রাহুল গান্ধীর প্রস্থান এবং রাজনীতিতে পারিবারিক উত্তরাধিকার

উপমহাদেশ

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

ইনাম আহমদ চৌধুরী

সন্দেহাতীতভাবে ভারতের বর্তমান প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসপ্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন রাহুল গান্ধী। শুধু পদত্যাগই করেননি; ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের অভাবিত হারের দায়-দায়িত্ব নিজস্ব স্কন্ধে নিয়ে তিনি তার সুচিন্তিত মতামত জানিয়েছেন- নতুন সভাপতি অবিলম্বে নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। এও বলেছেন, তিনি চান নেহরু-গান্ধী পরিবারের কেউ যেন এবার কংগ্রেসপ্রধান নির্বাচিত না হন। এর মধ্য দিয়ে তার মা সোনিয়া গান্ধী ও বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীরও ঈপ্সিত সরকারপ্রধান হওয়ার লক্ষ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বের পদে সমাসীন হওয়ার সম্ভাবনাকে তিনি আপাতত নাকচ করে দিলেন। অর্থাৎ, নয়াদিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে তার পিতা রাজীব গান্ধী, পিতামহী ইন্দিরা গান্ধী এবং ইন্দিরা গান্ধীর পিতা জওহরলাল নেহরুর মধ্য দিয়ে যে 'পারিবারিক ধারাবাহিকতা' তৈরি হয়েছিল, রাহুল গান্ধী তাতে এই প্রথম যতিচিহ্ন টেনে দিলেন।

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশটির রাজনীতিতে এই ধারা 'নেহরু-গান্ধী পরিবার' হিসেবেই খ্যাত। এটা স্মর্তব্য, নেহরুর মধ্য দিয়ে সূচিত এই রাজনৈতিক পরিবারের 'গান্ধী' পদবির সঙ্গে ভারতের জাতির জনক মহাত্মা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর নামে যুক্ত পদবির কোনো পারিবারিক সম্পৃক্ততা নেই; বরং ইন্দিরা গান্ধীর স্বামী ফিরোজ কীভাবে 'গান্ধী' হলেন, তা নিয়ে রয়েছে এক মজার ঘটনা। পারিবারিকভাবে তার পদবি ছিল 'গ্যান্ডি'। ইন্দিরার সঙ্গে বিয়ের সময় আশীর্বাদ করতে গিয়ে মহাত্মা গান্ধী ফিরোজকে একটি 'উপহার' দিতে চান। তা হচ্ছে নিজের পদবি। ফিরোজ ও ইন্দিরা তা শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করেন। ফলে পার্সি বংশোদ্ভূত 'ফিরোজ জেহাঙ্গির গ্যান্ডি' নাম পাল্টে হয়ে যান 'ফিরোজ গান্ধী'। আর বৈবাহিকসূত্রে ইন্দিরা নেহরু হন ইন্দিরা গান্ধী। পদবি যদিও মহাত্মা গান্ধীর কাছ থেকে পাওয়া, ফিরোজ গান্ধী নিজে যদিও সক্রিয় রাজনীতিক ছিলেন; বাস্তবতায় নেহরু-গান্ধী পরিবার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুরই ধারাবাহিকতা। নেহরু থেকে ইন্দিরা হয়ে রাজীব গান্ধী। একই পরিবারের তিনজন ভারতের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। অবশ্য পৃথিবীতে অন্য দেশেরও এ ধরনের পারিবারিক খ্যাতির সার্থক নজির রয়েছে।

যা হোক, কংগ্রেসপ্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর যে সিদ্ধান্ত রাহুল গান্ধী নিয়েছেন, তা বাস্তবভিত্তিক। আমরা দেখছি, এবারের নির্বাচনে কেবল নয়; ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনেও তার নেতৃত্বে ইতিহাসের তিক্ততম পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছিল কংগ্রেস। লোকসভায় নির্বাচনের ৫৪৩টির মধ্যে মাত্র ৪৪ আসন পেয়েছিল। সাম্প্রতিক নির্বাচনেও সব আশা ধূলিসাৎ করে দলটির আসনসংখ্যা সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২। এমনকি রাহুল গান্ধী তাদের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক আসন উত্তরপ্রদেশের আমেথিতেও হেরেছেন। কংগ্রেসের ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত কোনো কোনো রাজ্যে হয়েছে নিদারুণ আশাভঙ্গ। এমতাবস্থায় পরাজিত কংগ্রেসকে সম্পূর্ণ নতুন রূপে ঘুরে দাঁড় করাবার প্রয়োজনে তিনি পদত্যাগকেই সঙ্গত বিবেচনা করেছেন এবং নিজের সিদ্ধান্তে যথাযথভাবে অনড় থেকেছেন।

পদত্যাগপত্রে অবশ্য রাহুল গান্ধী দুটো অতীব গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, 'ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রতি আমার ঘৃণা বা বিরাগ নেই। তবে বিজেপি ভারতে যে ধারণা বা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সহজাত প্রবৃত্তিবশতই আমার দেহের প্রতিটি জীবন্ত কোষ তা প্রতিহত করে চলে।' অর্থাৎ, ভারতীয় সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠার তীব্র বিরোধিতা তিনি দলীয় প্রধানের পদ থেকে বিদায়ের সময়ও করে গেছেন। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনে নিরপেক্ষতার বিষয়টি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। রাহুল গান্ধী বলেছেন, 'আমাদের শুধু একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লড়াই করতে হয়নি, আমাদের লড়াই করতে হয়েছে গোটা ভারতীয় রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গেও।' অর্থাৎ নিরপেক্ষ হিসেবে এযাবৎ নন্দিত নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্নিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকেও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলে ধরেন।

ইস্তফাপত্রে রাহুল গান্ধী আরও উল্লেখ করেন, কংগ্রেসের নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ায়ও তিনি সংশ্নিষ্ট থাকতে চান না। আরও বলেন, 'বিজেপির দ্বিতীয় দফার ক্ষমতায়ন দেশজুড়ে হিংসা ছড়িয়ে দেবে। অভাবনীয় এক অবস্থায় দেশকে নিয়ে যাবে। সেই দুর্দশা আমরা কল্পনাও করতে পারব না। কৃষক, নারী, আদিবাসী, দলিত, সংখ্যালঘু ও কর্মহীন লোকজন সেই হিংসার সবচেয়ে বড় শিকার হবেন।' রাহুল গান্ধী ভারতের আদর্শ ও ঐতিহ্য রক্ষার সংগ্রামে বিজেপিকে মোকাবেলা করার জন্য নতুন নেতৃত্ব স্থির করতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটিকে আহ্বান জানিয়েছেন। দৃশ্যত সে প্রক্রিয়াও শিগগিরই শুরু হবে।

শতাব্দীপ্রাচীন রাজনৈতিক দল কংগ্রেস থেকে রাহুল গান্ধীর আপাত প্রস্থানের মধ্য দিয়ে পারিবারিক উত্তরাধিকার হিসেবে নেতৃত্বপ্রাপ্তির অবসান সূচিত হলো। দক্ষিণ এশিয়ার উপমহাদেশীয় রাজনীতিতেও এর তাৎপর্য কম নয়। ভারতের বাইরে এর প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যেও পারিবারিক উত্তরাধিকারসূত্রে রাজনৈতিক দলের বা সরকারের প্রধান হওয়ার একাধিক নজির রয়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্নেষণ করে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, এর সাফল্য ও ব্যর্থতা ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্নধর্মী হতে পারে- এর মূল্যায়ন ব্যক্তিনির্ভর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা সফল, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ব্যর্থ।

নেহরু-গান্ধী পরিবারের কথাই বলি। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে বা সরাসরি তার পিতার আসনে সমাসীন হননি। পারিবারিক পদবির আনুকূল্য পেলেও আসলে তিনি নিজ গুণে এবং কর্মপ্রচেষ্টায় অর্জন করেছিলেন সাফল্য। আপাতদৃষ্টিতে দেখা যাচ্ছে, রাহুল গান্ধী তার পিতামহীর সেই গুণ অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। শ্রীলংকায় বন্দরনায়েক বংশধারারও সমাপ্তি ঘটেছে। নেপালেও গিরিজা প্রসাদ কৈরালাকন্যা সুজাতা কৈরালা পিতার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেননি। স্বাধীন মিয়ানমারের প্রতিষ্ঠাতা অং সানের কন্যা অং সান সু চি পারিবারিক ঐতিহ্যের আনুকূল্যে যথেষ্ট রাষ্ট্রক্ষমতার অধিকারী হয়েও মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক অধিকার, সুশাসন, এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছেন। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠালগ্নে মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর একমাত্র উত্তরাধিকার দিনা ওয়াদিয়া ভারত ত্যাগ করে পাকিস্তানেই আসেননি। বোন ফাতেমা জিন্নাহ উত্তরাধিকারী হিসেবে নয়, বরং পরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়েছেন। যদিও তিনি সফল হতে পারেননি।

পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের উত্তরাধিকারীরা তো রাজনীতির চৌকাঠেও পা দেননি। বিধবা স্ত্রী রানা লিয়াকত শুধু কিছু অর্পিত কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন। অবশ্য বলা যেতে পারে, জুলফিকার আলি ভুট্টোর কন্যা বেনজির ভুট্টো যথেষ্ট স্বীকৃতি ও সাফল্য অর্জন করেছিলেন। কিন্তু বহুলাংশে তা তার নিজ গুণে এবং নিজস্ব সংগ্রামের মাধ্যমে। তার সন্তান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির বেলায় তা সম্ভব হবে না বলে মনে হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ-তনয়া মরিয়াম নওয়াজ কতটুকু সফল হতে পারেন, তা শুধু ভবিষ্যৎই বলতে পারবে।

বাংলাদেশের উদাহরণ এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক রাজনৈতিক বিশ্নেষণের আলোকে বিশেষ প্রণিধানযোগ্য।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-তনয়া। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধু হলেন সন্দেহাতীতভাবে স্বাধীন বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিষ্ঠাতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। এই সূর্যালোকে উদ্ভাসিত হয়েও শেখ হাসিনা কিন্তু সরাসরি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগপ্রধান বা সরকারপ্রধান হয়ে যাননি। আনুকূল্য দূরে থাক, পরম প্রতিকূলতার মধ্যে অকল্পনীয়ভাবে যুঝে তাকে প্রতি পদে এগোতে হয়েছে। ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম ট্র্যাজেডির পটভূমে সে এক অবিস্মরণীয় সংগ্রাম! অকল্পনীয় অমানবিকতায় সব পরিজন হারিয়ে বিদেশে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের পরে দেশে ফিরে তার সংগ্রামমুখর জীবনের প্রতিটি অর্জনের সন্দেহাতীতভাবে রয়েছে নিজস্ব কৃতিত্ব।

ভারতে নির্বাসিত থাকা অবস্থায় তাকে দলীয় নেতাকর্মীরা সভানেত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। তখন আওয়ামী লীগ ছিল বহুধা বিভক্ত, হতোদ্যম। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আওয়ামী লীগের হাল ধরেছেন। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য সংগ্রাম করেছেন। ব্যক্তিগত প্রাণনাশের হুমকি বা প্রচেষ্টা বা কোনো প্রকার সংকটে হতোদ্যম না হয়ে অকুতোভয় শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের পথে নিজে এগিয়েছেন, দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। চার-চারটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বর্তমানে তিনি দলের পাশাপাশি দেশকেও অগ্রযাত্রার সড়কে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। এর মূল কারণ, শেখ হাসিনা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে দলকে অবিচলিত নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয়েছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের মতো ঘটেনি। সেখানেও পিতার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলে উত্তরাধিকারসূত্রে নেতৃত্ব পেয়েছেন তারেক রহমান। তাও নিজের দল যখন ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু দলীয় সর্বোচ্চ নেতৃত্ব (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) পেলেও রাজনীতির ক্ষেত্রে এযাবৎ সাফল্য অর্জিত হয়নি। বিশেষত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে তার মনোনয়ন ও প্রচারণা কার্যক্রম প্রণয়ন যে ফলপ্রসূ হয়নি, তা এখন সর্বপরিজ্ঞাত। পরবর্তী কর্মকাণ্ডে তিনি দলটিকে কোনো আশার আলো দেখাতে পারছেন না। ক্ষমতায় যাওয়া দূরে থাক। এমনকি বিএনপির শুভানুধ্যায়ী হিসেবে পরিচিত ডা. জাফরুল্লাহ্‌ চৌধুরীর মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিও বলছেন- দলকে সুসংহত করে সুনির্দিষ্টভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুস্পষ্ট চিহ্ন বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বের মধ্যে অনুপস্থিত।

উপসংহারে বলা যেতে পারে, রাজনীতিতে পারিবারিক উত্তরাধিকার আনুকূল্য দিতে পারে। কিন্তু এর সঙ্গে দেয় বিরাট চ্যালেঞ্জও। ক্ষেত্রবিশেষে তাতে অবশ্যই পার্থক্য হয়। পারিবারিক পরিচয়ের সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ভর করছে ব্যক্তিবিশেষের প্রজ্ঞা ও সক্ষমতার ওপর। রাহুল গান্ধী স্পষ্টতই এ ব্যাপারে সাফল্য দেখাতে পারেননি।

কংগ্রেস রাজনীতিতে নেহরু-গান্ধী পরিবারের নেতৃত্বে যতিচিহ্ন দলটির জন্য ভালো না খারাপ হবে, সেটা বুঝতে আরও কিছুদিন লাগবে। আমরা চাই, এ প্রক্রিয়া সেখানকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক হোক। প্রতিবেশী বন্ধু দেশ হিসেবে আশা থাকবে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় সহযোগিতা সর্বক্ষেত্রে অটুট থাকুক; জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকুক। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষমতাসীন দলের বিপরীতে শক্তিশালী বিরোধী দল গড়ে উঠুক। আর সফল চয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কংগ্রেসে যোগ্য নেতৃত্বের আবির্ভাব ঘটুক।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ; সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ প্রাইভেটাইজেশন কমিশন