রাশিয়াকে উপকথার ছাগশিশু ভাবা ভুল

কালের আয়নায়

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৮      

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

লন্ডনের একটি প্রভাতি দৈনিকের বুধবার ৪ এপ্রিলের সংখ্যায় প্রথম পৃষ্ঠার লিড নিউজের বিরাট হেডিং দেওয়া হয়েছে, Scientists can not say nerve agent came from Russia'. অর্থাৎ স্নায়ুধ্বংসী বিষাক্ত রাসায়নিক বস্তুটি, যা নার্ভ এজেন্ট নামে পরিচিত তা যে রাশিয়া থেকে এসেছে, বিজ্ঞানীরা (ব্রিটিশ) তার কোনো প্রমাণ পাননি। তাই যদি হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অভিযোগ এবং গণহারে ব্রিটেন থেকে রাশিয়ান কূটনীতিক বহিস্কারের অবস্থা কী দাঁড়ায়? শুধু ব্রিটেন নয়, আমেরিকাসহ ২২টি দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছে। তারা গণহারে রাশিয়ার কূটনীতিক বহিস্কার করেছে। রাশিয়াও পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। তাছাড়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ তো আছেই।

ব্রিটেনের সেলিসবারিতে ডাবল এজেন্ট হিসেবে পরিচিত এক রাশিয়ান গোয়েন্দা ও তার মেয়ে এই বিষাক্ত নার্ভ গ্যাস দ্বারা গুরুতরভাবে আক্রান্ত হওয়ার পরপরই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে অভিযোগ তোলেন, এটা রাশিয়ার পুতিন সরকার করেছে। সঙ্গে সঙ্গে আমেরিকা ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ আরও কোনো কোনো দেশ তাতে সায় দেয় এবং শুরু হয়, অভিযোগটি প্রমাণিত হওয়ার আগেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা।

এখন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরাই বলছেন, রাশিয়া থেকে এই নার্ভ এজেন্ট এসেছে তার কোনো প্রমাণ নেই। ৪ এপ্রিল ব্রিটিশ দৈনিকটিতেই বলা হয়েছে, 'ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের অভিমত- প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে'কে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। এখন তার সরকারকে নিজের ঘর সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পশ্চিমা শক্তি তাদের প্রোপাগান্ডার জোরে সারাবিশ্বের মানুষকে এ কথা বিশ্বাস করাতে পেরেছিল যে, শান্তিকালীন সময়ে এই বিষাক্ত রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়া গুরুতর অপরাধ করেছে।

ব্যবহূত নার্ভ এজেন্ট রাশিয়া কর্তৃক বহুকাল আগে তৈরি হতো। রাশিয়া বলছে, এর প্রোডাকশন অনেক আগে বন্ধ করা হয়েছে। ব্রিটেনে এক সাবেক রুশ ডাবল এজেন্ট এবং তার কন্যার ওপর তা ব্যবহারের অভিযোগ রাশিয়া দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। তারা ব্রিটেনের কাছে এর প্রমাণও দাবি করেছিল। ব্রিটিশ সরকার রাজি হয়নি। এ ব্যাপারে রাশিয়ার সঙ্গে কোনো প্রকার তদন্তে সহযোগিতায় তেরেসা মে রাজি নন। বরং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাশে এনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী এক কঠোর সামরিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এই অবস্থানকে অনেকটা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের প্রাক্কালে যুদ্ধের ঘনঘটার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

সেলিসবারি নার্ভ অ্যাটাকের সত্যতা অস্বীকার করে রাশিয়ার এক সাবেক জেনারেল বলেছেন, 'World on brink of armed conflict'-বিশ্ব সশস্ত্র যুদ্ধের সম্মুখীন। এই যুদ্ধ যদি হয়, তাহলে এটা মানব সভ্যতার ইতিহাসে শেষ যুদ্ধ। কারণ, এই যুদ্ধে উভয় পক্ষ যে ভয়াবহ মারণাস্ত্র ব্যবহার করবে, তাতে মানব সভ্যতার অস্তিত্ব থাকবে না। এটা রাশিয়ায় রেজিম চেঞ্জ বা পুতিনকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা বলে প্রচার চালানো হতে পারে; কিন্তু আসলে এটা রাশিয়াকে কোণঠাসা করার চেষ্টা। কিন্তু পরমাণু শক্তিধর রাশিয়াকে কোণঠাসা করার এই চেষ্টার পরিণতি ভয়ঙ্কর হতে পারে।

শুধু এই সাবেক রুশ জেনারেল নন, লন্ডনের রুশ দূতাবাসও সেলিসবারির নার্ভ এজেন্ট অ্যাটাককে ব্রিটিশ ব্ল্যাক বলে উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, এই নার্ভ এজেন্ট রাশিয়ায় তৈরি হয়েছে বলে যে প্রচারণা চালানো হয়েছে, তা প্রমাণ করার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে প্রেসিডেন্ট পুতিন দাবি জানিয়েছিলেন। তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। এখন পোর্টন ডাউনে ব্রিটিশ সিক্রেট ল্যাবের প্রধান বিজ্ঞানী বলেছেন, এটা যে রাশিয়ান নার্ভ এজেন্ট তার কোনো প্রমাণ নেই। বরং প্রমাণিত হয়েছে, 'A provocation arranged by Britain in order to justify high military spending because they need a major enemy. (ব্রিটেন এই উস্কানিমূলক কাজটি করেছে তার বিশাল সামরিক খরচের যৌক্তিকতা দেখানোর জন্য। এ জন্য তার একজন বড় শত্রু দরকার।

সেলিসবারির হত্যা প্রচেষ্টা সম্পর্কে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সারাবিশ্বের পত্রপত্রিকায় এত লেখালেখি হয়েছে যে, তা নিয়ে নতুন করে কিছু লেখার এখানে প্রয়োজন নেই। রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই প্রচারণায় পশ্চিমা শক্তিজোট প্রথমদিকে বিরাট সাফল্য লাভ করেছিল। মনে হয়েছিল, রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ সারাবিশ্ব বিশ্বাস করেছে এবং প্রেসিডেন্ট পুতিন ঘরে-বাইরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। এই প্রচারণার বেড়াজাল থেকে পুতিন সহজেই হয়তো বেরিয়ে আসতে পারবেন।

প্রথমত, পুতিনবিরোধী এই প্রচারণা এবং গণহারে রুশ কূটনীতিকদের পশ্চিমা দেশগুলো থেকে বের করে দেওয়া- রাশিয়ার মানুষকে আরও জাতীয়তাবাদী এবং পুতিনের সমর্থক করে তুলেছে। তারা মনে করছে, পশ্চিমা দেশগুলো কর্তৃক আক্রান্ত রাশিয়ার জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় পুতিনই এখন সবচেয়ে সাহসী ও যোগ্য নেতা। ফলে সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুতিন অবিশ্বাস্যভাবে আগেরবারের চেয়ে অনেক বেশি ভোট পেয়েছেন।

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দ্বারাও রাশিয়াকে সহজে কাবু করা যাবে না বরং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হলে রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশাল অর্থলগ্নির ক্ষতি হবে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোও অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়বে। এসব কথা ভেবেই সম্ভবত এত রুশ-বিরোধিতা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের জয়লাভে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সন্দেহ নেই- পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে আমেরিকা ও ব্রিটেন নিজেদের স্বার্থে নতুন একটি স্নায়ুযুদ্ধ উস্কে দিয়েছে। এই উস্কে দেওয়ার পেছনে আমেরিকার ট্রাম্প এবং তেরেসা মের নিজস্ব সমস্যাও কাজ করছে। বিশ্বশান্তির ক্ষতি হোক, তাতে আপত্তি নেই। দু'জনেই চান সমস্যার বেড়াজাল থেকে নিজেদের বাঁচাতে এবং গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের সংকট মুক্তি ঘটাতে। ব্রিটেনে তেরেসা মে কার্যত একটি সংখ্যালঘু সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ব্রেক্সিট প্রশ্নে তার দল দ্বিধাবিভক্ত এবং তার জাতীয় ঐক্যও বিভক্ত। কিছুদিন আগেও যে কোনো মুহূর্তে তার সরকারের পতন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তার সরকারের বিশাল সামরিক বাজেট নিয়েও ব্রিটেনের মানুষ ক্ষুব্ধ।

অন্যদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও সংকটমুক্ত নয়। ব্রেক্সিট নিয়ে শুধু ব্রিটেনের সঙ্গে নয়, নিজেদের মধ্যেও অন্তর্দ্বন্দ্ব বাড়ছে। আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিপাক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকালে তার রুশ কানেকশন নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। হোয়াইট হাউসে তিনি একটি স্থিতিশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে পারেননি। মধ্যপ্রাচ্যে (সিরিয়া ও ইরান) তিনি রাশিয়ার প্রভাব ঠেকাতে পারেননি। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যুদ্ধে জয়ী হতে পারেননি। নারী ঘটিত কেলেঙ্কারিতে তার বিরুদ্ধে এখনও ইমপিচমেন্টের দাবি উঠছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকায় এখন জাতীয় ঐক্য বলতে কিছু নেই। জাতি দ্বিধাবিভক্ত।

গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের নেতৃত্ব এখন আমেরিকার হাতে। তার সহযোগী ব্রিটেনসহ পশ্চিমা দেশগুলো। তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যদি না থাকে, অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা বাড়ে, সামরিক শক্তিতে ভাঙন ধরে, তাহলে তা গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের জন্য বিরাট সংকট ডেকে আনবে। যেমন গত শতকে ইউরোপে ডেকে এনেছিল ত্রিশের মহামন্দা (grant depression of 30's)। ধনতন্ত্রকে এই মন্দার গ্রাস থেকে মুক্ত করতে একটি বিশ্বযুদ্ধ (দ্বিতীয়) বাধাতে হয়েছিল।

বর্তমানে বিশ্ব ত্রিশের মন্দার চেয়েও দুটি ভয়াবহ মন্দা কাটিয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যে অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধ চালিয়ে এবং মারণান্ত্র বিক্রির বাজার সম্প্রসারণ দ্বারা। তাতেও গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমকে সংকটমুক্ত করা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের শরণার্থীরা ইউরোপের অর্থনীতির ওপর বিরাট চাপ সৃষ্টি করেছে; তার জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক ব্যবস্থায় ফাটল তৈরি করেছে। আমেরিকার ক্রমবর্ধমান সামরিক ব্যয় তার অর্থনৈতিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট করেছে। ব্রিটেনেরও একই অবস্থা। সন্ত্রাস ও লাইফ-ক্রাইমে তার সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত। অন্যদিকে ব্রেক্সিট সমস্যা ব্রিটেনের মানুষের ঐক্য নষ্ট করে রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের অর্থনৈতিক উত্থান ও সম্প্রসারণ ঘটেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের ধ্বংসস্তূপ থেকে পুতিনের রাশিয়া ফিনিক্স পাখির মতো উঠে এসেছে এবং পশ্চিমা আধিপত্যবাদী নীতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত চীনের চ্যালেঞ্জ অর্থনৈতিক। কিন্তু রাশিয়ার চ্যালেঞ্জ সামরিকও। সিরিয়া ও ইরানে যে পশ্চিমা আধিপত্যবাদের ইচ্ছাপূরণ হচ্ছে না, তার কারণ রাশিয়া।

সুতরাং এই প্রতিপক্ষের ডানা কেটে ফেলতে হবে। কিন্তু একা এই ডানা কেটে ফেলার অবস্থা এখন আর ব্রিটেন অথবা আমেরিকার নেই। ১৯৫৬ সালের সুয়েজ যুদ্ধে ব্রিটেন যে আর সাম্রাজ্যবাদী শক্তি নয়, তা প্রমাণিত হয়েছিল। এই শক্তি শূন্যতা (Power vaccum) পূরণ করেছিল আমেরিকা। ভিয়েতনাম যুদ্ধে দেখা গেল গণশক্তির কাছে এই নয়া সাম্রাজ্যবাদী শক্তিও পরাজিত। তাই ইউরোপীয় দেশগুলোকে কাছে এনে ন্যাটো গঠন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে দেখা গেছে, যুদ্ধে দেশগুলোকে ধ্বংস করার শক্তি আমেরিকার আছে। কিন্তু জয়ী হওয়ার ক্ষমতা নেই।

গ্লোবাল ক্যাপিটালিজম এখন ঘরে-বাইরে বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে। কিন্তু তার নেতৃস্থানীয় দেশ আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ অনেক ইউরোপীয় দেশেই জাতীয় ঐক্য নেই। জনগণ নানা ইস্যুতে বিভক্ত। সরকারও আগের চেয়ে দুর্বল। জনগণের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে এনে সরকারগুলোর পায়ের তলায় মাটি ফিরিয়ে আনতে না পারলে বর্তমান ক্রমবর্ধিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা যাবে না। ন্যাটো তো ইতিমধ্যেই খোঁড়া অশ্ব বলে প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং পশ্চিমা দেশগুলোর ভেতরে জাতীয় ঐক্য চাই। এই জাতীয় ঐক্যের জন্য একটি বড় শত্রু চাই। যে শত্রুকে মোকাবেলা করার নামে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা যাবে।

গত শতকে কমিউনিস্ট জুজুর ভয় দেখিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, এখন সেই ঐক্য ফিরিয়ে আনার জন্য নতুন জুজু চাই। সেই জুজু পশ্চিমা দেশগুলোই তৈরি করেছে। সেই জুজু হলো বর্তমান রাশিয়া। পুতিন যদি পানি ঘোলা নাও করে থাকেন, তাহলেও রূপকথার গল্পের ছাগশিশুকে ক্ষুধার্ত বাঘ যে কথা বলেছিল, ট্রাম্প ও মে পুতিনকে সে কথাই বলবেন, তুই পানি ঘোলা না করলে তোর বাবা করেছিল।

রাশিয়াকে পশ্চিমা বিশ্বের এক নম্বর শত্রু হিসেবে দাঁড় করিয়ে এবং সাধারণ ব্রিটিশদের মনে রুশ-ফোবিয়া তৈরি করে তেরেসা মে ব্রেক্সিট সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে চান। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সারা গায়ে নির্বাচনকালীন রুশ কানেকশনের কাদা লেগে আছে। তা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য তিনি এখন অতিরিক্ত রুশবিরোধী সেজেছেন এবং ব্রিটেনের চেয়েও এক পা এগিয়ে রাশিয়ার বিরোধিতায় নেমেছেন। ইউরোপে আবার একটি স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা করেছেন; যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে গরম যুদ্ধ শুরু হতে পারে এবং এই যুদ্ধে গোটাবিশ্ব ধ্বংস হতে পারে।

তবে একটাই আশার কথা, এক খেলা দু'বার খেলা চলে না। ইরাকের সাদ্দাম হোসেনকে মহাধ্বংস শক্তির অস্ত্র রাখার মিথ্যা অভিযোগে দায়ী করে একতরফা যুদ্ধে পরাজিত ও হত্যা করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু রাশিয়ার পুতিন সাদ্দাম হোসেন নন। তার হাতে সত্য সত্যই মহাশক্তির মারণাস্ত্র আছে। ব্রিটেনে তিনি বিষাক্ত নার্ভ এজেন্ট ব্যবহার করে পশ্চিমা দেশে আশ্রয় গ্রহণকারী সাবেক রুশ গোয়েন্দাকে তার কন্যাসহ হত্যা করার চেষ্টা করেছে- এই প্রচারণা বিশ্বের মানুষকে গেলানো যাবে না।

তেরেসা মে ও ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমান সংকট থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য বিশ্বময় রুশ জুজুর আতঙ্ক ছড়াতে পারেন; কিন্তু একটি যুদ্ধ বাধানো পর্যন্ত যাবেন কিনা সে সম্পর্কে আমার সন্দেহ আছে। এই পরমাণু অস্ত্রের যুগে বাঘের মতো গর্জন করা সম্ভব, ঝট করে যুদ্ধে নামা সম্ভব নয়। উত্তর কোরিয়া থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাই পিছু হটতে হয়েছে। বর্তমান স্নায়ুযুদ্ধ থেকেও তাকে তার মিত্রদের নিয়ে পিছু হটতে হবে।

লন্ডন, ৬ এপ্রিল শুক্রবার, ২০১৮