চিঠিপত্র

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

বায়ুদূষণমুক্ত নির্মল ক্যাম্পাস চাই

রাজধানী ঢাকার অন্যান্য স্থানের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও বায়ুদূষণের বিরূপ প্রভাবের শিকার হচ্ছে দিন দিন। হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীসহ অসংখ্য মানুষের পদচারণায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মুখরিত হয়ে থাকে পুরো ক্যাম্পাস; যার ফলে ক্যাম্পাসের চারদিকে খোলা প্যাকেটসহ নানা ধরনের আবর্জনায় পরিবেশ নোংরা হয়। প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায়, নির্ধারিত কর্মচারী দিয়ে যখন ঝাড়ূ দেওয়া হয়, তখন পানি না দিয়ে ঝাড়ূ দেওয়ার ফলে প্রচুর ধুলাবালির মিশ্রণে বাতাস মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। হাইকোর্টের জারিকৃত নির্দেশে বলা হয়েছে, প্রতিদিন যেন পুরো ঢাকা শহরে দু'বার করে পানি ছিটানো হয়। তাই ঢাবি প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, ছাত্রছাত্রীসহ হাজারো মানুষের দিনভর পদচারণার এই প্রিয় ক্যাম্পাসটিতে স্বাস্থ্যসম্মত ও সুন্দর নির্মল পরিবেশ বজায় রাখতে দৈনিক ঝাড়ু দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় স্থানে পানি ছিটানো হোক।

মো. মাহবুবুর রহমান
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বর্ধিত করা হোক আরাকান সড়ক

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থান দক্ষিণ চট্টগ্রামের। আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা, অর্থনৈতিক উৎস ও পর্যটনের অপার সম্ভাবনার অধিকারী দক্ষিণ চট্টগ্রাম। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পর্যটন অঞ্চল রয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মেঘলা, নীলগিরি, নীলাচল, বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত, সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ রয়েছে নানা আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা। প্রকৃতির লীলাভূমি দক্ষিণ চট্টগ্রাম। কিন্তু এই লীলাভূমিকে আচ্ছন্ন করে আছে সড়ক দুর্ঘটনা। এ জন্য জনজীবন ও পর্যটকদের সম্ভাবনা কমছে দিন দিন। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রকৃতির প্রসার ও স্থানীয় অর্থনৈতিক সংকটের মুক্তি। আরাকান সড়কে উত্তরোত্তর সড়ক দুর্ঘটনা আজ জনজীবনকে আচ্ছন্ন করে ফেলছে। একমুখী আরাকান সড়কে প্রতিনিয়ত চলে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও দূরগামী যান। রাস্তার পরিধি যানের অনুপাতে নগণ্য। যানবাহনের আধিক্য, ওভারটেক ও বিপরীতগামী যানকে পাশ কাটিয়ে অতিক্রম করার সময় বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে। এমনও হয়েছে, একদিনে ৩৯ জনের মৃত্যু এই আরাকান সড়কে হয়েছে। যারা অসহায় যাত্রী ও দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা অভিযাত্রী দুর্ঘটনায় মারা যায়, তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় কিনা! তাদের মৃত্যুতে পরিবার অসহায় হয়ে পড়ে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে জনসংখ্যার ঘনত্ব ও যাতায়াতকারী যানবাহনের অনুপাত ও রাস্তার পরিসর বিবেচনা করে সরকারের কাছে এ সমস্যার সমাধান করার আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

এম এস আই সাজিদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নদীগুলো বাঁচিয়ে রাখতে হবে

নদীমাতৃক এই বাংলাদেশ। শাখা-প্রশাখাসহ প্রায় ৮০০ নদ-নদী বিপুল জলরাশি নিয়ে ২৪,১৪০ কিলোমিটার জায়গা দখল করে দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে নদীর সংখ্যা ৪০৫টি। সংস্থাটির মতে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ১০২টি, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১১৫টি, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৮৭টি, উত্তর কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ৬১টি, পূর্ব পাহাড়ি অঞ্চলের ১৬টি এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদী ২৪টি হিসেবে বিভাজন করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদী। ৫৪টি নদীই এসেছে ভারত হয়ে আর তিনটি এসেছে মিয়ানমার থেকে। আমাদের এই নদীগুলোর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। স্বাধীনতার আগে ২৪ হাজার ১৪০ কিলোমিটার নদীপথ ছিল। কমতে কমতে এখন ১০ হাজারে এসে পৌঁছেছে। নাব্যসম্পন্ন নদী রয়েছে মাত্র ২৩০টি। বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৫-৬ হাজার কিলোমিটার এবং শুস্ক মৌসুমে প্রায় ৪-৫ হাজার কিলোমিটার নদীপথ থাকে। দিন দিন আরও কমছে। এ থেকেই বোঝা যায়, বাকি নদী মরে গেছে। নদীগুলো মরে যাওয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে- ১. পানিদূষণ :গরীয় অঞ্চলের ৪৮টি দেশের মধ্যে নদীর পানি সবচেয়ে বেশি দূষিত হচ্ছে বাংলাদেশে। নিরাপত্তার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উলেল্গখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মাটির ওপর ও নিচের দুই ধরনের পানির অবস্থাই খারাপ। তাই বেশিরভাগ নদী মৃত; ২. নদী ভরাট : ভরাট জমিতে নদীর পাড়জুড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ দালানকোঠা, শিল্প প্রতিষ্ঠান। নদীর পাড় দখল করে দেদার চলছে বালু, কাঠ বিক্রির রমরমা ব্যবসা; ৩. বর্জ্য পদার্থ :বিভিন্ন নদীর তীরে রয়েছে জাহাজ ভাঙা ও লঞ্চ-স্টিমার মেরামত শিল্প। জলযানের ভাঙা অংশ, তেল, মবিল, তেল জাতীয় সামগ্রী সরাসরি ফেলা হচ্ছে নদীতে। এসব বর্জ্যে রয়েছে ক্রোমিয়াম, সিসা, সালফিউরিক এসিড। এভাবে বেশিরভাগ নদীই হয়ে পড়েছে বিপন্ন ও অস্তিত্বহীন। এ নদীগুলো রক্ষা না করলে আমরা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হবো।

নুসরাত জাহান বীথি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সেবার নামে ব্যবসা

বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের কোম্পানির গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার জন্য আলাদা আলাদা হেল্‌পলাইন আছে। যেখানে কল করে গ্রাহক তাদের সমস্যার সমাধান করে। বিশেষ করে সিম কোম্পানি ও ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলোর হেল্‌পলাইনে গ্রাহকদের বেশিরভাগ কল করে সেবা নিতে। কিন্তু প্রতি মিনিট সেবার বিনিময়ে প্রায় তিন টাকা কেটে নেওয়া হয়। যেটা অনেক ব্যয়বহুল। সেবার নামে এই লোক ঠকানো ব্যবসা বন্ধের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

জুলফিকার হোসেন
বারিধারা, ঢাকা

শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীর মাসিক পেনশন

সরকার, অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ ও বিধি অনুবিভাগ, প্রবিধি-১ অধিশাখা জারিকৃত ৮ অক্টোবর ২০১৮ এক প্রজ্ঞাপনে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী কর্মচারীদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করণার্থে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পূর্ণ অবসর গ্রহণের তারিখ থেকে ১৫ বছর সময় অতিক্রান্তের পর তাদের পেনশন পুনঃস্থাপন করা হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে গেজেট নোটিফিকেশন হয়েছে। এ মানবিক ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থমন্ত্রীর কাছে আবেদন, যেহেতু সিদ্ধান্তটি একান্তই সামাজিক আর্থিক সুরক্ষা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির নিরিখে করা হয়েছে, সেহেতু পেনশন পুনঃস্থাপনের জন্য ১৫ বছরের স্থলে ১০ বছর করা হোক।

মো. আব্দুস সাত্তার
সাবেক এজিএম,
রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, কুষ্টিয়া