'হাঁকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে'

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

আব্দুল হাই রঞ্জু

ভাওয়াইয়া সম্রাট মরহুম আব্বাসউদ্দীনের 'হাঁকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে' গানটি দেশের মানুষের কাছে অতি পরিচিত। এ ছাড়াও চিলমারী বন্দরের আছে দেশজোড়া খ্যাতি, ব্যবসা-বাণিজ্যের ঐতিহ্য। একসময় চিলমারী বন্দরের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্রের ছিল ভরা যৌবন। ব্রহ্মপুত্র নদের পানির গভীরতা এতই বেশি ছিল, যার বুক চিরে পণ্যবাহী বিদেশি বড় বড় জাহাজের ছিল নির্বিঘ্ন চলাচল। আজ সেসব শুধুই স্মৃতি। এখন আর ব্রহ্মপুত্রের সেই চিরচেনা খরস্রোতা রূপ নেই। অনেকটাই নাব্য হারিয়ে এখন মরা নদের রূপ নিয়েছে। ব্রহ্মপুত্রকে ঘিরে থাকা নদনদীতে নাব্য সংকট আর অসংখ্য চর-ডুবোচরে ৩০টির মতো নৌপথ বন্ধ হওয়ার পথে। ইতোমধ্যে নাব্য সংকটের কারণে কিছু নৌপথ বন্ধ হয়ে গেছে। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও জামালপুর জেলার ব্রহ্মপুত্র নদ-বিচ্ছিন্ন শতাধিক চরের মানুষের যোগাযোগ মূলত নৌপথনির্ভর। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র নদে প্রয়োজনীয় পানির অভাবে নৌপথে যাত্রীবাহী বা পণ্যবাহী নৌযান চলছে ধুঁকে ধুঁকে। অথচ একসময় ব্রহ্মপুত্রে ছিল টইটল্ফু্বর পানি। খরস্রোতা এই নদে চলত বড় বড় নৌকা, লঞ্চ আর জাহাজ। এই ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে পণ্যবাহী বিদেশি জাহাজ নির্বিঘ্নে চলাচল করত। দেখেছি ব্রহ্মপুত্রকে ঘিরে বন্দর হিসেবে খ্যাত চিলমারীর রমরমা বাণিজ্য। বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজ ছাড় করার জন্য ছিল কাস্টমের কর্মতৎপরতা। আজ সেসব শুধু স্মৃতি। কালের বিবর্তনে সবকিছু যেন হারিয়ে গেছে। এখন চিলমারী নামেই বন্দর। নেই বড় বড় নৌযান। এখন আর জাহাজে কোনো পণ্যই আনা-নেওয়া হয় না। ফলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষেরও প্রয়োজন পড়ে না। নাব্য সংকটে নির্বিঘ্নে ছোট ছোট লঞ্চের এখন চলাচল করার মতো তেমন সুযোগ নেই। অথচ চিলমারী হয়ে নৌপথে প্রতিবেশী ভারতে পণ্য আনা-নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ থাকার পরও সরকারি উদ্যোগ কিংবা পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় এই নৌরুটটি অনেক আগেই বন্ধ হয়েছে। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রাম সফরে এসে চিলমারী নৌবন্দরকে পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান চিলমারী সফরে এসে নৌবন্দরের কাজের উদ্বোধন করলেও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে নৌবন্দরের কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি। গত ২২ নভেম্বর নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী চিলমারী বন্দর পরিদর্শনকালে বলেন, চিলমারী নৌবন্দর বাস্তবায়নে প্রায় ৩শ' কোটি টাকার প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, খুব দ্রুততর সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব চিলমারী নৌবন্দরটি বাস্তবায়ন করা হবে। চিলমারী বন্দরে মালপত্র ওঠানামার জন্য একটি বন্দর এবং যাত্রী ওঠানামার জন্য আরেকটি আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হবে। তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের প্রটোকল চুক্তি রয়েছে এবং ভুটানের সঙ্গে একটি প্রটোকল চুক্তির আলোচনা চলছে। এ জন্য চিলমারী নদীবন্দরে একটি কাস্টমস অফিসের জন্য এনবিআরকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা মনে করি, চিলমারী তথা কুড়িগ্রাম জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে চিলমারী নৌবন্দর উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

হ সাবেক ছাত্রনেতা