চিঠিপত্র

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০১৯      

খালের পাশে গাছ লাগান

সংশ্নিষ্ট বিভাগ ঢাকার কয়েকটি খাল উদ্ধার করলেও ওইসব খাল ভরে গেছে নোংরা-আবর্জনায়। এসব নোংরা-আবর্জনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করার কোনো উদ্যোগই চোখে পড়ছে না। যারা পল্গাস্টিক-পলিথিন-নোংরা আবর্জনা ফেলছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাও হচ্ছে না। যে যেভাবে পারে খালের পাশে ইতিমধ্যে কোথাও কোথাও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে দিয়েছে। দেখলে মনে হয়, অবৈধরাই আজ বৈধ হয়ে খালপাড় থেকে চলাচলকারী পথচারীদের শাসাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ কি পারে না খালগুলো আবর্জনামুক্ত করে এর তীরে বসার ব্যবস্থা করা ছাড়াও গাছ লাগাতে! এ চাওয়া শুধু আমার নয়, প্রতিটি নাগরিকের চাওয়া এবং তাদের অধিকার। গাছপালা থাকলে প্রতিটি মানুষেরই উপকার হবে। কারণ গাছ থেকেই আমরা পাই অক্সিজেন। বেঁচে থাকার জন্য সবারই অক্সিজেন প্রয়োজন। গাছ থাকলে বায়ুতে দূষণের মাত্রা কমিয়ে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে তোলাও সম্ভব। সুতরাং সংশ্নিষ্ট বিভাগ আর কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে ঢাকার রূপনগরের খালসহ অন্য খালগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা নিন, গাছ লাগান, বসার ব্যবস্থা করুন।

লিয়াকত হোসেন খোকন
রূপনগর, ঢাকা

টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

সঠিক ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে দেশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। নীতিগত দিক দিয়ে বিবেচনা করলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো আইন দেশে নেই। রাজধানী ঢাকাসহ পৌর শহরগুলোর মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের হাজার হাজার টন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্পকারখানার বর্জ্য, ইলেকট্রনিক বর্জ্য, চিকিৎসা বর্জ্য, গৃহস্থালি বর্জ্য,পয়ঃবর্জ্য প্রভৃতি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকে এখনই নজর না দিলে এবং সচেতন না হলে এমন একসময় আসবে, যখন প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন হুমকিতে পড়বে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে নগরের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি জড়িত। শহর এলাকার জনসংখ্যা যেমন বেশি, তেমনি বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যের উৎপাদনও বেশি। সিটি  করপোরেশন এলাকার জৈব বর্জ্যকে বায়োগ্যাস ও জৈব সারে রূপান্তর করতে পারলে তা দিয়ে জ্বালানির জোগানসহ জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করা সম্ভব। সীমিত সম্পদের এ দেশে একই জিনিস সম্ভাব্য ক্ষেত্রে বারবার ব্যবহার কিংবা ব্যবহূত জিনিস ফেলে না দিয়ে তা থেকে নতুন জিনিস তৈরি করা যেতে পারে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ভাগাড়ে রাখা হয়। তারপর সেগুলো পরিশোধন বা রিসাইক্লিং করে অন্য প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করা হয়। তাই স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য পরিবেশের কথা চিন্তা করে হলেও আজ কিংবা কাল টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতেই হবে। ফলে সম্পদের পুনরায় ব্যবহারের মাধ্যমে যেমন লাভবান হওয়া যাবে, তেমনি পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিও রোধ করা সম্ভব হবে।

সাধন সরকার
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়