতো চেষ্টা করুক। বিপদের পথ অতিক্রম করতে গিয়ে সবাই যেন অনুভব করে- সরকার ও জনপ্রতিনিধিরা চেষ্টা তো করেছেন। প্রকৃতির রোষের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি প্রশমনে মানুষ চাইলেই সবকিছু করতে পারে না। ঈদে ঘরে ফিরতে উন্মুখ লাখ লাখ নারী-পুরুষ-শিশু এটা উপলব্ধিও করে। আসুন, সংশ্লিষ্ট সবাই তাদের জন্য ভরসা ও স্বস্তির কারণ হয়ে উঠি। একই সঙ্গে আরও একটি অনুরোধ- যারা যানবাহনে বাড়তি ভাড়া আদায়, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস কিংবা অন্য কোনোভাবে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ বাড়াতে সক্রিয়, তাদের দমনে সম্ভাব্য সবকিছু করুন। তাতে বাহবা মিলবে। ঈদের জামাত থেকে সর্বান্তকরণে ব্যক্ত করা হবে কৃতজ্ঞতা।