স্মরণ

বিপ্লবী আবদুর রহমান স্বীকৃতি পাবেন না?

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২০

সৈয়দ সিরাজুল সালেহীন রাহাত

বিপ্লবী আবদুর রহমান স্বীকৃতি পাবেন না?

আবদুর রহমান

ব্রিটিশ পোষিত সামন্তবাদী জমিদারি প্রথাবিরোধী রাজনীতিবিদ, ভাষাসংগ্রামী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আবদুর রহমানের ১১তম প্রয়াণ দিবস আজ। বিপ্লবী এ নেতা ১৩২৬ বঙ্গাব্দের ৭ আশ্বিন কিশোরগঞ্জ জেলার বৈরাগীরচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নিজ গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তির পর ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। ওই বছরেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে তিনি দেশমাতৃকার ডাকে সরাসরি রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন। বিপল্গবী প্রবীর গোস্বামীর কাছ থেকে তিনি রাজনৈতিক দীক্ষা গ্রহণ করেন।

রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই শ্রমিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন আবদুর রহমান। আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন। ওই সময় পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জ্যোতি বসুর সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। ১৯৪৫ সালে ভাওয়াল অঞ্চলে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদে গড়ে ওঠা আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন আবদুর রহমান। গাজীপুরের জয়দেবপুর অঞ্চলে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী কৃষক সমিতি গড়ে তোলেন তিনি। জমিদারদের অত্যাচার ও শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে কৃষকদের সংগঠিত করতে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেন। এসব আন্দোলন-সংগ্রামে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন গাছার সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল হক, তার ভাগ্নে সুন্দর আলী, মোহাম্মদ আলী ও সেকেন্দার আলীসহ অনেকেই।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়ে কারাবরণ করেন আবদুর রহমান। পরে ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সংগঠক হিসেবে মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয় কটিয়াদী এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান যখন কিশোরগঞ্জ মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন, আবদুর রহমান তখন ওই কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

তিনি নব্বইয়ের দশকে মসুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সমাজসেবী, শিক্ষানুরাগী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী বিপ্লবী এই নেতা ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর ৯৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার প্রয়াণে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ হওয়ার নয়। প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারিসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসের আলোচনায় স্মরণ করা হয় আবদুর রহমানের বর্ণাঢ্য সংগ্রামী জীবন। সেসব আলোচনা থেকে আমরা যেমন অনুপ্রেরণা পাই, তেমনি ব্যথিতও হই। কারণ একজন ভাষাসংগ্রামী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হয়েও রাষ্ট্রীয় কোনো স্বীকৃতি পাননি ত্যাগী এই নেতা। দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় ধরে দেশ শাসন করছে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আর সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। সঙ্গত কারণেই এলাকাবাসী ও পরিবারের চাওয়া, জাতীয় নানা আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া আবদুর রহমানকে মরণোত্তর স্বীকৃতি প্রদান করা হোক।

১১তম প্রয়াণ দিবসে বিপ্লবী আবদুর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং সে সঙ্গে প্রত্যাশা করি, রাষ্ট্র তার অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে তাকে সম্মানিত করবে।

সমকালের কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি