সঞ্চয়ের সেকাল-একাল

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০১৮      

শরিফা

কথায় আছে- অর্থই অনর্থের মূল। তবে অর্থ বা মুদ্রা আবার বিপদেরও বন্ধু। মুদ্রার এ বিপদে বন্ধু হওয়ার পেছনে মূল অবদান রাখে মুদ্রা সঞ্চয়কারী। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ মুদ্রা সঞ্চয় করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপায়ে মুদ্রা সঞ্চয় করা হতো। খ্রিষ্টপূর্ব যুগে মানুষ পিতল বা ধাতব পাত্র অথবা কলসিতে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জের মুদ্রা রেখে মাটির নিচে পুঁতে রাখত। কেউ কেউ আবার কাপড়ের থলে বা পুঁটলিতে মুদ্রা সঞ্চয় করত। খ্রিষ্টাব্দ উনিশ শতক পর্যন্ত মুদ্রা সঞ্চয়ের জন্য মানুষ বিভিন্ন ধরনের লোহার সিন্দুক, স্টিলের তৈরি ট্রাংক ও মাটির তৈরি মটকা ব্যবহার করত। যুগে যুগে মুদ্রা সঞ্চয়ে বিভিন্ন পরিবর্তন এলেও মুদ্রা সঞ্চয়ের সবচেয়ে মজার পদ্ধতি হচ্ছে 'বাঁশের খুঁটিতে মুদ্রা সঞ্চয়'। গ্রামের বধূ ও কিশোর-কিশোরীরা থাকার ঘর বা রান্নাঘর অথবা গোয়ালঘরে থাকা বাঁশের খুঁটি কেটে তাতে পয়সা জমাত। এ খুঁটিকেই তারা ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করত। পল্লী এলাকার বধূরা সংসারের খরচ থেকে দু'চার পয়সা বাঁচিয়ে ঘরে খুঁট হিসেবে ব্যবহূত বাঁশের সামান্য অংশ ছিদ্র করে সেখানে জমিয়ে রাখত। বিপদ-আপদের জন্য তারা এ টাকা জমাত। বাঁশের খুঁটিতে জমানো এ টাকাকে ঘিরেই গাঁয়ের এ বধূর চোখে একটু সুখের স্বপ্ন খেলা করত। নিজের সন্তানের মতোই সে তা আগলে রাখত। যদি আরও কিছু পয়সা জমিয়ে নতুন কিছু করা যায় এ আশায় শত কষ্টেও খুঁটির এ ব্যাংকটি কাটত না। কখনও সে ভাবত- এ টাকা দিয়ে মেয়ের বিয়েতে খরচ করবে নতুবা মেয়েকে গহনা বানিয়ে দেবে। ব্যাংক ভরবে আর ব্যাংকটা কেটে একটা একটা করে পয়সা গুনে দেখবে কত টাকা হয়েছে- সেই দিনের জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা তাদের! এ প্রসঙ্গে দাদির বয়সী খায়রুন্নেছা (৮২) বলেন, 'মেলার দুই-আড়াই মাস আগে থেকে পয়সা জমানো শুরু করতাম। তার পর মেলার দিন সকালে সেটা কেটে এলাকার আমার বয়সীদের সঙ্গে ঝাঁক বেঁধে মেলায় যেতাম।' কামালউদ্দিন (৮৫) একবার একটা কাণ্ড করে বসেছিলেন। তিনি বলেন, 'বাবা দোকানের জন্য প্রায় দেড়শ' খুচরা পয়সা এনে টেবিলের ড্রয়ারে রেখেছে। পড়তে গিয়ে আমার নজরে পড়ে। ব্যস, পয়সা বলে কথা! আমি সব পয়সা খুঁটির ব্যাংকে রাখলাম। সকালে দোকানে যাওয়ার পথে পয়সা পয়সা করে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হলে আস্তে করে মাকে বলি, পয়সাগুলো আমি ব্যাংকে রেখেছি। আমি কষ্ট পাব বলে বাবা ব্যাংকটা আর কাটেনি।' অল্প পরিমাণ টাকা আর খুঁটিটা যেহেতু ঘরের ভেতরেই থাকত, তাই তার নিরাপত্তা নিয়ে আলাদা ভাবতে হতো না বলে জানান তিনি। এখন আর তাদের বাড়িতে বাঁশের খুঁটি নেই। তাদের নাতনিরা এ খুঁটিতে কীভাবে টাকা জমানো হতো তা আর জানেই না। তাই বাঁশের খুঁটিতে পয়সা জমানোকে ঘিরে মজার মজার গল্পও আর নেই। বর্তমানে মুদ্রা সঞ্চয়ের নানা পদ্ধতি আছে। এর মধ্যে মাটির ব্যাংক এখনও জনপ্রিয়। এখনও গ্রামে এমনকি শহরেও নজরকাড়া নকশা করা মাটির ব্যাংকে মানুষ শখ করে মুদ্রা জমায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রা সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে নানা রকম পরিবর্তন এসেছে। তবে আধুনিক এ যুগে টাকা তথা মুদ্রা সঞ্চয়ের সবচেয়ে নিরাপদ ও সহজ মাধ্যম আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থা। এখন আর এ ব্যাংক নিয়ে গ্রামের গিন্নির চোখে স্বপ্ন খেলা করে না; দেখা যায় না অনিশ্চয়তা ঝুঁকি! বাঁশের খুঁটির ব্যাংক- কী সেটা; এ সময়ের ছেলেমেয়েরা জানেই না! এখন সবাই অত্যাধুনিক ব্যাংক-ব্যালান্স ও করপোরেট জীবন নিয়ে ব্যস্ত। টাকা সঞ্চয়ের বাঁশের খুঁটির এ ব্যাংক এখন শুধু ঢাকার মিরপুর-২-এ অবস্থিত 'টাকা জাদুঘর-এ' চিরভাস্বর হয়ে থাকবে!

পরবর্তী খবর পড়ুন : 'টিট ফর ট্যাট'

শীতে কমলা খাবেন যে কারণে

শীতে কমলা খাবেন যে কারণে

শীতের দিনে সাইট্রাস জাতীয় ফলগুলো বেশি মিষ্টি আর রসালো থাকে। ...

কি দোষ ছিল তার, কেন এই নির্মমতা?

কি দোষ ছিল তার, কেন এই নির্মমতা?

বাঁচানো গেলো না নড়াইলের পল্লীতে একটি বাগানে ফেলে যাওয়া সেই ...

হজমের সমস্যা দূর করবেন যেভাবে

হজমের সমস্যা দূর করবেন যেভাবে

কমবেশি সবাই হজমের সমস্যায় ভোগেন। স্বাভাবিকের চাইতে একটু বেশি খেলে, ...

অস্কার থেকে বাদ পড়ল ‘ডুব’

অস্কার থেকে বাদ পড়ল ‘ডুব’

অস্কারের ৯১তম আসরে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধিত্ব করছিলো মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ...

৪০ হাজার শিক্ষক নিয়োগে গণবিজ্ঞপ্তি

৪০ হাজার শিক্ষক নিয়োগে গণবিজ্ঞপ্তি

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার ...

কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপি’র প্রার্থীকে কারাগারে প্রেরণ

কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপি’র প্রার্থীকে কারাগারে প্রেরণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা আহমেদ ...

বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

অভিবাসন ইস্যুতে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল। অভিবাসন নিয়ে ...

এভাবে চলে যেতে নেই

এভাবে চলে যেতে নেই

গতকাল মঙ্গলবার বাংলা চলচ্চিত্রের বরেণ্য নির্মাতা সাইদুল আনাম টুটুল চলে ...