চিঠিপত্র

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

ভর্তি ফরমের মূল্য কমিয়ে আনুন



সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার ও স্বাচ্ছন্দ্যময় একটি জীবনধারা গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন দেখেন শিক্ষার্থীরা। এইচএসসি পরীক্ষা শেষে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্ন হয়ে ওঠে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নামক সোনার হরিণে নিজের জায়গা করে নেওয়া। যার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ভর্তির জন্য আবেদন করেন তারা। কিন্তু সেই ভর্তি আবেদনের ফরমও কখনও কখনও হয়ে উঠছে অসাধ্য কিছু। কারণ আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই উঠে আসে মধ্যবিত্ত কিংবা অসচ্ছল কোনো পরিবার থেকে। বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই ইউনিটপ্রতি ভর্তি ফি ৫০০ টাকার অধিক। তাই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে অনেক পাবলিক ভার্সিটির ফরম তুলে আবেদন করার প্রাক্কালে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অনেকেই অর্থের অভাবে খুব বেশিসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারছেন না। এতে অনেকেরই স্বপ্ন ভেস্তে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের এই অর্থকে তাদের আয়ের অন্যতম উৎসে পরিণত করেছে। ভর্তিচ্ছুদের কষ্ট লাঘবে অতিদ্রুত ভর্তি ফরমের মূল্য কমিয়ে আনতে সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মাহমুদা তাহিরা

শিক্ষার্থী, কুমিলল্গা বিশ্ববিদ্যালয়



চাকরি স্থায়ী হোক



আমরা ঢাকা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মী। আমাদের কাজ হলো ঢাকাবাসীকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। আমরা জীবনবাজি রেখে রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত, বাসাবাড়ির পরিচ্ছন্নতার কাজ করি। এই কাজ করে অনেক পরিচ্ছন্নকর্মী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ঢাকা সিটি করপোরেশনে দীর্ঘদিন ধরে আমরা অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করলেও আজ অবধি আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়নি। আমাদের মধ্যে অনেকে ৩১ বছর ধরে অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত রয়েছেন। চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য অনেক আবেদন-নিবেদন করেও এই দাবি পূরণ হয়নি। আমাদের বেশিরভাগই বংশানুক্রমে। করপোরেশনের আবর্জনা অপসারণের কাজ করে আসছি। কিন্তু একসময়ের বনে-জঙ্গলে পূর্ণ ঢাকা আজ নানাবিধ নাগরিক সুবিধা নিয়ে তিলোত্তমা রাজধানীতে পরিণত হলেও এই নগরীকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে ভিজে কঠোর পরিশ্রম করি। মাথার ঘাম পায়ে ফেলেও ন্যায্য বেতন পাই না। ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করতে গিয়ে নানা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলেও আমরা সে জন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। ঢাকা সিটি করপোরেশনের অধীনে কর্মরত সাড়ে ৭ হাজার পরিচ্ছন্নকর্মীর মধ্যে আমরা সাড়ে ৪ হাজার পরিচ্ছন্নকর্মী সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছি। আমাদের মাসিক বেতন নির্ধারিত ১৪ হাজার ৩০০ টাকা মাত্র। নেই কোনো ইনক্রিমেন্ট, বোনাস, উৎসবভাতা বা নূ্যনতম চিকিৎসা ভাতাও দেওয়া হয় না। যার ফলে সামান্য বেতন দিয়ে এই দুর্মূল্যের বাজারে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

মোহাম্মদ আলী

উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা