চিঠিপত্র

প্রকাশ: ১৬ মে ২০১৯      

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড

সিঙ্গাপুরে একটা কথা প্রচলিত রয়েছে- যদি অর্থনীতিতে উদীয়মান ব্যাঘ্র হতে চাও, তবে প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ করো। এই কথাটি শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে প্রয়োগ করেছিল বলে আজকে সিঙ্গাপুর এত উন্নত। প্রাথমিক শিক্ষায় আমাদের দেশ অনেক কম বিনিয়োগ করে বলে মানসম্মত বেতন দিয়ে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলস্বরূপ মেধাবীরাও প্রাথমিক শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট হয় না। তারপরও যেসব মেধাবী প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন, তারাও পেশা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ও কর্মরত মেধাবী শিক্ষকদের যথাযোগ্য মূল্যায়ন না করার কারণে আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত মানে উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেকে বাধ্য হয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি বিকল্প পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ, দ্রুত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ১১তম গ্রেড প্রদান করে পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান করা হোক।
মাহফিজুর রহমান মামুন, সহকারী শিক্ষক


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য রক্ষা করুন

ঢাকা শহরের বুকে ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গৌরব ও ঐতিহ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে আছে। একটি জাগ্রত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। পরিতাপের বিষয়, যে বিশ্ববিদ্যালয় অন্যায়-অনাচারের প্রতিবাদের জন্য সর্বজনস্বীকৃত, তা হারিয়ে যাচ্ছে নানা রকম ভুল পরিচালনায়। জালিয়াতি হচ্ছে প্রায় সব সেক্টরে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের তেমন উন্নতি হচ্ছে না। পিছিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের সেরা তালিকায়। ছাত্র রাজনীতি চলছে ভুল পথে। জ্ঞান আহরণের চেয়ে রাজনীতি দলীয় পদকে দেওয়া হচ্ছে বেশি গুরুত্ব। পড়ালেখা হয়ে যাচ্ছে শিটভিত্তিক। কোনো উন্নতি নেই গবেষণা খাতে। চাকরির বাজারকে করা হয়েছে অত্যন্ত জটিল। ফলে শিক্ষার্থীরা গবেষণা রেখে ভবিষ্যতের আশায় ছুটছে চাকরির পিছে। শিক্ষকরা করছেন অর্থের, ক্ষমতার, পদবির রাজনীতি। অথচ যেখানে শিক্ষকদের উচিত ছিল শিক্ষকতার প্রতিযোগিতা, সেখানে হচ্ছে শিক্ষার রাজনীতি। যার ফলে ধ্বংস হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা, ধ্বংস হচ্ছে শিক্ষার্থীরা, ধ্বংস হচ্ছে একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ধ্বংস হচ্ছে একটি জাতি।
নাইমুল হাসান চৌধুরী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ চাই

প্রত্যেকটি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমনকি শিশু-কিশোরদের মানসিকতা বিকাশেও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। পক্ষান্তরে, অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আমাদের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে বাধা সৃষ্টি করে। যার কারণে আমাদের স্বাভাবিক জীবনে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিশুর মানসিক বিকাশও। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় এটাই যে, এই অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্ন, দূষিত পরিবেশের স্রষ্টা আমরা নিজেরাই। নিত্যদিন নানাভাবে পরিবেশকে নোংরা ও দূষিত করে চলেছি আমরা। ডাস্টবিন ব্যবহারে অনীহাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাস্তা বা ফুটপাত যেন ময়লা ফেলার প্রধান স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাসাবাড়ির ওপর থেকে রাস্তায় ময়লাগুলো নিক্ষেপ করতেও দেখা যায়। যেখানে-সেখানে মরা পশুপাখি দেখতে পাওয়া যায়। ফলে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে অসুবিধা, দুর্গন্ধ ও দুর্ভোগ যেন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষের মনোযোগ আকর্ষণ করছি।
আব্দুলল্গাহ মাহমুদ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা