আমাদের দেশে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে। প্রবাদটি হলো, 'গেঁয়ো যোগী ভিক পায় না।' এর অর্থ নিজ দেশ, নিজ অঞ্চল বা নিজ দেশের মানুষ যে যতই জ্ঞানী-গুণী হোক না কেন, সে স্বদেশি বা স্বজাতির কাছে কদর পায় না। গ্রিসের মহাকবি হোমার সম্পর্কে কথিত আছে, হোমার ছিলেন চারণকবি। তিনি তার রচিত গান গেয়ে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ঘুরে বেড়াতেন। গান গাওয়ার জন্য তিনি শ্রোতাদের কাছ থেকে দু-চার পয়সা সম্মানী হিসেবে পেতেন। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ছিল খুবই নগণ্য। এভাবেই হোমার দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন কাটাতেন। হোমারের মৃত্যুর পর গ্রিসের সাতটি রাজ্য দাবি করল হোমার তাদেরই রাজ্যের বাসিন্দা। প্রাচীন গ্রিস সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে, তারা জানেন গ্রিস একসময় বেশ কিছু নগর রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল। চারণকবি হোমার এসব রাষ্ট্রের মধ্যেই গান গেয়ে বেড়াতেন। এক ইংরেজ কবি হোমারের মৃত্যুর পর বিভিন্ন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হোমারকে নিজ নিজ রাষ্ট্রের নাগরিক দাবি করায় লিখেছিলেন, 'সেভেন কান্ট্রিস ক্লেইমড দ্য পয়েট ডেড,/থ্রু সুইচ দ্য পয়েট বেগড হিজ ব্রেড।' অনেক সময় আমরা এমনটি হতে দেখি। আমরা আমাদের দেশের জ্ঞানী-গুণী মানুষকে যথার্থ মর্যাদা এবং সম্মান দিই না। তাদের আদেশ-উপদেশ-অনুজ্ঞাকেও কোনোরকম গুরুত্ব দিই না। অথচ তারা দেশটিকে ভালো করে চেনেন। কারণ, এ দেশেই তাদের জন্ম।

কোনো বিদেশি যদি আমাদের কী করতে হবে তা বলে দেন, তাহলে আমরা আমাদের দেশে জ্ঞানী মানুষদের কথার চেয়ে বিদেশি ব্যক্তির কথাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিই। পাকিস্তান আমলে হার্ভার্ড অ্যাডভাইজরি গ্রুপ নামে একদল অর্থনীতিবিদ পাকিস্তান সরকারের অর্থনৈতিক নীতি সম্পর্কে পরামর্শ দিতেন। তারা একাডেমিক বিবেচনায় বেশ ভালো মানেরই ছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান নামের দেশটিকে কতটুকু চিনতেন? ফলে তাদের পরামর্শে গৃহীত পরিকল্পনা দেশের জন্য অনেক সমস্যার সৃষ্টি করেছিল। তারা করাচিতে অবস্থিত পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন।

দেশি অর্থনীতিবিদদের ধ্যান-ধারণা তাদের চিন্তাভাবনাকে কিছুটা প্রভাবিত করেছিল। ওই সময় পাকিস্তানকে মিরাকল অব ডেভেলপমেন্ট বলে অভিহিত করা হতো। এ কথা সত্য, সেই সময় পাকিস্তানে বেশ কিছু শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছিল। এসব শিল্পকারখানার মালিকরা দেশীয় বাজারে মনোপলি অবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শিল্পমালিকরা হলেন- আদমজী, ইস্পাহানি, দাউদ, সায়গল, ওয়াজির আলী, রেঙ্গুনওয়ালা, ঝুনঝুনওয়ালা, দাদা প্রমুখ। তারা পাকিস্তান সরকারের বাণিজ্যনীতির বদৌলতে বিদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা থেকে মুক্ত ছিলেন। কারণ বিদেশি পণ্যের ওপর সরকার উচ্চহারে শুল্ক্ক আরোপ করেছিল। তারা বৈদেশিক মুদ্রা পেতেন হ্রাসকৃত অর্থে। অন্যদিকে বোনাস ভাউচারের বদৌলতে রপ্তানির মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার জন্য তারা বাজার বিনিময় হারের তুলনায় দেড় গুণ পাকিস্তানি টাকা পেতেন। দেশের বাজার তাদের জন্য স্বর্গরাজ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যারা শিল্পকারখানার মালিক ছিলেন, তারা ব্যাংক ও বীমা ব্যবসারও মালিক হয়ে দাঁড়ালেন। যখন শিল্পমালিকরা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোরও মালিক হয়ে বসেন, তখন পাহাড়সম অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানে ২২ পরিবারের হাতে ধনসম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়ার ফলে তীব্র শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টি হয়। ফলে সামাজিক অসন্তোষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। শ্রেণিতে শ্রেণিতে বৈষম্য এবং আঞ্চলিক বৈষম্য পাকিস্তানের ধস ডেকে আনে। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এসব বৈষম্যের বিরুদ্ধে গণবিস্ম্ফোরণ হয়েছিল।

 দেশি-বিদেশি পরামর্শক ও জ্ঞানী-গুণীর মধ্যে যে পার্থক্য সৃষ্টি করা হয়, সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিলাম। ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান ডক্টর মাহবুবুল হককে তার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। মাহবুবুল হক বিশ্বাস করতেন, ধনী লোকদের আয় বেশি থাকার ফলে তারা বেশি পরিমাণে সঞ্চয় করতে সক্ষম। অন্যদিকে গরিবদের পক্ষে সঞ্চয় করা সম্ভব হয় না। সঞ্চয় না থাকলে বিনিয়োগও সম্ভব হয় না। বিনিয়োগ না হলে উন্নয়নও সম্ভব হয় না। এই যুক্তিতে ড. মাহবুবুল হক বিশ্বাস করতেন অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৈষম্য অনেকটা অপরিহার্য। অথচ এই মাহবুবুল হকই ১৯৬৮ সালে হিসাব-নিকাশ করে দেখিয়ে দিলেন কীভাবে পাকিস্তানের ২২ পরিবারের হাতে সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়েছে। এর ফলে ব্যাপক হইচই পড়ে গেল। আইয়ুব খান খুবই বেকায়দায় পড়ে গেলেন। এই ড. মাহবুবুল হকই পরবর্তীকালে উন্নয়ন পরিমাপ করার জন্য হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স (এইচডিআই) বা মানব উন্নয়ন সূচক তৈরি করেছেন। ড. মাহবুবুল হকের ধনিক শ্রেণিবান্ধব উন্নয়ন নীতি তার পাকিস্তান :দ্য স্ট্র্যাটেজি অব ডেভেলপমেন্ট গ্রন্থে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। এই গ্রন্থটি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস প্রকাশ করেছিল। ছাত্রজীবনে আমাদের এই বইটি পড়তে হতো। যে ড. মাহবুবুল হক ধনিক শ্রেণিবান্ধব উন্নয়ন কৌশলের পক্ষে ওকালতি করেছিলেন, তিনিই পরবর্তীকালে মানব উন্নয়ন সূচক তৈরি করে উন্নয়নে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের গুরুত্বকে তুলে ধরেছিলেন।

অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসুকে আমরা চিনি। তিনি ভারতের নাগরিক। আবার পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের করনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। অর্থনীতিবিদ হিসেবে তিনি যথেষ্ট নাম করেছেন। তিনি বিশ্বব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্টও ছিলেন। তার একাডেমিক অবদান বিশাল। তিনি তার অর্থনীতিবিষয়ক তাত্ত্বিক রচনায় গাণিতিক উপস্থাপনার আশ্রয় নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু অনেক সময় একটি সাধারণ বাস্তব সমস্যার দৃষ্টান্ত দিয়ে আলোচনার সূচনা ঘটান। জমির বাজারের ওপর তার লেখা একটি প্রবন্ধে তিনি দেখিয়েছেন- সাধারণ পণ্যের তুলনায় জমির বাজার তুলনামূলকভাবে খুবই নিশ্চল। গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন তো দূরের কথা, বছরে দু-চারবার কোনো জমির প্লট বিক্রি হয় কিনা সন্দেহ। গ্রামের মানুষ খুব সহজে জমি বিক্রি করতে চায় না। জমির বাজার-সংক্রান্ত প্রবন্ধটি তিনি শুরু করেছিলেন এভাবে- 'গ্রামের একজন কৃষককে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কৃষক তার জমির টুকরোটি বিক্রি করবেন কিনা। জবাবে কৃষক জানালেন, না করব না। তারপর তিনি বললেন, যদি চার গুণ দাম দেওয়া হয় তাহলে তিনি জমিটি বিক্রি করবেন কিনা। কৃষক আবারও জানালেন, কিছুতেই না। কারণ জানতে চাইলে কৃষক জানালেন, এমন এক টুকরো জমি আমি এই গ্রামে কিংবা আশপাশে কোথাও পাব না।' এরকম একটি সাধারণ সমস্যাকে তিনি যখন গাণিতিক রূপ দিয়ে ব্যাখ্যা করলেন তখন এটি হয়ে উঠল জমির বাজারের একটি মডেল। অবশ্য মডেলটি অনুন্নত দরিদ্র দেশের জন্য প্রযোজ্য। বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য হলো, এদেশে কৌশিক বসুর মতো প্রতিভাবান অর্থনীতিবিদ যে নেই তা নয়; কিন্তু তারা একাডেমিক ক্ষেত্রে অবদান রাখার চাইতে আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাকরি অথবা কনসালট্যান্সি করায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ভারতীয় অর্থনীতিবিদরা এসব করেন না তা নয়, তারা নানারকম বাছবিচার করে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান।

কৌশিক বসু তার সাম্প্রতিক একটি লেখার শিরোনাম করেছেন- 'বিশ্বের জন্য মহামারি-পরবর্তী ভয়াবহ সময় অপেক্ষা করছে।' এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত তার একটি প্রবন্ধের বাংলা অনুবাদ। তিনি লিখেছেন, ''বর্তমান বিশ্ব আজ কভিড-১৯ মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে স্থবির। বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার অঞ্চলগুলোকে কভিডের আরেক দফা তরঙ্গ প্রায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ব বিশেষত এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা কভিড-১৯ মহামারির দ্বিতীয় আঘাত সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। তবে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য সংকটের দিকে অনেক বেশি দৃষ্টি নিমগ্ন করে আমরা মহামারি সম্পর্কিত অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো উপেক্ষা করার ঝুঁকি নিচ্ছি, যা কভিডের প্রভাব কমার পর উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। বৈশ্বিকভাবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এরই মধ্যে 'মহাবিচ্যুতি' সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করে দিয়েছে। বিশেষ করে ধনী দেশগুলো শক্তিশালী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করতে পারলেও বাকিরা হোঁচট খাচ্ছে বার বার। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অর্থনীতি, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং হাতেগোনা কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশ, যেমন- ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশ সম্ভবত সংকট থেকে বেরিয়ে আসছে এবং মহামারি শুরুর আগে তারা যে ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, তার চেয়েও দ্রুতগতিতে অগ্রসর হতে পারে। তবে উদীয়মান অনেক অর্থনীতি এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলোর অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। অর্থনীতির মহাবিচ্যুতিগুলোও দৃশ্যমান। মহামারির কারণে হোটেল, ভ্রমণ, পর্যটন খাতের অবস্থা নাজুক হয়েছে, বিপরীতে ওষুধ শিল্প, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি শিল্পের প্রসার ঘটেছে। এ অবস্থায় অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, অনেক ধনিক শ্রেণি, বিশেষ করে যারা ইক্যুইটি মার্কেট পরিচালনায় দক্ষ তারা কভিড-১৯ সংকট পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে কাটিয়ে উঠেছে। বিপরীতে দরিদ্র শ্রেণির মানুষ মহামারির কশাঘাতে বিপন্ন হয়ে পড়েছে। আর এখানেই প্রকৃত বিপদ নিহিত। মহামারি দরিদ্রদের মতো ধনীদেরও সমান ঝুঁকিতে ফেলেছে। তবে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বর্তমানে যে ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা সেখানকার ধনীদের প্রভাবিত না করলেও কিংবা বিষয়টি তেমন গায়ে না মাখা হলেও খুব বেশিদিন তা উপেক্ষা করা সম্ভব হবে না। এটা নিশ্চিত যে, সমস্যার সূচনা চূড়া থেকেই শুরু হয়। উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর ঋণের বোঝা বাড়ছে। জিম্বাবুয়ে কিংবা আর্জেন্টিনা এরই মধ্যে ঋণখেলাপি দেশে পরিণত হয়েছে।''

প্রফেসর কৌশিক বসুর আশঙ্কার সঙ্গে একমত পোষণ করি। এর আগে আমি লিখেছিলাম, বিশ্ব ১৯৩০-এর মতো মহামন্দার মুখোমুখি। কভিড-১৯ মহামারিকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখা যায় না। দুটি ঢেউ চলে গেলেও তৃতীয়টি এখন আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। এই ঢেউ আগের তুলনায় অনেক বেশি বিপজ্জনক হতে পারে এর সংক্রমণ এবং প্রাণহরণ শক্তির জোরে। প্রফেসর কৌশিক বসু বাংলাদেশ সম্পর্কে যে আশাবাদ পোষণ করেছেন তা সম্ভবত প্রশ্নবিদ্ধ তথ্য থেকে উদ্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশে যারা খোঁজ-খবর রাখেন তারা জানেন এখানে পরিসংখ্যান পাল্টে দিয়ে জনগণের সামনে ঝলমলে দৃশ্য হাজির করার অপসংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। সব প্রতিষ্ঠানের মতো পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওপরেও সরকারি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়। বাংলাদেশের একটি প্রধান দৈনিক ১৫ জুন, ২০২১ একটি সংবাদ পরিবেশন করেছে। তাতে বলা হয়েছে ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষ হওয়ার এক বছরেও ওই অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার এখনও নিরূপণ করতে পারেনি সরকার। অবশ্য বছরখানেক আগে পাঁচ দশমিক দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের একটা সাময়িক হিসাব দিয়েছিল বিবিএস। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৪ জুন জাতীয় সংসদে সেটিই উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তিনি বলেননি এই হিসাবটি সাময়িক। বাজেট পেশের আগে মে মাসে এবং তারও আগে এপ্রিল মাসে দুই দফায় এ ব্যাপারে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের কাছে জানতে চাইলে তিনি অনির্দিষ্টভাবে মন্তব্য করেন, 'কয়েকদিনের মধ্যেই জানা যাবে।' বিবিএসের ডিজি তাজুল ইসলাম উল্লিখিত সংবাদপত্রটিকে বলেছেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির হার বিবিএস নির্ণয় করেনি। তার ভাষায় এখনও হয়নি। কবে নাগাদ হতে পারে জানতে চাইলে তিনি জানান, 'এখনও বলা যাচ্ছে না। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি।' অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিবিএসের সূত্রগুলো পত্রিকাটিকে জানিয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি অর্জনের হার চার শতাংশের মতো হবে। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে যেখানে হিসাব করার কাজটি বিবিএস করছে সেখানে 'অনুমোদন' কথাটি কীভাবে আসছে? বিবিএস নিশ্চয়ই ভুল পদ্ধতিতে কাজ করবে না। তার করা কাজটিকে অনুমোদন দেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ মাত্র। এখানে পরিবর্তনের সুযোগ নেই। যদি অনুমোদন প্রদানকারীদের কেউ সঠিকভাবে ত্রুটি চিহ্নিত করতে পারেন, তাহলে অবশ্য পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী হবে। যতদূর বুঝি অনুমোদন প্রদানকারীরা কেউ পরিসংখ্যানবিদ নন। হলে অবশ্য ভিন্ন কথা।

বাংলাদেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বেশকিছু ক্ষেত্রে শনাক্ত হয়েছে। অন্তত দুটি ক্ষেত্রে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের খবরও পাওয়া গেছে। এর একটি ঢাকায় এবং অন্যটি চট্টগ্রামে। সুতরাং আমরা খুব নাজুক অবস্থার মধ্যে আছি। কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া গত ১৫ মাস ধরে দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ। যেসব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলা হয়েছে সেগুলো অনলাইনে পাঠদান করছে। মুখোমুখি পাঠদান এখনও অনলাইনে পাঠদানের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকার নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় অর্থনীতির জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, সে ব্যাপারে মনে হচ্ছে আমরা উদাসীন। এখন প্রয়োজন কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জাতীয় প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ। তবে এই বিশ্বায়নের যুগে কোনো একক দেশের অথবা কোনো সুনির্দিষ্ট অঞ্চলের বিশেষ প্রয়াস কতটুকু ফলপ্রসূ হবে সে ব্যাপারে আশার কথা শোনানো সত্যিই কঠিন। প্রফেসর কৌশিক বসু অত্যন্ত সঠিকভাবে তার লেখায় বিশ্ববাসীকে হুঁশিয়ার করেছেন।

অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

বিষয় : কভিড-১৯ ড. মাহবুব উল্লাহ

মন্তব্য করুন