চিঠিপত্র

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭      

শকুন বাঁচান
এখনও চোখে ভাসে, জন্মস্থান পিরোজপুরে কচা নদীর তীরে বিশাল আকারের শকুন বসে থাকার দৃশ্য। দেখেছি মৃত প্রাণীর ওপর বসে ঠুুকরে ঠুকরে তা খাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখার পর ৫০ বছর কেটে গেল। আজও ওই পথে যাই; কিন্তু চোখে পড়ে না শকুন। শুনেছি, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের বন বিভাগ শকুন রক্ষার জন্য কাজ করছে। শকুন নিয়ে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ বিশেষ ডাকটিকিট, স্যুভেনিরশিট ও খামও প্রকাশ করেছিল। এরপর ভেবেছিলাম, নদীপথে, বনপথে, নির্জনপথে ও চরাঞ্চলে চলতে গেলে হয়তো শকুন দেখব। কিন্তু দেখা যায় না। অথচ শকুন পরিবেশের জন্য উপকারী পাখি। অন্যদিকে মৃত প্রাণী বা পচা-গলা খাবারের ফলে ক্ষতিকর রোগ-জীবাণুও ছড়ায় না মানুষের মধ্যে। একসময় কয়েক প্রজাতির শকুন বসবাস করত বাংলাদেশে। নির্বিচারে গাছপালা কাটা, বনাঞ্চল উজাড়, চরাঞ্চলে বাড়িঘর গড়ে তোলাসহ নানা কারণে শকুন বসবাসের জায়গা হারিয়ে কমতে কমতে বিলুপ্ত হয়ে গেল! যদি দু-চারটা থেকেও থাকে, তা বাঁচিয়ে রেখে কোথাও শকুনের বংশ বিস্তার করে এদের আবাসস্থল কি গড়ে তোলা যায় না? নিরাপদে শকুন আকাশে উড়বে, চরে নয়তো নদীতীরে বসবে, মৃত প্রাণী ও পচা-গলা খাবে। বাংলার লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ূক শকুন।
লিয়াকত হোসেন খোকন
রূপনগর, ঢাকা

আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী
ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাব। সেই উদ্দেশ্যে ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে ঊল্লাপাড়া আন্তঃনগর সিল্ক্কসিটি ট্রেনের টিকিট কাটলাম যাত্রার বেশ কয়েকদিন আগেই। টিকিটে সিট নম্বর উল্লেখ ছিল বলে অনেক আনন্দই পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, বাসে গেলে অনেক যানজটে পড়তে হয়। তাই ট্রেনে অনেক আরামে বাড়ি যাওয়া যাবে। অনেক দিন পর স্ত্রীকে সঙ্গে করে বাড়ি যাচ্ছি। তাই মনটাও ছিল বেশ ফুরফুরে। যাত্রার দিন স্ত্রী আর আমি দু'জনে দুটি লাগেজ আর বাড়ির জন্য দুই প্যাকেটে বনফুলের চার কেজি মিষ্টি হাতে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছাই দুপুর ২টায়। অথচ ট্রেন এলো ৩টা ২০ মিনিটে। ট্রেনের এতটুক দেরি তেমন চিন্তা করিনি। ২টা ৪০ মিনিটের ট্রেন অবশেষে ছাড়ল ৫টা ৪০ মিনিটে। ট্রেনের একটি বগিতে সিট আছে ১০৫টি। প্রতিটি সিটে যাত্রী বসে আছেন, অথচ সিট ছাড়াও যাত্রী দাঁড়িয়ে আছেন প্রায় তিনশ'। এর মধ্যে অনেক নারী, শিশু ও বৃদ্ধ আছেন। লাগেজ নিয়ে যাত্রী ওঠানামার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। আন্তঃনগর ট্রেনের এমন বেহাল অবস্থা কেন? রেলমন্ত্রীর কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, সার্বিক দিক বিবেচনা করে এখন থেকে সিদ্ধান্ত নিন, আন্তঃনগর ট্রেনে যেন সিট ছাড়া কোনো টিকিট বিক্রি করা না হয়।
এইচ এস সরোয়ারদী
মিরপুর, ঢাকা