একটা কিছু করতে হবে...

অন্যদৃষ্টি

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

আসিফ আহমেদ

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এ রকম একটি স্লোগান ছিল- একটা কিছু করার আছে ... একটা কিছু করতে হবে। তবে কিছুদিন যেতে না যেতেই স্লোগানটি বদলে যায়- অনেক কিছু করার আছে ... অনেক কিছু করতে হবে।

বাংলাদেশে এখন অনেক কিছু করার আছে। বলা বাহুল্য, এটা কেবল ভালো কাজের প্রশ্নেই বলা। কেউ এটা বলবে না যে, অনেক মন্দ কাজ করার আছে ... অনেক মন্দ কাজ করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে কোনো দেশে কোনো সরকার কিংবা প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তি কখনও বলে না যে, 'আমি বা আমরা এই এই মন্দ কাজ করব।' যে বা যারা এমনকি সর্বক্ষণ কেবল মন্দ চিন্তা করে, তার কিংবা তাদের কাছ থেকেও শোনা যায় ভালো ভালো কথা। একটি কৌতুকধর্মী গল্প আছে এভাবে- এক লোক এতই বদ যে, সর্বক্ষণ শুধু মানুষের ক্ষতির চিন্তা করে। সে ভেবে রাখল, মৃত্যুর পরও আমি যেন মানুষের ক্ষতির কারণ হই, সে ব্যবস্থা করে যাব। তার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে আশপাশের সবাইকে ডেকে এতদিনের ভুল ও ক্ষতিকর কাজের জন্য ক্ষমা চাইল। তারপর বলল, তোমরা ক্ষমা করলেও আমার পাপের শাস্তি হতেই হবে। তার শেষ বাসনা প্রকাশ করল এভাবে- মৃত্যুর পর আমার মরদেহ বাড়ির সামনের মাঠে শূলে চড়িয়ে রাখবে। তাতে কেউ রাজি নয়। সবাই বলে- মৃত্যুর পর আর রাগ পুষে রাখতে নেই। কিন্তু ওই বদ মতলবের লোকটি নাছোড়বান্দা- সবাইকে দিয়ে শপথ করিয়ে ছাড়ল। তার মৃত্যুর পর ওয়াদা পূরণ করা হলো- মরদেহ চড়ল শূলে। এদিকে ওই মন্দ লোকটি তার এক সাগরেদকে আগেই পরবর্তী করণীয় বলে রেখেছিল। সেই সাগরেদ ছুটল থানায় পুলিশের কাছে। সেখানে বলা হলো- দেখে আসুন, কী অপরাধ করা হচ্ছে এক মৃত ব্যক্তির লাশের সঙ্গে। পুলিশ গিয়ে দেখল- একটি মরদেহ শূলে চড়ানো। তারা সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হলো- এ অপরাধে যুক্তদের বেঁধে নেওয়া হলো থানায়। তারপর অনেকের কী যে ভোগান্তি! লাভ কেবল পুলিশের। তারা কোনো বিশেষ তদন্তের প্রয়োজন আছে বলে মনে করল না। ওই মন্দ-দুষ্টু স্বভাবের লোকটি যেভাবে মানুষকে মৃত্যুর পরও যন্ত্রণা দেওয়ার ব্যবস্থা করে রেখে গেছে, সেটা গুরুত্বই পেল না। পুলিশ কেবল তদন্ত সীমাবদ্ধ রাখল নিজেদের কর্মকাণ্ড মরদেহ শূলে চড়ানোর বিষয়টির মধ্যে। তাতে অনেক মানুষের ক্ষতি হলো; কিন্তু তাতে পুলিশের কী!

নিরীহ জনগণ যেন কোনো হয়রানি বা নিপীড়নের শিকার না হয়- সে বিষয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপলক্ষ পুলিশ সপ্তাহ-২০১৯। আমাদের এই জনবহুল দেশে অপরাধীরা যে যা খুশি তাই করতে পারে না- তার পেছনে পুলিশের অবদান অনস্বীকার্য। তারপরও পুলিশ ভুল করে। পুলিশকে ভালো কাজ করার জন্য একটা কিছু করার আছে- এটা বললে চলবে না, বরং অনেক কিছুই করার আছে। এটা কেবল এক বা দুটি অনুষ্ঠানে বার্তা দিলে চলবে না। ভেতর থেকে এ তাগিদ আসতে হবে।

আবার পুলিশও বলতে পারে যে, কেবল আমাদের প্রতি কুনজর ফেললে চলবে না। এই যে জাহালম নামের নিরীহ মানুষটি তিন বছর জেল খাটল, কতভাবে হেনস্তা-অত্যাচার সহ্য করতে হলো তাকে- তাতে আমাদের দায় কোথায়। দুদক বা দুর্নীতি দমন কমিশনকে মানুষ ভয় করতে শুরু করেছে। তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছে। হাসপাতাল-স্কুল-সড়কপথ, কত স্থানে তারা হানা দিচ্ছে। এ জন্য বাহবা পাচ্ছে। কিন্তু তারাই যে 'জাহালম-কেচ্ছার' দায় বহন করছে!